বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি বিপ্লব ঘটবে: চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত আমির

জেলা প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
প্রকাশিত: ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫২ পিএম

শেয়ার করুন:

১২ ফেব্রুয়ারি আরেকটি ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটবে: চুয়াডাঙ্গায় জামায়াত আমির
চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের জনগণ দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে লাল কার্ড দেখিয়ে ব্যালট বিপ্লব ঘটাবে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় চুয়াডাঙ্গা শহরের টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত জনসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।


বিজ্ঞাপন


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কোনো ধরনের চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, মামলাবাজকে আমরা চুয়াডাঙ্গায় প্রশ্রয় দেব না। দেশে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া এবং আধিপত্যবাদী রাজনীতির অবসান ঘটানোর জন্য যেমন ৫ আগস্ট বিপ্লব হয়েছিল, তেমনি ১২ ফেব্রুয়ারি আরও একটি ঐতিহাসিক বিপ্লব হবে।

3

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে ১১ দলের ২২টি হাত একত্র হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশের আপামর জনগণ একত্র হয়েছে। এই ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ দুর্নীতিবাজ, দখলবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখাবে। গণভোটে হ্যাঁ ভোট জিতলে বাংলাদেশ জিতবে, আর  না ভোট জিতলে বাংলাদেশ হেরে যাবে।

নির্বাচনী প্রচারণা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমীর অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে কিছু দল আমাদের মা-বোনদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে, তাঁদের সঙ্গে অমানবিক ও অভদ্র আচরণ করছে। আমাদের কাছে জীবনের চেয়েও মা-বোনদের সম্মান বেশি দামি। এভাবে আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না। বেয়াদবি করলে আগুনের ফুলকি দেখা যাবে।


বিজ্ঞাপন


2

যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের যুবসমাজ আর সেই পুরোনো বস্তাপচা ও ফ্যাসিবাদী রাজনীতি দেখতে চায় না। আবু সাঈদ বুক পেতে গুলি নিয়েছিল, কিন্তু মাথা নত করেনি। এ দেশের যুবকদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।

আরও পড়ুন: মামলা বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জামায়াত আমিরের কঠোর বার্তা

তিনি আরও বলেন, আমরা যুবসমাজের হাতে বেকার ভাতা তুলে দিতে চাই না, সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যুবকদের দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

নারীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “মা-বোনেরা জামায়াতে ইসলামিকে নিরাপদ মনে করছেন বলেই আমাদের ভোট দিতে আগ্রহী হচ্ছেন। সারা দেশে দুর্নীতির আখড়া গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশকে দুর্নীতির সমুদ্রে ডুবিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা দেশকে সেই সমুদ্র থেকে তুলে আনতে চাই।”

3

ক্ষমতায় গেলে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, “আমরা দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশের মালিক সাজতে যাব না, আমরা হবো দেশের সেবক। আমাদের কোনো জনপ্রতিনিধির সম্পদ পাহাড় বানাতে দেব না। প্রতিবছর তাদের ও তাদের স্বজনদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ করতে হবে।”

জেলা জামায়াতের আমীর রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চল পরিচালক মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিগবাতুল্লাহ্, জাগপা’র মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মোল্লা ফারুক এহসান, এবি পার্টির কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ।

এআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর