আসন্ন জাতীয় সংসদেও আধিপত্য থাকছে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের। ত্রয়োদশ সংসদের ২৯৭টি আসনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নির্বাচিতদের মধ্যে ১৭৪ জনই ব্যবসায়ী প্রতিনিধি। অর্থাৎ, ৫৯ শতাংশ ব্যবসায়ী সদস্য ত্রয়োদশ সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবেন। ফলে নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর’ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রভাব বাড়লে ব্যবসা ও রাজনীতি একাকার হয়ে যায়। তখন নীতি ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব বেড়ে যায়। সরকারি ক্রয় খাত রাজনৈতিক প্রভাবের আওতায় চলে আসে এবং প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসা পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’
বিজ্ঞাপন
গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদের ৩০০ মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত থাকে। আবার দুটি আসনে জয়ী প্রার্থীর ফল প্রকাশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা রয়েছে। যারফলে মোট ২৯৭ আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ফলাফল ও নির্বাচিতদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২৯৭ জন নির্বাচিত সদস্যের মধ্যে ১৭৪ জন নিজেদের মূল পেশা হিসেবে ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। কেউ কেউ একাধিক পেশা লিখলেও প্রথমে যে পেশার নাম দিয়েছেন, সেটিকেই বিশ্লেষণে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
বিএনপির নির্বাচিত ব্যবসায়ী সদস্য ৬৯ শতাংশ
বিশ্লেষণ বলছে, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির ২০৯ জন নির্বাচিত সদস্যের মধ্যে ১৪৫ জনই ব্যবসায়ী, যা দলটির মোট বিজয়ীর ৬৯ শতাংশ।
আরও পড়ুন:
প্রকৌশলী কারা পেলেন সংসদের টিকিট
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৬৮ জনের মধ্যে ২০ জন ব্যবসায়ী, যা তাদের মোট বিজয়ীর ২৯ শতাংশ।
জামায়াতের জোট সঙ্গি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনিসিপি) নির্বাচিত ৬ জন সদস্যের মধ্যে ২ জন ব্যবসায়ী।
আর স্বতন্ত্র হিসেবে জয়ী ৭ জনের মধ্যে পাঁচজন ব্যবসায়ী। অবশ্য স্বতন্ত্রের অধিকাংশই আগে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাত্র ১৮ শতাংশ বিজয়ী প্রার্থী ছিলেন ব্যবসায়ী। তবে ১৯৯১ সালে ওই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ শতাংশে।
এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংসদে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সদস্যদের ৬৭ শতাংশই ছিলেন ব্যবসায়ী।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানের আশঙ্কা, ‘সংসদে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বাড়লে জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ব্যাংক ও আর্থিক খাতে অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ে, কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের প্রবণতাও বাড়তে পারে।’
‘নতুন সরকার এই বাস্তবতায় কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়’, যোগ করেন তিনি।
এএইচ/এএম

