১৮ কোটি জনসংখ্যার দেশ- আমাদের বাংলাদেশ। যার মধ্যে প্রায় ১.৫ কোটি জনসংখ্যা প্রবাসী হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছে। এছাড়া বিশাল জনগোষ্ঠী সারা বছর কাজের প্রয়োজনে, চিকিৎসার প্রয়োজনে, শিক্ষার প্রয়োজনে, ব্যবসার প্রয়োজনে কিংবা পর্যটকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ারের প্রায় ৮০ শতাংশ বিদেশি এয়ারলাইন্সের কাছে আর দেশীয় এয়ারলাইন্সের কাছে মাত্র ২০ শতাংশ যা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রির জন্য চিন্তার বিষয়। মার্কেট শেয়ার বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠছে। ফলে বাংলাদেশে জিডিপি’র কন্ট্রিবিউশন ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬/৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব। সার্বিকভাবে অর্থনৈতিকভাবে সুদৃঢ় অবস্থানে পৌঁছাতে এ খাত অন্যতম ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে বিশ্বের প্রায় ৫৪টি দেশের সাথে এয়ার সার্ভিস এগ্রিমেন্ট আছে অথচ বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলো মাত্র ২০/২১টি দেশে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। আমাদের সক্ষমতার অভাবের কারণে অবশিষ্ট দেশগুলোর সাথে দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোর মাধ্যমে আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। স্বাধীনতার পর আজ ৫৪ বছর অতিক্রম করছে বাংলাদেশ অথচ আমাদের জাতীয় বিমান সংস্থা সঠিকভাবে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না, এটা আমাদের চরম ব্যর্থতা। আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ার প্রতি মূহূর্তে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কাছে চলে যাচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না। আজ প্রায় ২৯ বছর যাবত দেশের আকাশপথে জাতীয় বিমান সংস্থার সাথে বেসরকারি বিমান সংস্থা ফ্লাইট পরিচালনা করছে, কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য বিগত সময়গুলোতে প্রায় ৮/৯টি বেসরকারি এয়ারলাইন্স বন্ধ হয়ে ইতিহাসের পাতায় স্থান নিয়েছে। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ খাতে নতুন নতুন বিনিয়োগ আশার পথ অনেকটা রুদ্ধ হয়ে আছে। বর্তমানে জাতীয় বিমান সংস্থার সাথে মাত্র তিনটি বেসরকারি এয়ারলাইন্স ইউএস-বাংলা, নভো এয়ার এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা আকাশপথে ব্যবসা পরিচালনা করছে।
বিজ্ঞাপন
এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রিকে প্রতিযোগিতাপূর্ণ করতে হলে সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা প্রয়োজন। এয়ারলাইন্সগুলোকে টিকিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন ধরনের এ্যারোনোটিক্যাল, নন-এ্যারোনোটিক্যাল চার্জ, সারচার্জগুলো অবশ্যই যোক্তিক হারে নির্ধারণ করা সময়ের দাবি। আন্তর্জাতিক বাজার ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। দেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে বিমানবন্দরের বিভিন্ন ট্যাক্স নির্ধারণ করলে যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারবে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই থেকে দুটি ড্যাশ৮-কিউ৪০০ এয়ারক্রাফট এর মাধ্যমে ঢাকা-যশোর আর আর ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে বহরে ২৫টি এয়ারক্রাফট রয়েছে এবং ১০টি দেশের ১৪টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যসহ দেশের অভ্যন্তরে সকল রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। ইউএস-বাংলা যাত্রার শুরু থেকেই পরিকল্পনা আর বাস্তবায়নকে সাথে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যাত্রীদের কাছে ইউএস-বাংলার রয়েছে বাস্তবমুখী কমিটমেন্ট, অন-টাইম ফ্লাইট ডিপার্চার, ইন-ফ্লাইট সার্ভিস, দ্রুততম সময়ে লাগেজ ডেলিভারিসহ নানাবিধ সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। সর্বোপরি বন্ধ হওয়া এয়ারলাইন্সগুলোর সমস্যা চিহ্নিত করে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে সেই দিকে নজর দিচ্ছে ইউএস-বাংলা।

বিজ্ঞাপন
ইউএস-বাংলার চলার পথ ছিল অম্ল-মধুর সম্পর্কের মতো বিশেষ করে চলার পথটি ছিল বন্ধুর। স্বল্প সময়ের যাত্রা পথে ইউএস-বাংলাকে মোকাবেলা করতে হয়েছে করোনা মহামারির মতো দুর্যোগ। জেট ফুয়েলের উচ্চমূল্য এভিয়েশন ব্যবসাকে নাভিশ্বাস করে তুলেছে। অভিজ্ঞ পাইলট, ইঞ্জিনিয়ারের অভাব এ সেক্টরের অগ্রগতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার ওপর সরকারের নানাবিধ পলিসির সাথে তাল মিলিয়ে চলতে না পারার কারণে পূর্বে অনেকগুলো এয়ারলাইন্স বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। অতিরিক্ত চার্জ বা সারচার্জ কিংবা জেট ফুয়েলের মূল্য নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট মহলকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। যাতে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ আর সম্মানিত যাত্রী সাধারণ উভয়েই উপকৃত হয়।
রেগুলেটরি অথরিটি কিংবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবশ্যই বিগত দিনে বন্ধ হওয়া এয়ারলাইন্সগুলোর অতীত ইতিহাস পর্যালোচনা করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্ধের ব্যাপারে বাংলাদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সক্ষমতাকে বিবেচনায় রাখতে হবে। সর্বোপরি যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বে অবশ্যই লেবেল প্লেয়িং ফিল্ডকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
শতভাগ বাংলাদেশি যাত্রীদের ওপর ভিত্তি করে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো এদেশের আকাশ পরিবহনে ব্যবসা পরিচালনা করছে। দিন যত যাচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ার নিয়ে যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হচ্ছে বাংলাদেশি বিমান সংস্থাগুলোর সক্ষমতার অভাব। বাংলাদেশের চারটি এয়ারলাইন্সের নিকট সর্বসাকুল্যে রয়েছে মোট ৫৪টি এয়ারক্রাফট, যা দিয়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর সহস্রাধিক এয়ারক্রাফটের সাথে প্রতিযোগিতা করছে, যা কোনোভাবেই সামঞ্জস্য নয়। ফলে নতুন নতুন বিদেশি এয়ারলাইন্স এদেশে ব্যবসা করার জন্য আসছে আর দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলো আন্তর্জাতিক রুটের মার্কেট শেয়ার হারাচ্ছে। ভবিষ্যতে নীতি নির্ধারকদের ফ্লাইট ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দের ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে, যাতে দেশি বিমান সংস্থার ভবিষ্যৎ হুমকির মধ্যে না পড়ে। দেশীয় এয়ারলাইন্সগুলোকে অন্যান্য দেশের মতো টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে হলেও দেশীয় এয়ারলাইন্স এর স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।
এ্যারোনোটিক্যাল, নন-এ্যারোনোটিক্যাল চার্জ, সারচার্জ, জেট ফুয়েলের ঊর্ধ্বমূল্য, যৌক্তিক উপায়ে ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ, দেশীয় এয়ারলাইন্সের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলের জন্য জেট ফুয়েলের মূল্য সমহারে নির্ধারণ করতে হবে। সর্বোপরি দেশীয় বিমান সংস্থাগুলোকে প্রায়রিটি দিয়ে সম্মুখে অগ্রসর হওয়ার পথকে সহজ করার জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা জরুরি বলেই মনে হচ্ছে। নতুবা বিগত দিনের মতো বন্ধ হওয়ার মিছিলটি আরও বেশি লম্বা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পরিকল্পনা হতে হবে বাস্তবতার নিরিখে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রার শুরুতে পরিকল্পনা ছিল যে সব দেশে বাংলাদেশি প্রবাসী ভাই-বোনদের অবস্থান সেখানে তাদের সেবার হাত বাড়িয়ে দিবে সর্বপ্রথম। তারই ধারাবাহিকতায় ইউএস-বাংলা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গন্তব্য জেদ্দা, রিয়াদ, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, দোহা, মাস্কাট এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, মালদ্বীপে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। চিকিৎসাসহ নানাবিধ সেবা নেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের চেন্নাই, কলকাতা, এশিয়ার অন্যতম পর্যটনকেন্দ্রিক গন্তব্য থাইল্যান্ডের ব্যাংকক, চীনের ব্যবসায়িক গন্তব্য গুয়াংজু- তে ইউএস-বাংলা ফ্লাইট চালু অব্যাহত রেখেছে। এয়ারলাইন্স ব্যবসায় রুট এবং এয়ারক্রাফট পছন্দের ব্যাপারে সৌখিনতার কোনো সুযোগ নেই। একটি এয়ারলাইন্স টিকে থাকতে হলে সেবা এবং ব্যবসাকেই প্রাধান্য দিতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। রুট, এয়ারক্রাফট, মার্কেটিং স্ট্রাটেজি যদি ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে না করা হয় তবে এয়ারলাইন্সের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান। ভুল পরিকল্পনা এভিয়েশন ব্যবসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
ইউএস-বাংলা আন্তর্জাতিক রুট ছাড়াও অভ্যন্তরীণ সেক্টরে বরিশাল ব্যতিত সকল অপারেশনাল এয়ারপোর্টে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। চলতি বছর ঢাকা থেকে মদিনা, দাম্মাম রুটে ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনা করছে ইউএস-বাংলা। ২০২৬ এর শেষ কিংবা ২০২৭ এর শুরুতে ঢাকা থেকে ইউরোপের গন্তব্য লন্ডন, রোম-এ এবং ২০২৮ এর মধ্যে টরেন্টো, নিউইয়র্কসহ অস্ট্রেলিয়ার সিডনি নিয়ে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ইউএস-বাংলা।
এয়ারক্রাফটের সংখ্যার বিচারে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স দেশের সর্ববৃহৎ এয়ারলাইন্স। চলতি বছর অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য একের অধিক এটিআর-৭২-৬০০, কমপক্ষে চারটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ এবং এয়ারবাস ৩৩০-৩০০ এয়ারক্রাফট বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় কোনো একটি মডেলের ওপর ভিত্তি করে এয়ারলাইন্স ব্যবসা পরিচালনা করা ঠিক নয় বলেই ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ মনে করে। গন্তব্যের দূরত্ব, লাগেজ বহনের পর্যাপ্ততা, পরিচালন ব্যয়, জেট ফুয়েলের ধারণক্ষমতা, এয়ারক্রাফট প্রাপ্তি ইত্যাদি নানাবিধ ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে একটি এয়ারলাইন্স বিভিন্ন মডেলের এয়ারক্রাফট সংগ্রহ করে থাকে। এই সকল ফ্যাক্টরের ওপর ভিত্তি করে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এটিআর ৭২-৬০০, বোয়িং ৭৩৭-৮০০ কিংবা এয়ারবাস ৩০০-৩৩০ এয়ারক্রাফটের মতো মিক্সিং মডেল স্বাচ্ছন্দে ব্যবহার করছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে মাথায় রেখেই ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স নিজস্ব অর্থায়নে পাইলট এবং এ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তৈরি করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ২১ জন পাইলট কাডেট পাইলট ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ফার্স্ট অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। আরও ১২ জন ট্রেনিং শেষ করে যোগ দেওয়ার অপেক্ষায় আছে। নতুন আরও একটি ব্যাচ রিক্রুটমেন্ট প্রসিডিউরের মধ্যে আছে। ঠিক একই প্রক্রিয়ায় এ্যারোনোটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারও ইউএস-বাংলায় নিয়োগ পাচ্ছে।
একটি এয়ারলাইন্স বিভিন্ন রুটে ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয়ের দিকে নজর রাখে। সাথে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় চাহিদা-যোগানের বিষয়টির প্রতিও খেয়াল রাখতে হয়। পিক-সিজন কিংবা অফ-পিক সিজন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম সেক্টরে ভাড়া নির্ধারনে বিরাট ভূমিকা রাখে। সারা বিশ্বের সব এয়ারলাইন্সের সব রুটেই ভাড়া নির্ধারণের ক্ষেত্রে একই পলিসি মেনে চলে। প্রত্যেকটি রুটে ১০ থেকে ১১টি ভাড়ার স্তর থাকে। স্টারটিং ফেয়ার কিংবা প্রমোশোনাল ফেয়ার থেকে সর্বোচ্চ ফেয়ার । সর্বোপরি সিটের পর্যাপ্ততার ওপর ভাড়ার তারতম্য ঘটে থাকে। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট কোনো ঘটনা বা উপলক্ষকে কেন্দ্র করে এয়ারলাইন্সগুলো ভাড়া বাড়ায় না। সারা বছর একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে চলে। অপারেশনাল খরচ কমানো গেলে ভাড়া কমানোর সুযোগ রয়েছে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো নির্দিষ্ট এয়ারলাইন্স ইচ্ছেমাফিক ভাড়া বৃদ্ধির কোনো সুযোগ নেই। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের টিকেট বিভিন্ন মাধ্যমে সংগ্রহ করা যায়। যেমন অ্যাপের মাধ্যমে, অনলাইন, নিজস্ব সেলস্ কাউন্টার কিংবা ট্রাভেল এজেন্সির মাধ্যমে টিকেট কাটা যায়। শুরু থেকেই সিন্ডিকেট প্রথার বিরুদ্ধে ইউএস-বাংলার অবস্থান। অতিরিক্ত ভ্যাট ট্যাক্স, এ্যরোনোটিক্যাল চার্জ, নন-এ্যারোনোটিক্যাল চার্জ কিংবা জেট ফুয়েলের অতিরিক্ত মূল্য ভাড়ার ওপর সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে।
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স যাত্রার শুরু থেকেই ৯০ শতাংশের অধিক ফ্লাইট অন-টাইম ডিপারচারের রেকর্ড বিদ্যমান। অবশিষ্ট ১০ শতাংশ ফ্লাইট সিঙ্গেল রানওয়ের কারণে একই রানওয়ে দিয়ে এ্যারাইভাল, ডিপারচার করা, শীতকালে ভারী কুয়াশা, গ্রীষ্ম-বর্ষায় কালবৈশাখী কিংবা ঝড়ো হাওয়ার তান্ডব, জেট ফুয়েলের রিফুয়েলিং কিংবা অযাচিত টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে সময়মতো ফ্লাইট না ছাড়ার কারণ হিসেবে বিবেচিত। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে অধিকাংশ এয়ারক্রাফটই ব্র্যান্ডনিউ ফলে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের অভিযোগ নাই বললেই চলে। প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় সেবা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের কোনো সুযোগ। কারন এয়ারলাইন্স ব্যবসায় সেবাই প্রথম। সেবা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা সমাধানের চেষ্টা করছে ইউএস-বাংলা।
বাংলাদেশ এভিয়েশন অগ্রসর হলে, অগ্রসর হবে ইউএস-বাংলা। দেশীয় বিমান সংস্থা হিসেবে ইউএস-বাংলা ‘বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে বিকশিত করবে, দেশকে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায় এই প্রত্যাশা সকলের। দ্রুততম সময়ে দক্ষিণ এশিয়া তথা এশিয়ার একটি অনন্য খ্যাতি সম্পন্ন এয়ারলাইন্স হিসেবে এগিয়ে যাবে ইউএস-বাংলা- এই স্বপ্নে বিভোর এদেশের ভ্রমণপ্রেমী জনগণ।
লেখক: মহাব্যবস্থাপক-জনসংযোগ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স

