বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

ফলাফল ছাড়া কোনো পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরবে না: মির্জা আব্বাস

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ফলাফল ছাড়া কোনো পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরবে না: মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা ৮ আসনের দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, শুনতে পেলাম নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণা করতে নাকি অনেক সময় লাগবে। কেনরে ভাই? নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই ঘণ্টায় রেজাল্ট না দিতে পারলে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা লাগতে পারে।  ১২ ঘণ্টা পার হলেই বুঝবো অসৎ কোনো উদ্দেশ্য আছে। তার মানে শেখ হাসিনা করছেন এক স্টাইলে আর আপনারা করবেন আরেক স্টাইলে। নির্বাচনি ফলাফল ঘোষণার আগে আমাদের কোনো পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরে যাবে না।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব-বায়রা-অ্যাটাব এই তিনটি সংগঠনের সঙ্গে নির্বাচনি মতবিনিময় সভায় মির্জা আব্বাস এসব বলেন। এরপর তিনি ভাসানী গলি থেকে শুরু করে জোনাকী সিনেমা হলের গলি এবং পল্টন থানার উল্টো পাশের গলিতে গণসংযোগ করেন।  


বিজ্ঞাপন


মির্জা আব্বাস বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ হয় নাই। মনে হয় ঢাকা-৮ আসনেই শুধু নির্বাচন হচ্ছে। এখানে এমন কিছু পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায় যাতে সারাদেশের নির্বাচন বানচাল হয়। তারা নানাভাবে উস্কানি দিচ্ছে। আমি ও নেতাকর্মীরা ধৈর্য্য ধারণ করছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে, আল্লাহ আমাকে ধৈর্য্য ধারণ করার ক্ষমতা দিয়েছেন।

উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, আমাকে শুধু সমর্থন দিলেই হবে না। আমার সমর্থক ও কর্মীদের সবার কাছে যেতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে যদি ১০ জন করে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তাহলে আমার কাজে লাগবে। শুধু আমার জয়লাভ বড় কথা নয়, সারাদেশে বিএনপিকে জয়ী হতে হবে।

ধানের শীষের এই প্রার্থী বলেন, আমরা এখন কেমন আছি? হাসিনা চলে যাবার পর যতটুকু ভালো থাকার কথা ছিল আমরা সেই ভালো নেই। শুধু পুলিশী অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোথাও ভালো নেই, স্বস্তিতে নেই। এটি আমাদের দুর্ভাগ্য।

সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এ নির্বাচন। এটি কোনো দান নয়। মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান নয়। অনেকে মনে করে কয়েক দিনের আন্দোলনের ফসল ২০২৪। ১৭ বছর আমরা আন্দোলন করেছি, অগনিত মানুষ শহীদ হয়েছেন, গুম হয়েছেন। আমরা তোমাদের পায়ের মাটি শক্ত করেছি, ফাউন্ডেশন গড়ে তুলেছি, যার পেছনে দেশের মানুষ কাজ করেছে।


বিজ্ঞাপন


আব্বাস বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে সভা-সমাবেশ করতে হয়। কিন্তু নির্বাচন একজন ব্যক্তির সারাজীবনের অর্জিত ভালোকাজ বা ভালো কর্মের সঞ্চয়ের উপর নির্ভরশীল। আমি যখন তরুণ ছিলাম তখন আমার সামনে মঞ্চে বলা হতো উপস্থিত আছেন অমুক বর্ষীয়ান নেতা। আজকে আমার উদ্দেশে বলা হয় বর্ষীয়ান নেতা। অনেকে মনে করে বয়স হয়ে গেছে। কিন্তু আমার যে অভিজ্ঞতা তা তোমাদের নেই। তোমরা আগামীতে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারো।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন এমন কিছু ছেলেপেলে গজিয়েছে যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বুনে গেছেন। সারাদিন শুধু আমাকে বকাবাজি করছেন। আমাকে বকা ছাড়া যেন তাদের অন্যকোন কাজ নেই। তুমিতো সেদিন চাঁদপুর থেকে এসেছো। আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। এলাকার মানুষ আমাকে চিনে। ঢাকা-৮ আসন একটি ব্যবসায়িক এলাকা। এখানকার কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে স্বার্থের প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পারছে। আজকে অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশটাকে বাঁচাতে হবে। আর এরজন্য আন্দোলনের দরকার নেই। ভোট দরকার।  আপনারা সবাই একসঙ্গে কাজ করলে আমি জয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।
 
মির্জা আব্বাস বলেন, কষ্টার্জিত এই ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে হবে। একটি দল নাকি ৪০ লাখ বোরখা বানিয়েছে। অনেকে পুরুষ সেজে ফলস ভোট দিতে পারে। কর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে।

বিইউ/ক.ম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর