রোববার, ৩ মে, ২০২৬, ঢাকা

জামায়াতের রাজনীতি ও বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল

আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬, ০১:২৩ পিএম

শেয়ার করুন:

anwar
আনোয়ার হোসেইন মঞ্জু। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের জনগণ এবং বিশেষ করে রাজনৈতিক মহল জামায়াতে ইসলামীকে কমিউনিস্ট পার্টির মতো একটি ক্যাডারভিত্তিক সুসংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে। তারা দলীয় আদর্শে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নীতিবাদী কর্মী বাহিনী দ্বারা সজ্জিত ও সমৃদ্ধ। দলীয় আদর্শ তাদের প্রাত্যহিক জীবনকে নিয়ন্ত্রণ করে। তারা তাদের আদর্শগত শৃঙ্খলার ওপর যতটা নির্ভর করে, দলকে গণসংগঠনে পরিণত করার কথা ততটা ভাবে না। তারা জনগণের সম্মিলিত শক্তির ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে দেশে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য দলীয় আদর্শে উজ্জীবিত কর্মী বাহিনীর ওপর অধিক নির্ভর করে। দলের জন্য তারা বাঁচে, দলের জন্য জীবন দেয় এবং বিশ্বাস করে যে তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। তারা অন্য রাজনৈতিক দলের চাল বুঝতে পারে না।

প্রতিপক্ষ দল কাছে টানলে তারা খুশিতে বাগ বাগ হয়ে ওঠে, হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে তারা তাদের তুষ্ট করার প্রতিযোগিতায় ন্যায়-অন্যায় বোধ হারিয়ে ফেলে; যেমনটি তারা হারিয়ে ফেলেছিল ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপির সঙ্গে সরকারে গিয়ে। মন্ত্রিপরিষদে গৃহীত অন্যায় সিদ্ধান্তে সায় দিতে তারা দ্বিধা করেছে, এমন শোনা যায়নি। এমনকি পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার আশায় কেয়ারটেকার সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানকে অধিষ্ঠান নিশ্চিত করতে উচ্চ আদালতের বিচারপতিদের কার্যকালের বয়সসীমা ৬৫ থেকে ৬৭ বছরে উন্নীত করার জন্য অন্যায়ভাবে সংবিধান সংশোধন করার সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জামায়াতের দুজন মন্ত্রী ছিলেন, যাঁদের বিরুদ্ধে ‘এক টাকার’ দুর্নীতি করার অভিযোগ পর্যন্ত ওঠেনি বলে জামায়াত মহল আত্মতুষ্টি লাভ করে। দুর্নীতি বলতে কি কেবল টাকাপয়সার নয়ছয় করাকেই বোঝায়? ক্ষমতায় যাওয়ার আশায় বিচারপতিদের বয়স বৃদ্ধির সিদ্ধান্তে আপত্তি না জানানো বড় ধরনের নৈতিক ও আদর্শিক স্খলন বলা হলে কি অন্যায় হবে?


বিজ্ঞাপন


এভাবেই জামায়াতে ইসলামী ইতিহাসের নানা পর্বে দলীয় আদর্শ ভুলে অন্য দলের রাজনৈতিক চালের কাছে ধরা দিয়েছে। অতীতে জামায়াতে ইসলামী বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মিষ্টিকথায় ভুলে তাদের জোটে যোগ দিয়ে অথবা পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে কিছু পরিমাণে হলেও রাজনৈতিক প্রেমের টক-ঝাল-মিষ্টির আস্বাদ গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু প্রেমে ভাটা পড়ায় উভয় দলের হাতে নির্মূলের মুখেও পড়েছিল। ২০০৯ সালের পর থেকে ২০২৪-এর জুলাই পূর্ববর্তী দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জামায়াতে ইসলামীর অস্তিত্বের কঠিন সময়ে বিএনপি তার রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতের পাশে ছিল না। জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের পুরোনো প্রেমে পুনরায় জোয়ার দেখা দিলেও তাতে ভাটা পড়েছে অতীতের চেয়ে দ্রুততার সঙ্গে। এখন বিএনপি নেতাদের মুখে আওয়ামী লীগের নেতাদের মতোই জামায়াতকে ‘বাংলার মাটি থেকে চিরতরে নির্মূল’ করার কথা খইয়ের মতো ফুটছে। জামায়াত তার মিত্রদের নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ইস্যুতে সংসদে ও সংসদের বাইরে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অবতীর্ণ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত হানিমুন পিরিয়ড শেষ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর আচরণ যে নিতান্তই বালখিল্য বা শিশুসুলভ, তা আমি দীর্ঘদিন থেকে বলে আসছি। অন্যরাও একই কথা বলছে। কিন্তু জামায়াত অন্যের পরামর্শ গ্রহণ ও সমালোচনা সহ্য করার দল নয়। তাদের পরামর্শ ও সিদ্ধান্তের উৎস দলের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা। সমালোচনাকে তারা নিজেদের ভুলত্রুটি শুধরে নেওয়ার উপায় বা ভবিষ্যতে সতর্কতার সঙ্গে কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য সহায়ক বলে ভাবে না। দলের ভিতর থেকে সমালোচনাকে মনে করে দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের খেলাপ এবং বাইরের কেউ সমালোচনা করলে তাকে শত্রু বিবেচনা করে। সন্দেহ নেই, জামায়াতের লোকজন খোদাভীরু এবং ‘হিকমত’ বা কৌশলের পাবন্দ ও আল্লাহর ‘রেজামন্দি’ বা সন্তুষ্টি অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য।

কিন্তু জন্মাবধি তারা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে পুরোপুরি ‘নাদান’ বা বোকা। এই নাদানির কারণে তারা পদে পদে ভুল করে এবং এক একটা ভুলের খেসারত দেওয়ার দায়ভার বর্তায় দলটির এক প্রজন্মের নেতা-কর্মী থেকে আরেক প্রজন্মের নেতা-কর্মীদের ওপর। জামায়াতকে ঘায়েল করার জন্য স্বয়ং জামায়াতই যেন প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলগুলোর হাতে মোক্ষম হাতিয়ার তুলে দিয়েছে। সেই হাতিয়ার ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ জামায়াতকে নির্মূল করার শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছিল এবং তারা প্রহসনের বিচারে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বকে বিনাশ করেছে।

জামায়াত যেহেতু সুসংগঠিত একটি রাজনৈতিক দল, অতএব জামায়াত নির্মূল হয়নি। প্রায় নেতৃত্বহীন জামায়াত অকল্পনীয়ভাবে শুধু টিকেই থাকেনি, জাতীয় সংসদে নজিরবিহীন বিজয় লাভ করে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কিন্তু জামায়াতবিরোধী ছোট-বড় সব দল সুযোগ পেলেই জামায়াতের একাত্তর সালের ভূমিকার কথা টানে। জামায়াত দলীয় অবস্থান থেকে এ ব্যাপারে যত যৌক্তিক ব্যাখ্যা প্রদান করুক না কেন, সে ব্যাখ্যা কেউ গ্রহণ না করার জন্য মুখিয়ে থাকে। জামায়াত এক কথা বললে অন্যরা জামায়াতকে দশ কথা শুনিয়ে দেয়। এমনটাই চলে আসছে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর ধরে। এর কোনো শেষ আছে বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয় না।


বিজ্ঞাপন


বাংলাদেশে পাকিস্তানি সৈন্যদের সব অপকর্মের দায়ভার জামায়াতের ওপর চাপানো নীতিকথার গ্রিক লেখক ঈশপের কাহিনিতে ভাটিতে থাকা মেষশাবকের ওপর পানি ঘোলা করার দোষ চাপানোর মতো। একাত্তরে জামায়াতের যতটুকু ভূমিকা ছিল তার চেয়ে বেশি যখন চাপানোর চেষ্টা যত না বাস্তব, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক। এসব কাহিনি ইতিহাসে ঠাঁই পেয়েছে, আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, শিশুরা তাদের পাঠ্যবইয়ে পড়েছে। দুটি প্রজন্ম এসব জেনেই বেড়ে উঠেছে। জামায়াত চেষ্টা করলে বা ব্যাখ্যা দিলেই এ অপবাদ সহজে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না।

এ প্রসঙ্গে প্রাচীন ইরানের একটি কাহিনি উল্লেখ করার ইচ্ছা দমন করতে পারছি না। বায়ু ত্যাগ সম্পর্কে আর্য সভ্যতার ধারক ইরানিদের মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি অনমনীয়। এক ইরানি তরুণ অসতর্কতাবশত ভরা মজলিশে সশব্দে বায়ু ত্যাগ করে ফেলেন। ঘটনার পর তার মনে এত অনুশোচনা জাগে যে তিনি শহর ত্যাগ করে চলে যান। বহু বছর আত্মনির্বাসিত থাকার পর তিনি এই আশায় নিজ শহরে ফিরে আসেন যে তার বহুবর্ষ আগের তুচ্ছ অভদ্রতাকে ইতোমধ্যে লোকজন নিশ্চয়ই বিস্মৃত হয়েছে। সময়ের ব্যবধানে শহরের পরিবর্তন ঘটেছে। নিজ বাড়ির পথ খুঁজে না পেয়ে তিনি এক জায়গায় খেলাধুলারত কিছু শিশুকে নিজের নাম বলে তার বাড়িটি দেখিয়ে দিতে অনুরোধ করেন। শিশুরা আগ্রহে সাড়া দেয়, ‘তার মানে আপনি অমুক বায়ু ত্যাগকারীর বাড়ি খুঁজছেন!’ মনের দুঃখে হতভাগ্য লোকটি আবার নির্বাসনে চলে যান।

অতএব, জামায়াতের পক্ষে একাত্তরের অপবাদ কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব। আওয়ামী লীগের পক্ষে থাকলে তাদের কাছে জামায়াত নির্দোষ, একইভাবে বিএনপির সঙ্গে থাকলে তাদের কাছে জামায়াত নির্দোষ। যেহেতু দীর্ঘদিন দুই প্রধান দল তাদের যেভাবে নাচিয়েছে, তারা সেভাবে নেচেছেন, অতএব তাদের পক্ষে ‘পুতুলের কী দোষ?’ বলার সুযোগ কম। রাজনৈতিক বিচারবুদ্ধিতে পরিপক্ব হলে জামায়াত শুরু থেকে এই দ্বিচারিতা পরিহার করতে পারত।

জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব সৃষ্টি জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার নিয়ে। জামায়াতকে ভুলিয়ে-ভালিয়ে বিএনপি সরকার আড়াই মাস কাটিয়ে দিয়েছে। তারা যে সংস্কার করতে সম্মত হয়েছিল, জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং গণভোট মেনে নিয়েছিল, তা যে কেবল সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করানোর কৌশল ছিল, তা তারা প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতার পক্ষে দায়িত্বশীল মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন। এ কৌশলকে তারা মিথ্যাচার বা প্রতারণামূলক আচরণ বলে মনে করে না। কারণ ক্ষমতা অনেকটা মদের নেশার মতো। একটি প্রাচীন ল্যাটিন প্রবাদ আছে : ‘ইন ভিনো ভেরিতাস’ (In Vino Veritas), যার অর্থ ‘মদের মাঝে সত্য আছে’। মদ পান করে কেউ যখন মাতাল হয়, তখন প্রায়ই গোপন কথা ফাঁস করে দেয়। গোপন কথা কাউকে না বলার জন্য কসম কাটানো হলেও নেশার ঘোরে সে অপকটে সব বলে ফেলে। এজন্য মদকে ‘ট্রুথ সিরাম’ বলা হয়। ‘সিরাম’ যেমন রক্তকে জমাটবদ্ধ হতে দেয় না, মাতালের মাঝে মদের প্রভাব সত্যকে আটকে রাখতে দেয় না। মিথ্যা বলার জন্য কসম কাটানোর প্রভাব কেটে যায়, অহংবোধ বৃদ্ধি পায় এবং অবদমিত সত্যগুলো সুড়সুড় করে বের হয়ে আসতে থাকে। বিএনপি ক্ষমতার সেই নেশার মধ্যে রয়েছে। এখন তারা সত্য উগরে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

জামায়াত ক্ষমতায় যাবে না, কেন ও কীভাবে জানি!

জামায়াতের ভ্রান্তি ও সৎ লোকের শাসন

আসলে কৌশল অবলম্বনের কোনো প্রয়োজন ছিল না বিএনপির। সাবেক প্রধান উপদেষ্টা লন্ডন সফরে গিয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকেই সংসদ নির্বাচন পূর্বঘোষিত ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে ফেব্রুয়ারিতে এগিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। নির্বাচন যথসময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সদস্যদের শপথ গ্রহণের দিন বিএনপি সদস্যরা গণভোট বাস্তবায়নসংক্রান্ত শপথ গ্রহণ না করার মধ্য দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছে যে বিএনপি জুলাই সনদে আস্থা রাখে না। জামায়াত নেতারা যে বিএনপির আশপাশে থেকে, তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেও বিএনপির রাজনৈতিক চাল বুঝতে পারেননি, এটাই তাঁদের বরাবরের অদূরদর্শিতার বৈশিষ্ট্য।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে বিএনপি সরকার কি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে? রাজনৈতিক বিচারে করেনি। কারণ মিথ্যাচার রাজনীতির স্বীকৃত কলা। ইয়াহিয়া খানের ঘোষিত ‘আইনগত কাঠামো আদেশ’ বা ‘এলএফও’র শর্তাবলি মেনে ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দল আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রী পাকিস্তান’-এর জন্য ‘ইসলামের শাশ্বত সত্যের’ ভিত্তিতে সংবিধান প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগ যা বিশ্বাস করে না, নির্বাচনের স্বার্থে তা করতে সম্মত হয়েছিল।

প্রাচীন রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মিথ্যাচার কেবল কোনো রাজনীতিবিদের ব্যক্তিগত ত্রুটি ছিল না, বরং একটি স্বীকৃত এবং অনেক সময় শাসন, প্রভাব বিস্তার ও সামাজিক সমন্বয়ের আবশ্যকীয় উপাদান ছিল। বর্তমান সময়ের রাজনীতিতেও মিথ্যাচার এবং রাজনীতি সমার্থক। রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দার্শনিকরা রাজনৈতিক মিথ্যাচারের দার্শনিক যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করেছেন। প্লেটো তাঁর গ্রন্থ ‘রিপাবলিক’-এ সতর্কতার সঙ্গে সামাজিক সংহতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মিথ্যার আশ্রয় নিতে বলেছেন।

তিনি বিশ্বাস করতেন যে ‘রাষ্ট্রের উৎস সম্পর্কিত সত্য প্রকাশ করা হলে জনগণ শাসকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সমাজের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার কারণ সৃষ্টি করতে পারে। এতে প্রতিফলিত হয় যে বৃহত্তর কল্যাণের স্বার্থে কিছু সত্য প্রকাশ না করাই উত্তম। প্রাচীন এথেন্সের গণতান্ত্রিক জীবনের কেন্দ্রে ছিল প্রতারণা ও বাগাড়ম্বর। বক্তা, নাট্যকার এবং রাজনীতিবিদরা প্রায়ই জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে অতিরঞ্জিত কথা বলতেন এবং সরাসরি মিথ্যাচার করতেন।

তবে এ কথাও সত্য যে রাজনীতিতে মিথ্যাচার কোনো না-কোনো পর্যায়ে বিপর্যয় ডেকে আনে। প্রাচীন গ্রিসের নগর রাষ্ট্র ধ্বংস হয়েছে।  বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে মিথ্যার ওপর প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিও টেকেনি। ইংলিশ কবি ডি এইচ লরেন্স তাঁর ‘সার্চ ফর ট্রুথ’ কবিতায় বলেছেন :

‘সত্য ছাড়া আর কোনো কিছু বেশি সন্ধান কর না,

স্থির ও দৃঢ় হয়ে সত্য ধারণের চেষ্টা কর,

নিজেকে প্রথম যে প্রশ্নটি করবে, তা হলো:

‘আমি কত বড় মিথ্যাবাদী?’

লেখক: যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী প্রখ্যাত সাংবাদিক

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর