রোববার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ঢাকা

ভোটের লড়াইয়ে ফিরতে পারবেন কি হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী!

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম

শেয়ার করুন:

hasnat
হাসনাত আবদুল্লাহ ও মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।

কুমিল্লা-৪ আসনে ‘ফাঁকা মাঠে গোল’ দিতে চলেছেন এনসিপির প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ- ঋণ খেলাপি হওয়ার তথ্য গোপনের দায়ে আসনটিতে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার পর এমনটাই বলাবলি করছেন অনেকে।

কিন্তু আসলেই কি এমনটা ঘটবে? ফাঁকা মাঠে গোল দিয়ে সংসদ সদস্য বনে যাবেন তরুণ হাসনাত আবদুল্লাহ? নাকি তার চিন্তা বাড়িয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভোটের লড়াইয়ে ফিরবেন ধানের শীষের প্রার্থী?


বিজ্ঞাপন


তবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর জন্য এই পথটা একটু কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ। কারণ, প্রার্থিতা ফিরে পেতে এখন তাকে যেতে হবে উচ্চ আদালতে। কিন্তু আরপিওর বিধান বলছে, মনোনয়নসংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য হয়।

মনোনয়নপত্র বাতিল ও আপিল খারিজের পর উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ যেকোনো প্রার্থীরই থাকে। মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীও উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। 

তবে এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচনি সময়সূচির মধ্যে ফলাফল না-ও পাওয়া যেতে পারে। কারণ, নির্বাচন কমিশন এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে ও ব্যক্তির প্রতি চরম অন্যায় করেছে—এমন প্রমাণ তুলে ধরতে না পারলে আদালত সাধারণত ইসির সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করেন না।


বিজ্ঞাপন


তারপরও হাল ছাড়ছেন না কুমিল্লা-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। কারণ, ২০০৮ সালে মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশন চূড়ান্তভাবে খারিজ করে দিয়েছিল। পরে তিনি উচ্চ আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান। 

এছাড়া ২০১৮ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অনেক প্রার্থীই আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছিলেন। এমনকি পরপর দুই নির্বাচনে আদালতে আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান ভাইরাল কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলমও।

ফলে মঞ্জুরুল আহসানও তার প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ইসির রায়ের পর তিনি ফেসবুকে লেখেন, ‘প্রিয় দেবীদ্বারবাসী ও আমার দলের নেতাকর্মী ভাইয়েরা, দৃঢ় বিশ্বাস ও ধৈর্য রাখুন। আল্লাহই সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।’ 

বিএনপি প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরাও বলছেন, উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী তিনি। এমনটা যদি হয়, উচ্চ আদালতের রায় যদি মঞ্জুরুল আহসানের পক্ষে যায়, তবে হাসনাত আবদুল্লাহর চিন্তা বাড়িয়ে ভোটের মাঠে ফিরতেও পারেন তিনি।

এর আগে তফসিল ঘোষণার পর দেবীদ্বার উপজেলা নিয়ে গঠিত কুমিল্লা–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন চারবারের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। রিটার্নিং কর্মকর্তার বাছাইয়ে তার মনোনয়নপত্র বৈধতাও পেয়েছিল।

কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। তার অভিযোগ ছিল, বিএনপির প্রার্থী ঋণখেলাপি হওয়ার তথ্য গোপন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। 

হাসনাতের সেই আপিলের ওপর নির্বাচন কমিশনে শুনানি হয় শনিবার (১৭ জানুয়ারি)। এদিন ইসি আপিল মঞ্জুর করে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে। 

এদিকে হাসনাতের মনোনয়পত্র বাতিল চেয়ে পাল্টা আপিল করেছিলেন বিএনপি প্রার্থীও। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি ইসি। ফলে টিকে যায় হাসনাতের মনোনয়ন, বাতিল হয়ে যায় বিএনপি প্রার্থীর।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা–৪ আসনে হাসনাত ছাড়াও প্রার্থী রয়েছেন চারজন। তারা হলেন- ইনসানিয়াত বিপ্লবের ইরফানুল হক সরকার, খেলাফত মজলিসের মজিবুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোফাজ্জল হোসেন।

এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট থেকে নির্বাচন করছে হাসনাতদের দল এনসিপি। ৩০টি আসন দেওয়া হয়েছে তাদের। এর মধ্যে ২৭ আসনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এনসিপি। বাকি তিনটির ঘোষণাও খুব শিগগিরই আসবে।

এএইচ

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর