শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

মৎস্যকন্যা কি সত্যি আছে?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

শেয়ার করুন:

মৎস্যকন্যা কি সত্যি আছে? জানুন জলপরীর ইতিহাস ও রহস্য
মৎস্যকন্যা কি সত্যি আছে? জানুন জলপরীর ইতিহাস ও রহস্য
সাহিত্য, সিনেমা থেকে শুরু করে লোকজ সংস্কৃতিতে ‘মৎস্যকন্যা’ বা জলপরী এক চিরন্তন রহস্যময় চরিত্র। শরীরের উপরিভাগ নারীর অবয়ব এবং নিচের অংশ মাছের শরীরের মতো দেখতে জলরাজ্যের এই সুন্দরীদের নিয়ে মানুষের কৌতূহলের অন্ত নেই। ডাইনোসরের মতো মৎস্যকন্যারাও কি একসময় পৃথিবীতে বাস করত? সত্যিই কি এই জলপরীরা জীবন্ত কোনো প্রাণী? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে ইতিহাস ও লোককাহিনির এক দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।
4-20210621154328

মৎস্যকন্যার রূপ ও ধারণা

মারমেইড বা মৎস্যকন্যা নামক প্রাণীটির ধারণা এসেছে মূলত ‘মেরফোক’ বা ‘মেরপিপল’ নামক রহস্যময় জলজ প্রাণীদের গল্প থেকে। বিশ্বজুড়ে লোককাহিনী ও পৌরাণিক কাহিনিতে এই প্রাণীদের উপস্থিতি রয়েছে। প্রচলিত মত অনুযায়ী, মৎস্যকন্যারা দেখতে অত্যন্ত রূপসী হয় এবং তাদের কোমর পর্যন্ত সোনালী চুল থাকে। শরীরের উপরিভাগ মানুষের মতো হলেও নিচের দিকটা মাছের লেজযুক্ত। সমুদ্রের উপরিভাগে ভেসে থাকা এই জলপরীরা মাছের মতোই দীর্ঘ সময় পানি ছাড়া থাকলে নিস্তেজ হয়ে পড়ে।
18-Mermaid-Day-1200x834-1

ইতিহাসে মৎস্যকন্যার প্রথম উপস্থিতি

মৎস্যকন্যা নিয়ে আলোচনার সূচনা হয় সম্ভবত প্রাচীন অ্যাসিরীয় সভ্যতায়। সেকালের উপকথা অনুযায়ী, দেবী অ্যাটারগেটিস ভুলবশত তার প্রেমিককে হত্যা করার পর অনুতপ্ত হয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দেন। তখন সমুদ্রদেবতা পসাইডন তাকে মৃত্যু না দিয়ে অর্ধমানবী ও অর্ধমাছের রূপ দেন। ব্যাবিলনীয় উপকথায় দেবী ‘ইয়া’-কে নিয়েও একই ধরনের কাহিনি রয়েছে। গ্রিক সাহিত্যে অ্যাটারগেটিস ‘আফ্রোদিতি’ বা দেবী ‘ডার্কেটো’ নামে পরিচিত। এছাড়া গ্রিক সাহিত্যে ‘সাইরেন’ নামের একদল সামুদ্রিক প্রাণীর কথা পাওয়া যায়, যারা মোহনীয় সুরে গান গেয়ে নাবিকদের আকৃষ্ট করত এবং পথ ভুলিয়ে সাগরে ডুবিয়ে মারত। খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে চীনা শাস্ত্রীয় পাঠ ‘শানহাইজিং’-এও মৎস্যকন্যার উল্লেখ পাওয়া যায়।
24-hours-in-Tulum-Mari-Founder-of-Karibbean-Mermaids-1920x1080

নাবিকদের চোখে জলপরী

ইতিহাসে বহু বিখ্যাত নাবিক মৎস্যকন্যা দেখার দাবি করেছেন। আমেরিকা আবিষ্কারের সময় ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ১৪৯৩ সালের লগবুকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপের কাছে নারী অবয়বের মৎস্যকন্যা দেখার কথা লেখা রয়েছে। যদিও পরবর্তীতে গবেষকদের মতে, কলম্বাস ও অন্যান্য নাবিকেরা দূর থেকে ম্যানাটি বা এ জাতীয় কোনো সামুদ্রিক প্রাণী দেখে ভুল করেছিলেন। এছাড়া ১৮৪৭ সালের এক বৃদ্ধ জেলের বর্ণনায় এবং ১৮৫৭ সালের ব্রিটিশ শিপিং গ্যাজেটেও স্কটিশ নাবিকদের মৎস্যকন্যা দেখার নানা রোমাঞ্চকর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল বা ভারত মহাসাগরের উপকূলে মৎস্যকন্যা দেখার বেশ কিছু ভিডিও বা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লেও এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি বা সত্যতা মেলেনি।
HomeTailPatternQuiz

সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে মৎস্যকন্যা

মৎস্যকন্যাকে জনপ্রিয় করে তোলার পেছনে বড় অবদান রয়েছে বিশ্বসাহিত্যের। ১৮৩০ সালে হ্যান্স ক্রিশ্চিয়ান অ্যান্ডারসন রচনা করেন বিখ্যাত ও করুণ গল্প ‘দ্য লিটল মারমেইড’, যা পরে ১৯৮৯ সালে ডিজনি অ্যানিমেশনের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে এই গল্পের স্মরণে একটি মৎস্যকন্যার মূর্তিও স্থাপন করা হয়েছে।
Image-787-1024x658

বাস্তবতা ও রহস্য

বিজ্ঞানের চোখে মৎস্যকন্যার বাস্তবিক অস্তিত্বের কোনো প্রমাণ নেই। দর্শন বা পাঠ্যশাস্ত্রে বর্ণিত রূপসী অর্ধ-মানবীর অবয়ব মূলত মানুষের কল্পনা, রূপকথা ও লোককাহিনিরই ফল। শত শত বছর ধরে মানুষের মুখে মুখে ফেরা এই জলপরীরা হয়তো কোনোদিন সত্যি ছিল না, কিন্তু মানুষের মনোজগতে এবং বিনোদন দুনিয়ায় তাদের আবেদন আজও অমলিন।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর