বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫, ঢাকা

‘চাইলেই দেশে আর কেউ ফ‍্যাসিবাদী শাসন ফেরাতে পারবে না’

জেলা প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৫, ০৯:৪২ পিএম

শেয়ার করুন:

loading/img

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হিংসা ও সন্ত্রাসের পুরোনো রাজনীতিকে জনগণ না বলে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

শনিবার (২৯ মার্চ) ফেনীতে নিজ গ্রামের মানুষের সঙ্গে ইফতার মাহফিলে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ফেনী জেলা সদরের শর্শদী ইউনিয়নের শর্শদী স্কুল মাঠে এই গণইফতারের আয়োজন করা হয়।


বিজ্ঞাপন


প্রধান অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে হিংসা ও সন্ত্রাসের পুরোনো রাজনীতিকে জনগণ না বলে দিয়েছে। হয়তো আরও কিছুদিন পুরোনো ধাঁচের রাজনীতির প্রভাব থাকবে কিন্তু ধীরে ধীরে তরুণরা নেতৃত্ব গ্রহণ করলে সেটা পেছনে পড়ে যাবে। কেউ চাইলেই আর এদেশে ফ‍্যাসিবাদী শাসন ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

এতে সভাপতিত্ব করেন শর্শদী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবি পার্টির ফেনী জেলা কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ফজলুল হক ও ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আউয়াল বাবলু।

ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন- ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তারেক ইকবাল মনি, খেলাফত মজলিসের ফেনী জেলা সহসভাপতি মাওলানা ইসমাঈল হায়দার, যুবদল নেতা শাহগীর চৌধুরী, এবি পার্টির বিভাগীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী শাহ আলম বাদল, এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আজিজুর রহমান রিজভী প্রমুখ।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, যারা একসময় মনে করেছিল রাষ্ট্রক্ষমতা মানেই ইচ্ছামতো মানুষকে শোষণ করার সুযোগ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি-দখলস্বত্বের মাধ্যমে অঢেল সম্পদ বানানোর লাইসেন্স! তারা আজ হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করছে ক্ষমতার অপব‍্যবহারের পরিণাম কত ভয়াবহ। ইতিহাসে দুর্নীতিবাজ ও লুটেরাদের করুণ পরিণতির কথা লিখা থাকলেও ক্ষমতা পেলেই সবাই সেটা ভুলে যায়। দুই বড় দলের ক্ষমতার পালাবদলে এত হিংসা হানাহানি ও প্রতিশোধ পাল্টা প্রতিশোধের ধকলে এই দেশের নাগরিকেরা আজ ক্লান্ত। জনগণ এবার তাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এর অবসান ঘটানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।


বিজ্ঞাপন


ফেনীকে ‘সন্ত্রাসের জনপদ’ এর পরিবর্তে বাংলাদেশের মানুষের জন‍্য ‘অনুপ্রেরণা ও উপলব্ধির জনপদ’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, অতীতের সকল ঘটনার সুষ্ঠু ও ন‍্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারলে ফেনীতে প্রতিহিংসার রাজনীতি চিরতরে বন্ধ হবে। গডফাদারদের ইতিহাস ও তাদের পরিণতি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম যখন জানবে তখন তারা উপলব্ধি করতে শিখবে। দলমত নির্বিশেষে ফেনীর সকল তরুণরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ফেনীর রাজনীতিবিদেরাও আর বিভেদের চর্চা করতে পারবে না।

গণইফতারে আরও উপস্থিত ছিলেন- এবি পার্টির ফেনী জেলার আহ্বায়ক মাস্টার আহছান উল্যাহ, এবি পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফলাতুন বাকি, যুগ্ম সদস্য সচিব নজরুল ইসলাম কামরুল, এবি পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহাদাত সাজু, কোষাধ্যক্ষ মাস্টার শাহ আলম শাহীন সুলতানি, জামায়াতের ইউনিয়ন আমির মাওলানা কাজী ফায়জুল্লাহ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুফতি মিনার, এবি পার্টির সমাজকল্যাণ সম্পাদক এবি সিদ্দিক, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক সাংবাদিক হাবীব মিয়াজী, পৌর শাখার আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ সেলিম, সদস্য সচিব অধ্যাপক রিজওয়ানুল খায়ের, ছাত্রপক্ষের নেতা মাজহারুল জয়, এবি যুব পার্টির আহবায়ক পারভেজ, সদস্য সচিব এসএম ইব্রাহিম সোহাগ, কাজী জাহাঙ্গীর, নারী নেত্রী সাহানা আক্তার সানু, হুরে জান্নাত প্রমুখ।

এমআর

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর