বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

বাবার আসন ধরে রাখতে ভোটযুদ্ধে সন্তানরা

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

Politics
বাবার আসন ধরে রাখতে ভোটযুদ্ধে সন্তানরা। ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে নেমেছেন ১৮শ’র বেশি প্রার্থী। দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্রদের ভিড়ে এবার আলাদা করে নজর কাড়ছেন কিছু প্রার্থী- যারা সাবেক হেভিওয়েট এমপি ও মন্ত্রীদের সন্তান। বাবাদের ছেড়ে যাওয়া আসন ধরে রাখতে কেউ দলীয় প্রতীকে, কেউ আবার স্বতন্ত্র পরিচয়ে লড়াইয়ে নেমেছেন। লক্ষ্য একটাই-দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার রক্ষা। বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তালিকায় এমন ‘রাজনৈতিক উত্তরসূরি’দের উপস্থিতি এবারের নির্বাচনকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা। এমন প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি লড়ছেন বিএনপির হয়ে।

চট্টগ্রামের রাজপথে ‘চৌধুরী ও মীর’ উত্তরসূরি


বিজ্ঞাপন


বন্দরনগরী চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বরাবরই পারিবারিক প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। চট্টগ্রাম-৭ আসনে এবার ধানের শীষ নিয়ে লড়ছেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর এই সন্তান বাবার ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংককে সংহত করতে দিনরাত কাজ করছেন।

অন্যদিকে, চট্টগ্রাম-৫ আসনে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার মীর হেলাল নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে মাঠ গরম করে রেখেছেন। তরুণ প্রজন্মের এই দুই নেতা চট্টগ্রামের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করছেন বলে জানা গেছে।

ঢাকার মাঠে খোকা-সালাহউদ্দিন পুত্র


বিজ্ঞাপন


রাজধানী ঢাকার রাজনীতিতে সাদেক হোসেন খোকার নাম অবিচ্ছেদ্য। ঢাকা-৬ আসনে তার ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন এখন বিএনপির প্রার্থী। মেয়র নির্বাচনে লড়াই করে পরিচিতি পাওয়া ইশরাক এবার সংসদীয় আসনে বাবার জয় পুনারাবৃত্তি করতে মরিয়া।

অন্যদিকে ঢাকা-৪ আসনে সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদের ছেলে তানভীর আহমেদ রবিন রাজনীতির উত্তরাধিকার ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে ইতিমধ্যে সক্ষম হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ফরিদপুরে ‘কামাল ও ওবায়েদ’ লড়াই

ফরিদপুরের রাজনীতিতে দুই নারী নেতৃত্ব এখন আলোচনার কেন্দ্রে। ফরিদপুর-৩ আসনে সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের মেয়ে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এবং ফরিদপুর-২ আসনে সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়েদুর রহমানের মেয়ে শামা ওবায়েদ পারিবারিক রাজনীতির হাল ধরেছেন। দুজনই নিজ নিজ এলাকায় বাবার জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন।

উত্তরে জমিরউদ্দিন-যশোরে তরিকুলপুত্র

পঞ্চগড়-১ আসনে সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের ছেলে মোহাম্মদ নওশাদ জমির আভিজাত্য ও রাজনীতির সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

অন্যদিকে যশোরে তরিকুল ইসলামের অভাব পূরণে মাঠে নেমেছেন তার ছেলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। যশোর-৩ আসনে লড়ছেন সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের বড় ছেলে অমিত। যিনি এরই মধ্যে খুলনা বিভাগে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন।

এছাড়া সাবেক অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা এম সাইফুর রহমানের ছেলে মৌলভীবাজার থেকে লড়ছেন নাসের রহমান। তিনিও ভোটের মাঠে শক্ত অবস্থান তৈরি করছেন বলে জানা গেছে। নাছের রহমান লড়ছেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসন থেকে।

নাটোরে সাড়া ফেলেছেন পটলকন্যা পুতুল

এদিকে সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুলকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। গণসংযোগকালে তিনি এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছেন। বিশেষ করে ওই এলাকার নারীদের মধ্যে তিনি বেশ গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।

অবশ্য এই আসনে বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু স্বতন্ত্র নির্বাচন করছেন। তিনিও ভালোভাবে মাঠ গোছাতে সক্ষম হয়েছেন। যে কারণে পুতুলের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে যাবে জয়ী হওয়া।

সাঈদী পরিবারের ‘পিরোজপুর মিশন’ ও পার্থের ‘ভোলা জয়’

পিরোজপুরের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রয়াত জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর দুই ছেলে এবার দুই ভিন্ন আসনে লড়ছেন। পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী এবং পিরোজপুর-২ আসনে মাসুদ সাঈদী বাবার বিপুল জনপ্রিয়তাকে ভোটে রূপান্তর করতে কাজ করছেন।

অন্যদিকে, ভোলার রাজনীতির চিরচেনা মুখ আন্দালিব রহমান পার্থ (ভোলা-১) এবারো মাঠ কাঁপাচ্ছেন। নাজিউর রহমান মঞ্জুর এই সন্তান ধানের শীষ নয়, বরং নিজের দল বিজেপির হয়ে লড়লেও বিএনপি জোটের পূর্ণ সমর্থন তার রয়েছে।

বিদ্রোহ ও স্বতন্ত্র লড়াই

দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়েও অনেকে পারিবারিক ঐতিহ্য রক্ষায় অনড়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে প্রবীণ নেতা অলি আহাদের মেয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র (হাঁস মার্কা) লড়ছেন। বহিষ্কারের খড়গ মাথায় নিয়েও তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে ‘বাবার যোগ্য মেয়ে’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন।

এছাড়া ঢাকা-১৪ আসনে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। সাবেক এমপি এস এ খালেকের ছেলে এস এ সিদ্দিক সাজু দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন। বিদ্রোহের দায়ে দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও বাবার ব্যক্তিগত ইমেজে তিনি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।

bnpনওগাঁ-৩ আসন (মহাদেবপুর ও বদলগাছী) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী বদলগাছী উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফজলে হুদা বাবুল। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকী। তিনি মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির সদস্য এবং প্রয়াত সাবেক ডেপুটি স্পিকার আখতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে।

পারিবারিকভাবে এলাকায় পারভেজ আরেফিনের একটি শক্ত ভোটব্যাংক রয়েছে। ফলে তিনি স্বতন্ত্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় বিএনপির প্রার্থীর জয়ের সমীকরণ জটিল হয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।

বহিষ্কারেও মাঠ ছাড়েননি চারবারের এমপির ছেলে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থী (স্বতন্ত্র) কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বিএনপি থেকে বহিষ্কারের হুমকিসহ মাঠ ছাড়েননি।

তাপসের বাবা কাজী আনোয়ার হোসেন এ আসনে চারবার এমপি ছিলেন। তার দাবি, বাবার রেখে যাওয়া বিএনপির অগণিত নেতাকর্মী সমর্থকদের দোয়া, ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন।

বিইউ/এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর