জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের যে নির্বাচনি ঐক্য হয়েছে তা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি ২৬৮টি আসনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলে জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও দলের মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এই ঘোষণা দেন।
বিজ্ঞাপন
গাজী আতাউর রহমান জানান, তাদের প্রার্থীরা ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তবে দুটি আসনে প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮ জন প্রার্থী এখনো কাজ করছেন। তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের একজনও প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করেন।

ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র বলেন, আমরা ইসলাম প্রতিষ্ঠাকে ইবাদত মনে করে রাজনীতি করি। এজন্য আমাদের নেতাকর্মীদের কোনো হতাশা নেই। আমরা জানি, আমাদের পথচলা হয়ত মসৃণ নাও হতে পারে। ক্ষমতার রাজনীতি আমরা করি না। আমরা নীতি আদর্শের রাজনীতি করি। ১১ দলের জোটে ইনসাফের প্রশ্নে আমরা বৈরিতার শিকার হয়েছি।
মাওলানা গাজী আতাউর রহমান জানান, ২৬৮ আসনের বাইরে বাকি ৩২টি আসনেও তারা সমর্থন দেবেন। তবে কাকে সমর্থন দেবেন তা এখনই নির্ধারণ হয়নি। যাদের সঙ্গে নীতি-আদর্শের মিল হবে তাদের সমর্থন দেওয়া হবে। কোনো সিট খালি থাকবে না।
বিজ্ঞাপন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে কয়েক মাস আগে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামি ও সমমনা দল একসঙ্গে পথচলা শুরু করে। নীতি ও আদর্শের প্রশ্নে মোটা দাগে বিরোধ থাকার পরও ইসলামের প্রশ্নে ‘একবাক্স’ নীতি গ্রহণ করে কাছাকাছি আসে চিরবৈরী জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন। বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে একসঙ্গে দলগুলোর নেতারা একমঞ্চে ওঠায় জনসাধারণের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলে। বিএনপির বিপরীতে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে ওঠার প্রত্যাশা ছিল সবার।
তবে আট দলকে অনেকটা পাশ কাটিয়ে এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টিকে জোটে নেওয়া এবং তাদের আসন নিশ্চিত করায় ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয় জামায়াতের। নানা নাটকীয়তার পর গতকাল জামায়াতসহ ১০টি দল একসঙ্গে নির্বাচনি ঐক্য ঘোষণা করে, যেখানে ইসলামী আন্দোলনও থাকবে বলে আশার কথা জানান জোট নেতারা। তবে একদিনের মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে নিজেদের অবস্থান জানিয়ে দিলো চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি।
টিএই/জেবি

