সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ঢাকা

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা ডেভিড এখন বিলিয়নিয়ার

ঢাকা মেইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৩ এএম

শেয়ার করুন:

খাবারের জন্য রক্ত বিক্রি করা ডেভিড এখন বিলিয়নিয়ার
ডেভিড ওয়ালেনটাস। ছবি: ইন্টারনেট

সফলতা কিংবা বিজয় জিনিসটা একটা অর্জন। এটা আকস্মিক কোনো ঘটনা নয় যে, ঝড় হলো আর বক মরে পড়ে গেলো। এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া, প্রস্তুতি, কঠিন পরিশ্রম আর অসীম অধ্যাবসায়েই কেবল এটি সম্ভব।  

সংগ্রাম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে ইতিহাসে অনেকেই দারিদ্র্যকে জয় করেছেন। সে রকমই এক নাম ডেভিড ওয়ালেনটাস। একসময় যিনি খাবারের জন্য নিজের রক্ত বিক্রি করেছিলেন, সেই মানুষটিই আজ বিলিয়ন ডলারের রিয়েল এস্টেট সাম্রাজ্যের মালিক। 


বিজ্ঞাপন


নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের জরাজীর্ণ নিম্নভূমিকে আধুনিক ও প্রাণবন্ত ডাম্বো এলাকায় রূপান্তর করে তিনি হয়েছেন এখন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

ফোর্বস জানিয়েছে, মহামন্দার সময় নিউইয়র্কের রচেস্টারে জন্ম নেওয়া ওয়ালেনটাসের শৈশব ছিল অত্যন্ত কঠিন। তার বাবা যখন স্ট্রোক করে পঙ্গু হয়ে পড়েন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ। সংসারের দায়িত্ব পড়ে মায়ের ওপর। আর্থিক সংকট এতটাই প্রকট হয়ে ওঠে যে, ছোট ভাইকে সহ তাকে কাছের একটি খামারে কাজ করতে পাঠানো হয়। ভোর পাঁচটায় উঠে গরু দোহন, খামারের কাজ, তারপর স্কুল—এই ছিল তাদের প্রতিদিনের জীবন। কঠিন সেই অভিজ্ঞতাই তাকে শিখিয়েছে—জীবনে সফল হতে হলে কষ্টকে আলিঙ্গন করতে হয়।

এই দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পেরিয়ে ওয়ালেনটাস শিখেছেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন-শিক্ষা। 

প্রথমত, তিনি বিশ্বাস করেন—যে কাজ অন্যরা করতে চায় না, সেখানেই সুযোগ লুকিয়ে থাকে। খামারের অভিজ্ঞতা তাকে এমন কাজ করতে সাহস দিয়েছে, যা অন্যরা এড়িয়ে চলে। একসময় তিনি গ্রিনল্যান্ডে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারের কাজও করেছেন। দিনে ১০ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন কাজ করেছেন নিরলসভাবে। এই মানসিকতাই তাকে পরবর্তীতে বড় বড় ঝুঁকি নিতে সাহায্য করেছে।


বিজ্ঞাপন


দ্বিতীয়ত, যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তা নিজের করা উচিত নয়। তিনি জীবনের প্রথম বিনিয়োগ করেছিলেন একটি ছোট খামারবাড়িতে। কিন্তু দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সেই বিনিয়োগ প্রায় ডুবে যায়। এখান থেকেই তিনি শিখেছিলেন, ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরবর্তীতে তার প্রতিষ্ঠান ‘টু ট্রিজ ম্যানেজমেন্ট’-এ সব সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা নিজেই নিয়ন্ত্রণে রাখেন।

তৃতীয় শিক্ষা—নতুন অভিজ্ঞতা জীবনের গতিপথ বদলে দিতে পারে। ইউনিভার্সিটি অব ভার্জিনিয়ার আরওটিসি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া ছিল তার জীবনের টার্নিং পয়েন্ট। সেখানে তিনি এমন এক সামাজিক পরিবেশে প্রবেশ করেন, যা তার চিন্তাধারাকে বিস্তৃত করে। নতুন মানুষের সংস্পর্শে এসে তিনি নিজের ভবিষ্যৎকে নতুনভাবে দেখতে শিখেন।

চতুর্থত—বড় ঝুঁকি নিতে হবে। ব্রুকলিনের ডাম্বো এলাকা একসময় ছিল অবহেলিত শিল্পাঞ্চল। ব্যাংকগুলো সেখানে বিনিয়োগ করতে অস্বীকৃতি জানায়। কিন্তু ওয়ালেনটাস নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে অটল থাকেন। ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সংগ্রহ করে এবং দীর্ঘ প্রশাসনিক লড়াইয়ের মাধ্যমে তিনি সেই এলাকাকে আজকের জনপ্রিয় আবাসিক ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রে রূপ দেন।

পঞ্চম শিক্ষা—নিজের অন্তর্দৃষ্টি অনুসরণ করা জরুরি। ১৯৬০-এর দশকে নিউইয়র্কে কাজ করার সময় তিনি বুঝতে পারেন, তার আসল আগ্রহ রিয়েল এস্টেটে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি ক্যারিয়ার পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন। তার মতে, তরুণ বয়সে ঝুঁকি নেওয়া উচিত—ব্যর্থ হলেও নতুন করে শুরু করার সুযোগ থাকে।

সবশেষে, জীবনের সঠিক সঙ্গী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি মনে করেন, তার জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি হলো তার স্ত্রীকে বিয়ে করা। তার স্ত্রী জেন তাকে শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, পেশাগতভাবেও সমর্থন দিয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি করতে সাহায্য করেছেন।

আজ ডেভিড ওয়ালেনটাস-এর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার। কিন্তু তার জীবনের আসল মূল্য শুধু এই অর্থ নয়—বরং সেই কঠিন পথচলার শিক্ষা, যা প্রমাণ করে, সংকটই মানুষকে সবচেয়ে বড় শক্তি দেয়।

টিএই/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর