বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

আর কোনো বিভক্তি নয়, আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই: ঝিনাইদহে জামায়াত আমির

জেলা প্রতিনিধি, ঝিনাইদহ
প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

শেয়ার করুন:

আর কোনো বিভক্তি নয়, আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই: ঝিনাইদহে জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আর কোনো বিভক্তি নয়, আমরা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ চাই। চব্বিশে যেমন বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, ঠিক তেমনি ছাব্বিশেও ভোটের মাধ্যমে দেশে বিপ্লব ঘটাতে হবে। যদি কেউ রাজনৈতিক লেবাস পরে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তবে তাদের হাতের আঙুল ভেঙে দেওয়া হবে। এ দেশে আর ফ্যাসিবাদ কারও ঘাড়ে ভর করে আসতে দেওয়া হবে না।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের উজির আলী হাইস্কুল মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াতের আমির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঝিনাইদহ-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর।


বিজ্ঞাপন


ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর ঝিনাইদহে নাকি চাঁদার হার বেড়ে গেছে। যারা চাঁদাবাজি করেন, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত। কারণ একজন মানুষ খেটে খেটে টাকা উপার্জন করেন, আর আপনারা তাতে ভাগ বসান। চাঁদাবাজদের ভিক্ষার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি হারাম, কিন্তু ভিক্ষা হারাম নয়।

আরও পড়ুন: ১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বিপ্লব ঘটবে: চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত আমির

ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সিন্ডিকেট করে চাঁদাবাজি করা হতো, এতে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যেত। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদকে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে তাড়ানো হয়েছে। কেউ আবার আসতে চাইলে রুখে দেওয়া হবে। কারণ স্ত্রী তার স্বামী, মা তার সন্তান হারিয়ে জাতির ঘাড়ে চেপে বসা জগদ্দল পাথর সরিয়েছে।

জামায়াতের আমির বলেন, আমরা নিজেরা সম্পদ বৃদ্ধি করব না, বরং ক্ষমতায় গেলে দেশের জনগণের সম্পদ বৃদ্ধি করব। দেশের টাকা যারা চুরি করেছে, তাদের পেটের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে বের করা হবে। দেশে চিরতরে চুরি বন্ধ করা হবে।


বিজ্ঞাপন


Dr._Shafikur_Rahman

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে আমরা বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের অপমানিত করতে চাই না। বরং শিক্ষিত যুবকদের দক্ষতা ও প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন করে গড়ে তুলে মর্যাদার কার্ড হাতে তুলে দিতে চাই। ঝিনাইদহে মেডিকেল কলেজ স্থাপন, উন্নত চিকিৎসাব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগের জন্য রেললাইন স্থাপন এবং জেলার নদী খনন করে বহুমুখী কাজে লাগানোর কথাও বলেন তিনি। জামায়াত ক্ষমতায় এলে উন্নয়নে কোনো বৈষম্য থাকবে না। ইনসাফ কায়েম করে সর্বক্ষণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন তিনি।

জামায়াতের আমির ঝিনাইদহ জেলাকে সবচেয়ে বড় শহিদি দরগাহ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই জেলায় জালিম শাসকদের হাতে সোহানের মতো করুণ যুবকেরা খুন হয়েছে। হত্যার পর তার হাতের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছিল। তিনি খুন হওয়া পরিবারগুলোর পাশে থাকতে চান বলে জানান।

আরও পড়ুন: মামলা বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের কঠোর বার্তা

সমাবেশে জেলা জামায়াতের আমির ও ঝিনাইদহ-২ আসনের প্রার্থী আলী আজম মোহাম্মদ আবু বকর, ঝিনাইদহ-১ আসনের প্রার্থী আবু ছালেহ মো. মতিউর রহমান, ঝিনাইদহ-৩ আসনের প্রার্থী মতিয়ার রহমান এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী আবু তালিবের হাতে দাড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দিয়ে জনগণকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঝিনাইদহে নির্বাচনী জনসভাকে ঘিরে সোমবার গোটা শহর জনারণ্যে পরিণত হয়। দুপুর থেকেই বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন থেকে জামায়াতের কর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে এসে পৌঁছান। অল্প সময়ের মধ্যেই স্কুল মাঠটি কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, রোববার বিকাল থেকেই উজির আলী স্কুল মাঠে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মাঠের আশপাশে রাতভর নজরদারি বাড়ানো হয়। নির্বাচনী সমাবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর