শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

ফজিলাতুন্নেসার প্রতি কাজী নজরুলের প্রেমপত্র

ড. হাফিজ রহমান
প্রকাশিত: ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

ফজিলাতুন্নেসার প্রতি কাজী নজরুলের প্রেমপত্র

ষষ্ঠ পর্ব

[বিশেষ বিজ্ঞপ্তি: পঞ্চম পর্ব হতে পত্রটি পাঠ করে আসার জন্য সুহৃদ পাঠকগণকে অনুরোধ করছি। কারণ, এই পর্বে গত পর্বের পত্রের অলংকার ও সাহিত্য মান নিয়ে আলোকপাত করা হবে।]

ভাষা ও শৈলীগত (Language and Style) দিক দিয়েও এই পত্রটি ব্যতিক্রমী। পত্রটির ভাষাভঙ্গি চিত্তাকর্ষক। এটি সাধু ভাষার রীতিতে লিখিত পত্র। শব্দ ব্যবহারের দিক দিয়ে তৎকালীন যুগের মার্জিত ও শিষ্ট সাধুভাষার এক চমৎকার উদাহরণ। তবে সাধুভাষার কাঠামোর মধ্যেও নজরুল তার নিজস্ব সাবলীলতা ও কাব্যের ছোঁয়া ধরে রেখেছেন। এখানে তৎসম শব্দের চমৎকার ব্যবহার আছে। যেমন- চিঠিতে ‘আস্পর্ধা’, ‘ধৃষ্টতা’, ‘অযত্ন-লালিতা’, ‘বিদূষী’, ‘পুষ্পাঞ্জলি’র মতো গম্ভীর ও সুন্দর তৎসম শব্দের ব্যবহার বাক্যগুলোকে দারুণ গাম্ভীর্য ও সাহিত্যিক রূপ দিয়েছে। সাধুভাষায় লেখা হলেও চিঠির আবেগ এতই তীব্র যে, তা কোথাও কৃত্রিম বা গুরুগম্ভীর মনে হয় না। ‘দুটো কথায় শুধু কেমন আছেন লিখিয়া জানান’, ‘আমার ইহা বিনা অধিকারের দাবি’-এই বাক্যগুলোতে এক ধরণের মায়াবী ও আন্তরিক সুর ধ্বনিত হয়েছে। নিজের বইগুলোকে বাগানের মওশুমি ফুলের (Season flower) সাথে তুলনা করে কবি যে রূপক তৈরি করেছেন, তা এককথায় অনবদ্য। অনিন্দ্য। এবং প্রেমিকার প্রতি অতিশ্রদ্ধার নিদর্শন। বিদূষী নারী যেভাবে ফুলগাছের যত্ন নেন, ঠিক সেভাবেই কবির বইগুলোকেও স্থান দেবেন, এই আশাবাদ অত্যন্ত কাব্যিক।

পত্রটির  সাহিত্যিক ও ঐতিহাসিক মূল্যমান (Literary and Historical Value) অত্যুল্লেখযোগ্য। তাই বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এই চিঠির মূল্য অপরিসীম। এটি দুজন মানুষের ব্যক্তিগত যোগাযোগের সাথে সাথে একটি যুগেরও দলিল। কারণ, কাজী নজরুলের আসামান্য কাব্যকীর্তি ‘সঞ্চিতা’র উৎসর্গের ইতিহাস এই পত্র থেকে পাওয়া যায়। যতদূর জানা যায়, মিস ফজিলাতুন্নেছা কাজী নজরুলের এই পত্রের জবাব-ই দেননি। আর এই পত্রটি কিছুটা অভিনয়ধর্মী। কারণ, বন্ধু মোতাহের সাহেবের সাথে দু-একদিন যোগাযোগ না হলেই যে, কাজী নজরুল একেবারে পাগল হয়ে যাবেন, বিষয়টি তা নয়; বরং নজরুল ফজিলাতুন্নেসার প্রতি প্রেমে পাগল হয়ে পড়াই, বন্ধু মোতাহেরকে অজুহাত হিসেবে নিয়ে এই পত্রটি লেখেন। ফজিলাতুন্নেসা এই পত্রের জবাব দিয়েছেন, এমন তথ্য পাওয়া যায় না। হয়তো সেই কারণেই, পরবর্তীতে ‘সঞ্চিতা’ শ্রী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে উৎসর্গ করেন কাজী নজরুল।

বস্তুত ফজিলাতুন্নেসার সাথে কাজী নজরুলের ছিলো একপক্ষীয় প্রেম। যেকারণে নজরুল ফজিলাতুন্নেসাকে যে পত্র লিখতে পারেননি। সেই মনোবেদনার অকপট দলিল মোতাহের হোসেন চৌধুরীকে লিখিত পত্রে পাওয়া যায়। তারপরও কবি তার প্রেমিকাকে দিয়েছেন মুসলিম নারী জাগরণের স্বীকৃতি। নজরুল তাকে লিখেছেন, ‘আপনাকে দিয়া বাংলার অন্তত মুসলিম নারী-সমাজের বহু কল্যাণ সাধন হইবে।’যদিও এই ভবিষ্যত বাণীর খুব একটা যথার্থতা মেলেনি। আসলে পত্রটি নজরুলীয় স্বভাব-বৈশিষ্ট্যের আবেগীয় স্মারক। চিঠিতে নজরুলের আবেগপ্রবণতা, অপরকে সম্মান দেওয়ার অকৃপণ মানসিকতা এবং বন্ধুদের প্রতি গভীর ভালোবাসার স্বভাবটি চমৎকারভাবে মূর্ত হয়ে উঠেছে। একই সাথে ‘সওগাত’ পত্রিকার তৎকালীন সাহিত্যিক আবহাওয়াও এখানে প্রতিফলিত।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এই পত্রটি একাধারে গভীর আবেগের প্রকাশ, উচ্চাঙ্গের সাহিত্যিক গদ্যের নিদর্শন এবং বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের মহামূল্যবান উপাদান। কবির বিনয়, শ্রদ্ধা এবং প্রগতিশীল ভাবনার অপূর্ব কোলাজ এই চিঠিটি। এই পত্রটি আগের পত্রের মতো গভীর বিরহময় রোমান্টিক চিঠি নয়; বরং এর মূল সুর উদ্বেগ, শ্রদ্ধা, আন্তরিকতা, মুগ্ধতা ও ক্রমবিকাশমান প্রেমের সূক্ষ্ম প্রকাশ। বাহ্যত এটি একটি খোঁজখবরের চিঠি, কিন্তু অন্তঃসলিলায় প্রবাহিত হচ্ছে সুভীর আবেগ, যা সরাসরি প্রেমের ভাষায় নয়, বরং ভক্তি, শ্রদ্ধা ও যত্নের ভাষায় প্রকাশিত।

পত্রটির প্রধান ভাব চারটি স্তরে গঠিত। শুরুতেই উদ্বিগ্ন হৃদয়ের আকুতি। এক ধরনের অস্থির মানসিক অবস্থার কথা কবি জানাচ্ছেন এভাবে, ‘আজো কোনো উত্তর না পাইয়া ছটফট করিতেছি।’ এখানে ‘ছটফট’ শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল বন্ধুসুলভ উদ্বেগ নয়; এতে গভীর ব্যক্তিগত টান স্পষ্ট। মোতাহার সাহেবের খবর জানতে চাওয়া বাহ্যিক কারণ হলেও প্রকৃত উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু হলেন পত্রপ্রাপিকা নিজে। এখানে কবির প্রেমিকার প্রতি ভয়ার্ত প্রেম অংকুরিত হয়েছে। স্নেহমিশ্রিত শ্রদ্ধা, পুরো চিঠিজুড়ে অস্তিত্বশীল। লেখক এখানে আশ্চর্য ভারসাম্য রক্ষা করেছেন। তিনি একদিকে প্রাপিকার কুশল জানতে ব্যাকুল, অন্যদিকে বারবার নিজের সীমা স্বীকার করছেন। ‘আমার ইহা বিনা অধিকারের দাবি।’

এই বাক্যে প্রেমের সূক্ষ্ম মনস্তত্ত্ব কাজ করেছে। অধিকার নেই, তবুও খোঁজ নিতে ইচ্ছে করে। এই দ্বৈততা প্রেমের প্রাথমিক ও সবচেয়ে সত্য রূপগুলির একটি। কবি নজরুলের সুন্দরী নারী-প্রতিভার প্রতি মুগ্ধতা গবেষকগণ সন্দেহের চোখে দেখেছেন।

এখানে প্রেমিক কেবল রূপে মুগ্ধ নন। তিনি বুদ্ধিমত্তা, প্রতিভা ও সামাজিক সম্ভাবনায় মুগ্ধ। এটি সাধারণ রোমান্টিক আকর্ষণের চেয়ে অনেক উচ্চতর স্তরের অনুভূতি। প্রেমাতুর কবির প্রেমিকার প্রতি আত্মনিবেদন বেশ নির্লজ্জ ধরনের। বেশরম আবেগপূর্ণ অংশ ‘সঞ্চিতা’ উৎসর্গের প্রসঙ্গে। ‘আমার জীবনের সঞ্চিত শ্রেষ্ঠ ফলগুলি দিয়া পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা ব্যতীত আপনার প্রতিভার জন্য কী সম্মান করিব?’ এখানে কবির আত্মনিবেদন স্পষ্ট। তিনি নিজের সাহিত্যজীবনের শ্রেষ্ঠ সৃষ্টিকে তার উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করতে চান। এটি প্রেম, শ্রদ্ধা ও শিল্পীসত্তার যুগপথ সমর্পণ।

nazru_2এই পত্রটি অলংকার ও নান্দনিকতায় ঋদ্ধ। চিঠির অন্যতম সৌন্দর্য লেখকের পুনঃপুন আত্মনম্রতা। যেমন-‘আমি ক্ষুদ্র কবি’ ‘সামান্য কবির অপার শ্রদ্ধার নিদর্শন’ ‘ধৃষ্টতা মার্জনা করেন’ এই আত্মনম্রতা কৃত্রিম মনে হয় না। বরং তা পত্রের আবেগকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে। তবে তা প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর নিঃসন্দেহে অতি-ভদ্র আচরণের অংশ। এই পত্রে বেশ কিছু রূপকের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। সবচেয়ে সুন্দর রূপকটি এসেছে শেষদিকে, ‘আমার জীবনের সঞ্চিত শ্রেষ্ঠ ফলগুলি দিয়া পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ’। এখানে কবিতাগুলিকে ‘সঞ্চিত শ্রেষ্ঠ ফল’ বলা হয়েছে। আবার সেই ফলকে ‘পুষ্পাঞ্জলি’ হিসেবে নিবেদন করা হয়েছে। একইসঙ্গে কৃষিজ, পূজামূলক ও সাহিত্যিক চিত্রকল্প মিলেছে। অন্যপক্ষে কিছু বাক্য বেশ প্রতীকধর্মী।

আবার Season flower-এর উপমাটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম। ‘আপনার আঙিনায় season flower-এর গাছ দেখিয়াছিলাম।’ এটি নিছক বাগানের কথা নয়। অন্তর্নিহিত অর্থে লেখক নিজের সাহিত্যকেও একটি কোমল ফুলগাছের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তিনি আশা করছেন, যেমন ফুলের যত্ন নেওয়া হয়, তেমনি তার লেখাকেও অবহেলা করা হবে না।

এভাবে পত্রের পরতে পরতে পরোক্ষ প্রেমভাষা নির্মাণ করেছেন কবি। পুরো চিঠিতে একবারও ‘ভালোবাসি’ শব্দটি নেই। তবু, উদ্বেগ আছে। অপেক্ষা আছে। প্রশংসা আছে। আত্মসমর্পণ আছে। স্মরণ আছে। বিশেষ গুরুত্ব আছে। সাহিত্যে একে বলা যায় ‘indirect emotional disclosure’. অনেক সময় সরাসরি প্রেমের ঘোষণার চেয়ে এটি বেশি শক্তিশালী।

বাক্যবিলাস

এই পত্রের বাক্যগুলো ছন্দময়। ফুলেল প্রেম-গন্ধময়। পুরনো সাধুভাষার গদ্য হওয়া সত্ত্বেও বাক্যগুলোর একটি স্বাভাবিক ছন্দ আছে। যেমন- ‘আপনার শরীর খুবই অসুস্থ দেখিয়া আসিয়াছিলাম। কেবলি মনে হয়, যেন আপনার শরীর ভালো নাই।’ এই পুনরাবৃত্তি উদ্বেগের আবহ সৃষ্টি করে। তবে, এই পত্রে প্রেম পূর্ণাঙ্গ রোমান্টিক প্রেমে রূপ নেয়নি। এটি এমন এক অবস্থান যেখানে, মুগ্ধতা আছে। শ্রদ্ধা আছে, উদ্বেগ আছে, আকর্ষণ আছে, এবং আত্মনিবেদন-ও আছে। কিন্তু প্রকাশ্য অধিকারবোধ নেই। একে বলা যায় ‘ভক্তিমিশ্রিত প্রেম’ অথবা ‘শ্রদ্ধাজাত প্রেম’। তাই এই পত্রের শক্তি নাটকীয় আবেগে নয়, বরং সুস্থির সংযমে। নার্গিসকে লিখিত পত্রে আবেগের আগ্নেয়গিরি ছিলো। এই পত্রে আছে নীরব জ্যোৎস্না। নার্গিসকে লিখিত পত্র মহাকাব্যিক। আর এই পত্র লিরিকধর্মী। নার্গিস পত্রে প্রকাশিত বেদনা প্রবল। ফজিলাতুন্নেসার পত্রে অপ্রকাশিত বেদনা প্রবল।

সামগ্রিকভাবে, এটি এমন একটি পত্র যেখানে প্রেম সরাসরি উচ্চারিত হয়নি, কিন্তু প্রতিটি প্রেমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর আবেগময়তা। একজন প্রেমিক বা প্রেমিকা প্রিয় মানুষটির সুখ-দুঃখকে নিজের সুখ-দুঃখ বলে মনে করে। তার সাফল্যে আনন্দিত হয়, ব্যর্থতায় পাশে দাঁড়ায় এবং কঠিন সময়ে তাকে সাহস যোগায়। প্রকৃত রোমান্টিক প্রেম শুধু নিজের চাওয়া-পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং এতে থাকে অপরজনের কল্যাণ কামনার নিঃস্বার্থ মানসিকতা। তাই প্রেমকে অনেকেই আত্মত্যাগের আরেক নাম বলে থাকেন। রোমান্টিক প্রেমের সঙ্গে কল্পনা বা স্বপ্নের একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। প্রেমে পড়লে মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা কল্পনা করে। প্রিয় মানুষটিকে নিয়ে সংসার, সুখের মুহূর্ত, একসঙ্গে পথচলা-এসব চিন্তা মনে এক নতুন আলো জ্বালায়।

এই স্বপ্ন মানুষকে অনুপ্রাণিত করে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে। অনেক মানুষ প্রেমের অনুপ্রেরণায় নিজের জীবনকে আরও সুন্দর ও অর্থবহ করার চেষ্টা করে। তবে প্রেম সবসময় সহজ বা আনন্দময় নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে নানা চ্যালেঞ্জ ও সংগ্রাম। ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব, পারিবারিক বাধা, সামাজিক বাস্তবতা কিংবা ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে প্রেমের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু সত্যিকারের প্রেমিক-প্রেমিকারা এসব বাধা অতিক্রম করার চেষ্টা করে। তারা বিশ্বাস, ধৈর্য এবং পারস্পরিক সম্মানের মাধ্যমে সম্পর্ককে টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করে। কারণ প্রেম শুধু আবেগের বিষয় নয়; এটি দায়িত্ববোধ এবং প্রতিশ্রুতিরও বিষয়। পারিবারিক ও সামাজিক শৃঙ্খলারও বিষয়। এটি মানুষের প্রতি মানুষের বিশ্বাসেরও মহাপ্রতীক। আর বিশ্বাস রোমান্টিক প্রেমের অন্যতম ভিত্তি। একটি সম্পর্ক তখনই দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর হয়, যখন উভয় পক্ষ একে অপরের প্রতি আস্থা রাখে। সন্দেহ, গোপনীয়তা এবং প্রতারণা সম্পর্ককে দুর্বল করে দেয়। অন্যদিকে সততা, খোলামেলা যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সম্মান প্রেমকে আরও গভীর ও শক্তিশালী করে। তাই প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশ্বাসকে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ বলা যায়।

সম্মানও প্রেমের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কবি তাই সচেতনভাবেই ফজিলাতুন্নেসার প্রতি সসম্মান প্রেম নিবেদন করেছেন। অনেক সময় মানুষ মনে করে ভালোবাসা থাকলেই একটি সম্পর্ক সফল হবে। কিন্তু বাস্তবে ভালোবাসার পাশাপাশি সম্মানও প্রয়োজন। একজন মানুষের মতামত, স্বপ্ন, স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিত্বকে সম্মান না করলে সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য থাকে না। প্রকৃত প্রেমে কেউ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় না; বরং একে অপরকে বিকশিত হতে সাহায্য করে। এই পারস্পরিক সম্মান সম্পর্ককে সুস্থ ও স্থায়ী করে তোলে। এভাবে মানুষ রোমন্টিক প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। আর রোমান্টিক প্রেম মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রিয় মানুষের সমর্থন এবং সান্নিধ্য একজন মানুষকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। জীবনের কঠিন সময়ে একজন ভালো সঙ্গী মানসিক শক্তির উৎস হয়ে ওঠে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সুস্থ ও সুখী প্রেমের সম্পর্ক মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং জীবনের সন্তুষ্টি বাড়াতে সাহায্য করে। তবে সম্পর্ক যদি বিষাক্ত বা অসম্মানজনক হয়, তাহলে তা মানসিক কষ্টের কারণও হতে পারে। তাই প্রেমের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি সচেতনতা এবং পরিপক্বতাও জরুরি। এই পত্রে অবশ্য নজরুল অপরিক্ক আচরণ করেছেন।

লেখক: কবি, গীতিকার ও নজরুল গবেষক

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর