ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জের বিসিক শিল্প পার্কে এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিজ্ঞাপন
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যে মানুষগুলো গত ১৬-১৭ বছর যাবত প্রতিবাদ করেছে— তাদের প্রতিবাদ ছিল অন্যায়ের বিরুদ্ধে, তাদের প্রতিবাদ ছিল বাংলাদেশের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে। এই অধিকারকে যদি ফিরিয়ে আনতে হয়, তাহলে ১২ তারিখে আপনাদের সকলকে সোচ্চার হতে হবে। এদিন যদি আপনারা জবাব দিতে পারেন ধানের শীষে সিল মারার মাধ্যমে, তাহলে সেই স্বৈরাচাররা যারা আপনার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল তারা জবাব পাবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা সবসময় বিএনপি করি যারা আমরা বিশ্বাস করি। আমরা সকল ধর্মের মানুষকে নিয়ে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে সে বাংলাদেশের নাগরিক। আমাদের কাছে ধর্মটা মুখ্য নয়। আমাদের কাছে জাত-পাত মুখ্য নয়। আমাদের কাছে মুখ্য হচ্ছে সেই বাংলাদেশের মানুষ। কাজেই মানুষকে মানুষ হিসেবে আমরা মূল্যায়ন করতে চাই। মানুষকে মানুষের মূল্যায়ন করতে হবে।এবং সেই জন্যই প্রিয় ভাই বোনেরা আমরা যদি দেশে জনগণ শাসন কায়েম করতে পারি, আমরা যদি দেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে পারি, আমরা যদি দেশে জনগণের কাছে জনকল্যাণমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারি তাহলেই সম্ভব দেশ ও জনগণের প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধান করা।
আরও পড়ুন: মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ধানের শীষকে বিজয়ী করতে হবে: সালাহউদ্দিন
বেলা ৩টায় কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের কার্য্ক্রম শুরু হয়। তারেক রহমান বগুড়া থেকে সড়কপথে সিরাজগঞ্জ পৌঁছান সাড়ে তিনটায়।
বিজ্ঞাপন
সমাবেশে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার প্রার্থী যথাক্রমে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এম আকবর আলী, এম এ মুহিত, আইনুল হক, সেলিম রেজা, হাবিবুর রহমান হাবিব, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, হাসান জাফির তুহিন, সেলিম রেজা হাবিব ও ভিপি সামসুল ইসলামকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদেরকে ধানের শীষের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান।
‘দেশ গড়তে সহযোগিতা চাই’
তারেক রহমান বলেন, ‘আজকে সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ এখানে বহু কাজ করার আছে। সেই কাজগুলো করলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, এলাকার উন্নয়ন হবে। আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি ,আমাদের নেতাকর্মীরাসহ বাংলাদেশের মানুষ নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছে স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। এখন আমাদেরকে দেশ গড়তে হবে, সকলকে আমাদের একসাথে এখন কাজ করতে হবে, দেশ গঠন করতে হবে। আছেন নাকি আপনারা দেশ গঠন? আমাদের সঙ্গে আছেন দেশ গঠনে? আলহামদুলিল্লাহ।’
আরও পড়ুন: ফলাফল ছাড়া কোনো পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরবে না: মির্জা আব্বাস
সিরাজগঞ্জ ও পাবনাসহ সারাদেশে নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপন করার মাধ্যমে বেকার সমস্যার সমাধান, এই অঞ্চলে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ে তুলতে, তাঁত শিল্পকে পুনরুজ্জীবন করে তাঁত শিল্পের পণ্যসামগ্রির আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি, এই অঞ্চলে ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন বিএনপি চেয়ারম্যান।
দল বিজয় হলে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ডের মাধ্যমে দেশে নারী ও কৃষকদের সহযোগিতার কথা বলেন তারেক রহমান।
সমাবেশে জেলা সভাপতি রুমানা মাহমুদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুর সঞ্চালনায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নাজমুল হাসানসহ সিরাজগঞ্জ ও পাবনার ধানের শীষের প্রার্থীরা বক্তব্য দেন।
উত্তরাঞ্চলে প্রচারাভিযানের দুই দিনে রাজশাহী, নওগাঁ, বগুড়া, রংপুরে চারটি নির্বাচনী সমাবেশ করেন তারেক রহমান। শেষ দিনে সিরাজগঞ্জের সমাবেশ শেষ করলেন। এখন যাবেন টাঙ্গাইল নির্বাচনি সমাবেশে।
বিইউ/এআর

