ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের বাকি আর মাত্র দুই দিন। প্রচার-প্রচারণা শেষ পর্যায়ে। এবার ভোটগ্রহণের অপেক্ষা। এবারের নির্বাচনে ইসলামি দলগুলোর সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সারাদেশে দুই হাজারের কিছু বেশি প্রার্থী ভোটের লড়াইয়ে রয়েছেন। এর মধ্যে ইসলামি দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।
বিজ্ঞাপন
ইসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী আছেন বিএনপির, ২৮৮টি আসনে। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আছেন ২২৪টি আসনে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আছেন ২৫৩ আসনে। জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী আছেন ১৯২ আসনে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী আছেন ৩২টি আসনে।
অন্য দলগুলোর মধ্যে সিপিবির ৬৫ জন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৩৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪, খেলাফত মজলিসের ২১, গণঅধিকার পরিষদের ৯০, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির ৩০, গণফোরামের ১৯, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ ও নাগরিক ঐক্যের ১১ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রার্থী রয়েছেন ৮ জন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের চারজন্য প্রার্থী রয়েছেন।
তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এবারে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তাদের প্রার্থী আছেন ২২৪টি আসনে। এরপরই রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী, ২৫৩ আসনে। এছাড়াও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩৪, খেলাফত মজলিসের ২১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ৪ জন্য প্রার্থী নির্বাচন করছেন। তরিকত ও মাজারপন্থী দলগুলোর প্রার্থীও রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
স্বাধীনতার পর এর আগে আরও ১২টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচনে ইসলামি দলগুলো এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পায়নি। বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে বিএনপির শরিক হিসেবে জামায়াতে ইসলামী অংশ নেয়। এতে দলটি নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ছাড় পায়। সেটাও পঞ্চাশের কোটায় পৌঁছায়নি। একটা সময় ইসলামী ঐক্যজোট ছিল বিএনপি জোটে। তখনও এই জোটকে খুব বেশি আসনে ছাড় দেয়নি বিএনপি। এর বাইরে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল বিভিন্ন সময় এককভাবে নির্বাচন করেছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে দলটি ৩০০ আসনেই প্রার্থী দিয়েছিল। যদিও ভোটপ্রাপ্তির পরিমাণ ছিল কম। বিগত নির্বাচনগুলোতে সব দলের মিলিয়েও এবারের অর্ধেক প্রার্থী দিতে পারেনি ইসলামি দলগুলো।
চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইসলামি দলগুলোর অনেকটা উত্থান ঘটেছে। আওয়ামী লীগ আমলে কোণঠাসা দলগুলো স্বরূপে ফেরার সুযোগ পায়। এতে গত প্রায় দেড় বছরে জামায়াতসহ প্রতিটি ইসলামি দলই সাংগঠনিকভাবে ব্যাপক শক্তিশালী হয়েছে।
এবারের নির্বাচন সামনে রেখে ইসলামি দলগুলো ‘একবাক্স’ নীতিতে ঐক্যবদ্ধ হয়। অতীতের বৈরিতা ভুলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়। একসঙ্গে তারা টানা কয়েক মাস নানা কর্মসূচিও পালন করে। তবে শেষ মুহূর্তে আসন ভাগাভাগি প্রশ্নে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে বেরিয়ে যায়। এতে ‘একবাক্স’ নীতি অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়ে। ইসলামপন্থীদের ভোট অন্তত তিনটি বাক্সে বিভক্ত হয়ে যায়। ফলে এবার ইসলামি দলগুলোর সামনে যে বিশাল সম্ভাবনা দেখা গিয়েছিল সেটা অনেকটা ম্লান হয়ে গেছে। যদিও ইসলামি দলগুলো আশা করছে, এবারের নির্বাচনে সংসদে তাদের সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্যের উপস্থিতি নিশ্চিত হবে।
টিএই/জেবি

