- ৬০টির বেশি আসনে শতাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী
- হাইকমান্ডের নির্দেশ-বহিষ্কারেও অনড় বিদ্রোহীরা
- দলীয় শৃঙ্খলা ও কৌশল নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
- বিদ্রোহীদের না থামালে ভোটে প্রভাব পড়ার শঙ্কা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি যেন নিজেদের ঘরের আগুনে পুড়ছে। আওয়ামী লীগশূন্য মাঠে নির্ভার থাকা বিএনপিকে সামাল দিতে হচ্ছে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হতে চললেও এখনো ৬০-এর অধিক আসনে শতাধিক প্রার্থী স্বতন্ত্রের ব্যানারে নির্বাচনের মাঠে আছেন।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন আসনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের অসংখ্য নেতা বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে বহিষ্কার ও পদত্যাগের পরও প্রার্থিতা বহাল রেখেছেন তারা। অন্যদিকে বিএনপির হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে বিদ্রোহীদের বসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এখনো খুব একটা সাড়া মেলেনি প্রার্থীদের থেকে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল থেকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী থেকে ময়মনসিংহ- প্রায় সব বিভাগেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে বিদ্রোহী প্রার্থী আছেন। এমন অবস্থায় দলটির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও নির্বাচনি কৌশল নিয়ে ভেতরে-বাইরে প্রশ্ন উঠেছে। শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহীদের নির্বাচন থেকে বিরত না রাখা গেলে নির্বাচনে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যদিও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পাশাপাশি বিএনপির দায়িত্বশীল নেতারা বলছেন, দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক আসনে একজন প্রার্থী নিশ্চিত করা হবে। দলের পক্ষ থেকে স্বতন্ত্র যারা আছেন তাদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে। দলের নির্দেশনা না মানলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।
ইতোমধ্যে দলের সিদ্ধান্ত না মানায় ১০ নেতাকে বিএনপি বহিষ্কার করেছে। আর দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধে ছয়জন নির্বাচন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বড় দল হিসেবে বিএনপি থেকে অনেকেই নির্বাচন করতে চান। কিন্তু দলের বৃহত্তর স্বার্থে ত্যাগ স্বীকারও করতে হবে। একক প্রার্থীর বিষয়ে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা চেষ্টা করছি যাতে সবাই একজোট হয়ে মাঠে নামে দলের প্রার্থীর পক্ষে। অন্যথায় দল বসে থাকবে না। সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে।’
বিএনপির বাইরেও যেসব আসনে প্রার্থী আছেন নেতারা
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল-১: বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন; বিদ্রোহী—ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবহান।
বরিশাল- ৩: বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদিন। এখানে বিদ্রোহী আছেন আব্দুস সাত্তার খান। তার প্রার্থিতা প্রথমে বাতিল হলেও তিনি আপিল করেছেন বলে জানা গেছে।
পটুয়াখালী-৩: জোট- নুরুল হক নুর; বিদ্রোহী হাসান মামুন। ইতোমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনিও কোনোভাবেই নির্বাচনি মাঠ না ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ঝালকাঠি-১: বিএনপির প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামাল। বিদ্রোহী—গোলাম আজম সৈকত। তবে প্রাথমিক বাছাইয়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। পরে আপিল করেছেন বলে জানা গেছে।
কুমিল্লা অঞ্চল
কুমিল্লা-২: বিএনপি-অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া; বিদ্রোহী-এম এ মতিন খান।
কুমিল্লা-৬: বিএনপি-মনিরুল হক চৌধুরী; বিদ্রোহী-হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
কুমিল্লা-৭: বিএনপি-ড. রেদোয়ান আহমেদ; বিদ্রোহী-আতিকুল আলম শাওন।
কুমিল্লা-৯: বিএনপি-আবুল কালাম; বিদ্রোহী—সামিরা আজিম দোলা। বিএনপির হাইকমান্ডের অনুরোধে শুরুতে সামিরা আজিম ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বললেও তিনি পরবর্তী সময়ে আবারও নির্বাচন করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে মাঠে আছেন।
কুমিল্লা-১০: বিএনপি-আবদুল গফুর ভুঁইয়া; বিদ্রোহী-মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়া।
ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী জেলা
মুন্সীগঞ্জ-১: বিএনপি-শেখ মো. আব্দুল্লাহ; বিদ্রোহী-মীর সরাফত আলী সপু, মমিন আলী।
মুন্সীগঞ্জ-৩: বিএনপি-কামরুজ্জামান রতন; বিদ্রোহী-মো. মহিউদ্দিন।
মানিকগঞ্জ-১: বিদ্রোহী-মো. তোজাম্মেল হক।
মানিকগঞ্জ-৩: বিদ্রোহী-আতাউর রহমান আতা। অবশ্য আপিলেও তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঢাকা-১২: জোট-সাইফুল হক; স্বতন্ত্র (বহিষ্কৃত)-সাইফুল আলম নীরব।
ঢাকা-১৪: সানজিদা ইসলাম তুলি, স্বতন্ত্র (বহিষ্কৃত) এস এ সিদ্দিক সাজু।
নারায়ণগঞ্জ-২: বিএনপি-নজরুল ইসলাম আজাদ; বিদ্রোহী—আতাউর রহমান আঙ্গুর।
নারায়ণগঞ্জ-৩: বিএনপি-আজহারুল ইসলাম মান্নান; বিদ্রোহী-মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।
নারায়ণগঞ্জ-৪: বিএনপি সমর্থিত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের-মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী; বিদ্রোহী-শাহ আলম, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। গিয়াস উদ্দিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
খুলনা অঞ্চল
নড়াইল-১: বিএনপি-বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম; বিদ্রোহী-অধ্যাপক বি এম নাগিব হোসেন।
নড়াইল-২: বিএনপি-ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ; স্বতন্ত্র-মো. মনিরুল ইসলাম।
বাগেরহাট-১: বিএনপি-কপিল কৃষ্ণ মণ্ডল, বিদ্রোহী-এম এ এইচ সেলিম, শেখ মাসুদ রানা।
বাগেরহাট-২: বিএনপি-শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন; বিদ্রোহী-এম এ এইচ সেলিম, এম এ সালাম।
বাগেরহাট-৩: বিএনপি-শেখ ফরিদুল ইসলাম; বিদ্রোহী-এম এ এইচ সেলিম।
উত্তরাঞ্চল
কুড়িগ্রাম-১: বিএনপি-সাইফুল ইসলাম রানা; স্বতন্ত্র-ডা. ইউনুস আলী।
নীলফামারী-২: বিএনপি-এ এইচ মো. সাইফুল্লাহ রুবেল; স্বতন্ত্র-আলমগীর সরকার।
দিনাজপুর-১: বিএনপি-মো. মনজরুল ইসলাম; বিদ্রোহী-জাকির হোসেন ধলু।
দিনাজপুর-২:বিএনপি- সাদিক রিয়াজ চৌধুরী; বিদ্রোহী-বজলুর রশিদ, মোজাহারুল ইসলাম।
ঠাকুরগাঁও-২: বিএনপি-ডা. আবদুস সালাম; স্বতন্ত্র-জুলফিকার মর্তুজা চৌধুরী।
গাইবান্ধা-৪: বিদ্রোহী-ফারুক করিম আহমেদ।
গাইবান্ধা-৫: বিদ্রোহী-নাহিদুজ্জামান নিশাদ।
রাজশাহী বিভাগ
রাজশাহী-১: বিদ্রোহী-সুলতানুল ইসলাম তারেক।
রাজশাহী-৪: বিদ্রোহী-ড. জাহিদ দেওয়ান শামীম, রেজাউল করিম টুটুল।
রাজশাহী-৫: বিদ্রোহী-আল মামুন খান।
রাজশাহী-৬: বিদ্রোহী-আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল।
নাটোর-১: বিদ্রোহী-তাইফুল ইসলাম টিপু।
নাটোর-৪: বিদ্রোহী-আবুল কাশেম।
সিরাজগঞ্জ-৩: বিদ্রোহী-খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর।
সিরাজগঞ্জ-৪: বিদ্রোহী-আজাদ হোসেন।
সিরাজগঞ্জ-৫: বিদ্রোহী-গোলাম মওলা খান বাবলু।
সিরাজগঞ্জ-৬: বিদ্রোহী-গোলাম সরোয়ার।
আরও পড়ুন
বড় দলে ‘হারিয়ে যাচ্ছে’ ছোটরা
ময়মনসিংহ বিভাগ
ময়মনসিংহ-১: বিএনপি-সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স; স্বতন্ত্র-সালমান ওমর রুবেল, আব্দুল হামিদ।
ময়মনসিংহ-২: বিএনপি-মোতাহার হোসেন তালুকদার; স্বতন্ত্র-শাহ শহীদ সারোয়ার।
ময়মনসিংহ-৩: বিএনপি-প্রকৌশলী মো. ইকবাল হোসাইন; স্বতন্ত্র-আহম্মেদ তায়েবুর রহমান হিরন।
ময়মনসিংহ-৬: বিএনপি-আকতারুল আলম ফারুক; স্বতন্ত্র-আখতার সুলতানা, তানভীর আহম্মেদ রানা, আব্দুল করিম।
ময়মনসিংহ-৭: বিএনপি-ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন; স্বতন্ত্র-মুহাম্মদ আনোয়ার সাদাত।
ময়মনসিংহ-৮: বিএনপি-লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু; স্বতন্ত্র-শাহ নূরুল কবীর শাহীন।
ময়মনসিংহ-৯: বিএনপি-ইয়াসের খান চৌধুরী; স্বতন্ত্র-হাসিনা খান চৌধুরী, মামুন বিন আব্দুল মান্নান।
ময়মনসিংহ-১০: বিএনপি-আক্তারুজ্জামান বাচ্চু; স্বতন্ত্র-আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান, আল-ফাতাহ মো. আব্দুল হান্নান খান।
ময়মনসিংহ-১১: বিএনপি-ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু; স্বতন্ত্র-মুহাম্মদ মুর্শেদ আলম।
নেত্রকোনা-৩: (বিদ্রোহী) দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া দুলাল।
চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী
চট্টগ্রাম-১: বিদ্রোহী-জিয়াদ আমিন খান।
চট্টগ্রাম-২: বিদ্রোহী-কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার।
চট্টগ্রাম-৩: বিদ্রোহী-বেলায়েত হোসেন।
চট্টগ্রাম-৫: বিদ্রোহী-এস এম ফজলুল হক, শাকিলা ফারজানা।
চট্টগ্রাম-৮: বিদ্রোহী-মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম-৯: বিদ্রোহী-মো. আবুল হাশেম।
চট্টগ্রাম-১২: বিদ্রোহী-গাজী মোহাম্মদ শাহজাহান।
চট্টগ্রাম-১৩: বিদ্রোহী-আলী আব্বাস, লায়ন হেলাল উদ্দিন, মোহাম্মদ হামিদুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম-১৪: বিদ্রোহী-শফিকুল ইসলাম রাহী।
চট্টগ্রাম-১৬: বিদ্রোহী-লেয়াকত আলী।
নোয়াখালী-২: বিএনপি-জয়নুল আবদিন ফারুক; স্বতন্ত্র-কাজী মফিজুর রহমান, আবুল কালাম আজাদ।
নোয়াখালী-৬: বিএনপি-মাহবুবের রহমান শামীম; স্বতন্ত্র—তানভীর উদ্দিন রাজিব, মোহাম্মদ ফজলুল আজিম, শামীমা আজিম।
সিলেট ও পার্শ্ববর্তী এলাকা
সিলেট-৫: জোট-মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক; বিদ্রোহী-মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন)।
সুনামগঞ্জ-৩: বিদ্রোহী-ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
সুনামগঞ্জ-৪: বিদ্রোহী-দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন।
মৌলভীবাজার-৪: বিদ্রোহী-মো. মহসীন মিয়া মধু।
হবিগঞ্জ-১: বিএনপি-ড. রেজা কিবরিয়া; স্বতন্ত্র-শেখ সুজাত মিয়া।
এ পর্যন্ত যারা সরে দাঁড়িয়েছেন
যুগপদ আন্দোলনের শরিকদের ছেড়ে দেয়া ১৭টি আসনের মধ্যে চারটি আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তারা শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়া বেশ কিছু আসনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খানের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন। তিনি জেলা বিএনপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহীদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী।
মাদারীপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী কমিটির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
ভোলা-১ আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন বিএনপি প্রার্থী গোলাম নবী আলমগীর। এ আসনটি জোট শরিক বিজেপি প্রার্থী আন্দালিব রহমান পার্থকে ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান সরে দাঁড়িয়েছেন।তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন।
>> আরও পড়তে পারেন
নোয়াখালী-৫ আসনে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ। একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন তিনি।
তবে এখন পর্যন্ত একাধিক নেতাকে ডেকে তারেক রহমান কথা বলেছেন। অনেকে আশ্বাসও দিয়েছেন। বিএনপির হাইকমান্ডের প্রত্যাশা, মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি বিএনপি সব জায়গায় একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে পারবে।
বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘যেসব জায়গায় একাধিক কিংবা স্বতন্ত্র হিসেবে দলের কোনো নেতা নির্বাচন করছেন তাদের কাছে দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে বরিশাল বিভাগের কয়েক জায়গায় সমস্যা সমাধান হয়েছে। আশা করি প্রত্যাহারের শেষ দিনের মধ্যে কোথাও সমস্যা থাকবে না। যদিও স্বতন্ত্র একাধিক প্রার্থী যেকোনো পরিস্থিতিতে ভোট করার কথা খোদ তারেক রহমানকেও জানিয়ে দিয়েছেন।’
রোববার বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা-৮ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল আলম নীরব ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছি, জমাও দিয়েছি। আমি নির্বাচন করবো। এলাকার জনগণ আমার পাশে আছে। আমার চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে, উনার কাছে দোয়া চেয়েছি, উনি দোয়া করে দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ আমি বিজয়ী হবো।’
এদিকে পটুয়াখালী-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দল বহিষ্কার করায় এখন তাকেও দলের নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার বলার সুযোগ নেই। তিনি শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।
বিইউ/জেবি

