অবশেষে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমোঝতা চূড়ান্ত করেছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। টানা কয়েক দিন ধরে আলোচনা ও দরকষাকষি শেষে গতকাল শনিবার রাতে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে দলগুলো। শীর্ষ নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে অথবা সোমবারের মধ্যেই তা ঘোষণা করা হবে।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত মোট ১১০টি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। তথ্য অনুযায়ী, জামায়াত মোট ১৯০টি আসন নিজেদের জন্য রেখে বাকি আসনগুলো নিয়ে অন্যান্য শরিক দলের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে চায়। এর মধ্যে নিজস্ব জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দলটি ১৭০টি আসন নির্দিষ্ট করেছে, যেগুলোতে কোনোভাবেই অন্য দলকে ছাড় দিতে চায় না। এ ছাড়া আরও ২০টি আসন নিয়ে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। এসব আসনে অন্য দলকে প্রার্থী দিলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলা সম্ভব হবে না—এমন বিবেচনায় ওই ২০টি আসনেও জামায়াত প্রার্থী দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১১ দলের মধ্যে মোটামুটি একটি সমঝোতায় পৌঁছানো গেছে। এতে ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) ৩০টি আসন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টি আসন, খেলাফত মজলিসকে ৭টি আসন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টিকে (এলডিপি) ৪টি আসন, এবি পার্টিকে ৩টি আসন এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) ২টি আসন ছাড় দেওয়ার বিষয়ে জামায়াত সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন ৪০টির বাইরে আরও কয়েকটি আসন দাবি করছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের একাধিক বৈঠক হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন যে অতিরিক্ত আসনগুলো চাচ্ছে, সেগুলোর কয়েকটিতে জামায়াত ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও প্রার্থী রয়েছে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয়তা ও প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই করে ইসলামী আন্দোলনকে আরও কয়েকটি আসনে ছাড় দিতে পারে জামায়াত।
>> আরও পড়তে পারেন
‘হ্যাঁ’ ভোট মানে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান: জামায়াত আমির
এবি পার্টিকে তিনটি আসনে ছাড় দিয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ফেনী-২ আসনে এবং দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া (ফুয়াদ) বরিশাল-৩ আসনে প্রার্থী হয়েছেন। এই দুটি আসনে জামায়াত কোনো প্রার্থী দেয়নি। এ ছাড়া পটুয়াখালী-১ আসনে এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার প্রার্থী হয়েছেন। যদিও এ আসনে জামায়াতের প্রার্থীও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন, তবে আসন সমঝোতা চূড়ান্ত হলে জামায়াতের প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে পারেন।
বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে (বিডিপি) দুটি আসন ছাড় দেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ময়মনসিংহ-৯ আসনে এবং মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম ভোলা-৩ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
>> আরও পড়তে পারেন
বিএনপি জোটে অবিশ্বাস, জামায়াত জোটে ‘বিভক্তি’
বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। এসব দল এক বা দুটি করে আসন পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে যুগপৎ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ঢাকা মেইলকে বলেন, আসন সমোঝতা মোটামুটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজ অথবা আগামীকালকে ঘোষণা করা হবে। ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে।
টিএই/এএস

