রোববার, ২১ এপ্রিল, ২০২৪, ঢাকা

দম নিচ্ছে বিএনপি, মাঠে চায় মিত্ররা

বোরহান উদ্দিন
প্রকাশিত: ১৯ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৯ পিএম

শেয়ার করুন:

দম নিচ্ছে বিএনপি, মাঠে চায় মিত্ররা
ফাইল ছবি
  • অতীত পর্যালোচনা করে মাঠে চায় মিত্ররা
  • শীর্ষ নেতাদের মুক্তির অপেক্ষা
  • শিগগিরই নতুন কর্মসূচির আভাস
  • জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ভাবনা বিএনপিতে

নির্বাচন বর্জনের ডাক দিয়ে টানা আন্দোলন কর্মসূচিতে থাকা বিএনপি কিছুটা বিরতি দিয়ে আবারও মাঠে নামার চিন্তা করছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলটির হাইকমান্ড। কারণ মহাসচিবসহ দলের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা এখনো কারাগারে। অন্যদিকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা চান রাজপথে ফেরার সিদ্ধান্ত আসুক দলের পক্ষ থেকে। আবার বিএনপিকে মাঠে নামতে তাগিদ দিচ্ছেন নির্বাচন বর্জনের ডাকে সাড়া দেওয়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদলগুলোর নেতারাও। অবশ্য এখনই সরকারবিরোধী কঠোর কর্মসূচিতে না যাওয়ার বিষয়ে দলগুলোর নেতারা একমত হয়েছেন। এক্ষেত্রে গণসংযোগ কিংবা জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর মতো কর্মসূচি নিয়েই মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নেতারা।


বিজ্ঞাপন


গত ৭ জানুয়ারি ভোট বর্জন করা বিএনপি এমন বাস্তবতায় সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সিরিজ বৈঠক করছে। বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকে শিগগিরই নতুন কর্মসূচির আভাস পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বৈঠকে অংশ নেওয়া দলগুলোর নেতারা। বৈঠকগুলোতে কর্মসূচি বাস্তবায়নে দলের ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি আগামীর করণীয় নিয়েও আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

আশায় আশায় বছর কাটল বিএনপির

বিএনপি ও শরিক দলের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২৮ অক্টোবরের পর থেকে বিএনপির আর প্রকাশ্যে মাঠে রাজনীতিতে ভালোভাবে দাঁড়াতেই পারেনি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন-পুরনো রাজনৈতিক মামলা, জেল-জুলুমে অধিকাংশ নেতাকর্মী ঘরছাড়া। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। এছাড়া সাজার খড়গ তো আছেই।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিগত ১৫ মাস ধরে আমরা ধারাবাহিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। আমাদের ২৬ হাজার নেতাকর্মী কারাবন্দী। এরপরও আমাদের আন্দোলন চলছে। একটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থেকে আমাদের চলতে হচ্ছে। আমাদের সংগ্রাম এমন একটি সরকারের বিরুদ্ধে, যারা স্বৈরাচারী রূপ নিয়েছে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। আন্দোলন থেমে যায়নি। নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এখন চূড়ান্ত করা হয়নি।’


বিজ্ঞাপন


আরও পড়ুন

অসহযোগের ডাকে সাড়া নেই, কী করবে বিএনপি?

এদিকে নির্বাচনপরবর্তী ধারাবাহিক বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এসব বৈঠকে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতারা মাঠের রাজনীতিতে ফেরার জন্য তাগিদ দেন।

BNP1

জানতে চাইলে ১২ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব শাহাদাৎ হোসেন সেলিম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘বিএনপি যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে। এখন নতুন কর্মসূচি বিএনপিই চূড়ান্ত করবে। আমরা কঠোর কোনো কর্মসূচির জন্য বিএনপিকে পরামর্শ দিইনি। কারণ ২৮ অক্টোবরের পর বহু নেতাকর্মী ঘরছাড়া, কারাগারে আটক রয়েছেন হাজার হাজার। এসব বিবেচনা নিয়ে নতুন কর্মসূচি ঠিক করতে হবে।’

এই নেতা বলেন, ‘সরকারকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, সরকার সংবিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দেশ পরিচালনা করছে। এটা বেশি দিন করতে পারবে না। জনগণ জেগে উঠবেই।’

আরও পড়ুন

‘আত্মগোপন’ থেকে কবে বের হবেন বিএনপি নেতারা?

যুগপৎ আন্দোলনের আরেক শরিক গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যমত নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ঢাকা মেইলকে বলেন, ‘আমরা দলীয়ভাবে, গণতন্ত্র মঞ্চ এবং মঞ্চ থেকে রিভিউ করছি। বিএনপিও রিভিউ করছে। আগামী সপ্তাহে আবারও বিএনপির সঙ্গে বৈঠক আছে। হঠাৎ করেই মারমার কাটকাট কর্মসূচিতে যাওয়া যাবে না। ছোট ছোট কর্মসূচি চলমান রয়েছে। যুগপৎভাবে কর্মসূচি আসবে শিগগিরই।’

এদিকে কঠোর নয়, নরম কর্মসূচির ইঙ্গিত মিলেছে বিএনপির শীর্ষ নেতা আব্দুল মঈন খানের বক্তব্যেও। শুক্রবার দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না আওয়ামী লীগের মতো। আমরা শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী এবং আমরা আমাদের যে কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং এই চলমান কর্মসূচি আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অব্যাহত রাখব এবং এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করব।’

বিইউ/জেবি

ঢাকা মেইলের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর