জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, শহীদ জিয়ার যে আদর্শিক বিএনপি ছিল, সেই বিএনপি থেকে দলটি ক্রমশ সরে যাচ্ছে। আজ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি কীভাবে এবং কাদের মাধ্যমে হাইজ্যাক হয়ে যাচ্ছে। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনের নগ্ন ভূমিকা সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) শহীদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ‘আজাদী পদযাত্রা’র আগে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
বিজ্ঞাপন
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বিএনপি যদি সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্র রক্ষা করতে চায়, তাহলে প্রশাসনের এই নগ্ন ও পক্ষপাতমূলক আচরণের বিরুদ্ধে তাদেরকেও স্পষ্টভাবে কথা বলতে হবে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন যেভাবে একটি দলকে নিঃশর্তভাবে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে, সেই আচরণ আমাদের গভীরভাবে আহত করছে। এভাবে যদি একটি দলের পক্ষে প্রশাসন দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে এই নির্বাচনের কোনো যৌক্তিকতা থাকে না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসনের যে ভূমিকা আমরা দেখছি, তা আমাদের বিগত তিনটি নির্বাচনের কথা মনে করিয়ে দেয়। অতীতে নেতাকর্মীরা মাঠে নেমে লড়াই-সংগ্রাম করেছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে, রক্তক্ষরণ করেছে। অথচ আজ আবারও আমরা একই ধরনের প্রশাসনিক আচরণ দেখতে পাচ্ছি।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে যদি প্রশাসনের আচরণ একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়, তাহলে এমন নির্বাচন আয়োজনের কোনো প্রয়োজন নেই।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের পর আমরা আশা করেছিলাম প্রশাসনের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই পরিবর্তন আমরা দেখতে পাইনি। বরং প্রশাসনের একটি অংশ যেভাবে একটি দলকে আনকন্ডিশনালি সাপোর্ট দিয়ে যাচ্ছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ও বেদনাদায়ক।
হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিএনপির নেতাকর্মীরা যেভাবে রাজপথে নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, ইলিয়াস আলী থেকে শুরু করে আজকের শহীদ ওসমান হাদি পর্যন্ত যারা শহীদ হয়েছেন— প্রশাসনের এই নগ্ন আচরণ যদি বিএনপি মেনে নেয় বা উপেক্ষা করে, তাহলে তা তাদের রক্তের সঙ্গে অবমাননার শামিল হবে।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র রক্ষা করতে হলে বিএনপিকেও প্রশাসনের এই পক্ষপাতদুষ্ট ও নগ্ন আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে এবং প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
এএইচ/এফএ

