শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ঢাকা

ইরান থেকে ইসরায়েলের দূরত্ব কত?

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ জুন ২০২৫, ০২:৩০ পিএম

শেয়ার করুন:

iran to israel distance

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের দ্বন্দ্ব নতুন নয়। একদিকে তেহরান, অন্যদিকে তেল আবিব—দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনা, পরমাণু কর্মসূচি, এবং সামরিক হুমকি প্রায়ই বিশ্ব সংবাদে স্থান পায়। কিন্তু অনেকেই বিস্মিত হন এই প্রশ্নে: ইরান আর ইসরায়েল কি প্রতিবেশি? দূরত্ব কত? আসলে ভূগোল বলছে ভিন্ন কথা।

এই প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হলো—ইরান ও ইসরায়েলের ভৌগোলিক দূরত্ব, মাঝখানে থাকা দেশগুলো, পারস্পরিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, এবং প্রতিবেশী রাজনীতির বাস্তব চিত্র।


বিজ্ঞাপন


ইরান থেকে ইসরায়েলের দূরত্ব ঠিক কত?

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সীমান্ত নেই। দুই দেশের রাজধানী (তেহরান থেকে তেল আবিব) প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার দূরে। এটি প্রায় ঢাকা থেকে দিল্লির দূরত্বের সমান! আকাশপথে এ দূরত্ব অতিক্রম করতে আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের কয়েক মিনিট সময় লাগে।

iran_vs_israel

মাঝখানে কোন কোন দেশ রয়েছে?

ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে একাধিক দেশ অবস্থান করছে। এই দেশগুলো ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনায় ভৌগোলিক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

ইরান ও ইসরায়েলের মাঝে থাকা দেশগুলো:

ইরাক

সিরিয়া

জর্ডান

লেবানন (আংশিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হিজবুল্লাহ এই অঞ্চলে সক্রিয়)

সৌদি আরব (আংশিকভাবে দক্ষিণ রুটে)

এছাড়া, মধ্যপ্রাচ্যের ভূখণ্ডে ঘুরিয়ে আনলে তুরস্ক ও মিশরও এক প্রকার ভৌগোলিক খেলোয়াড় হয়ে দাঁড়ায়।

আরও পড়ুন: বাঙ্কার বিধ্বংসী বোমা: যুদ্ধে অত্যাধুনিক গোপন এক অস্ত্র

ইরান ও ইসরায়েলের প্রতিবেশি দেশগুলো

ইরানের প্রতিবেশি দেশগুলো (১৫টি):

ইরাক

তুর্কমেনিস্তান

আজারবাইজান

আর্মেনিয়া

আফগানিস্তান

পাকিস্তান

তুরস্ক (আংশিকভাবে)

(বাকি সীমানা সমুদ্র বা উপসাগরের সঙ্গে)

ইসরায়েলের প্রতিবেশি দেশগুলো (৫টি):

লেবানন

সিরিয়া

জর্ডান

মিশর

ফিলিস্তিনি অঞ্চল (গাজা ও পশ্চিম তীর)

তাহলে এত দূর থেকেও কিভাবে হামলা সম্ভব?

দূরত্ব অনেক হলেও, উভয় দেশের সামরিক সক্ষমতা আধুনিক ও দূরপাল্লার।

inner_bomb

ইরান:

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র যেমন শাহাব-৩ (দূরত্ব ২,০০০ কিমি+)।

আঞ্চলিক মিলিশিয়া (হিজবুল্লাহ, সিরিয়ার কিছু গোষ্ঠী) দিয়ে ইসরায়েলের গা ঘেঁষে চাপ সৃষ্টি।

ইসরায়েল:

এফ-৩৫স্টেলথ ফাইটার দিয়ে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে বোমা ফেলা।

নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র যেমন জেরিকো সিরিজ, যা ইরান পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

প্রযুক্তি ও মধ্যস্থ আঘাত

এই অঞ্চলের যুদ্ধ এখন সরাসরি সীমান্তের ওপর নির্ভর করে না। ড্রোন, স্যাটেলাইট, সাইবার হামলা—সবকিছুই যুক্ত হয়েছে। ইরান-ইসরায়েল একে অপরকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ছে ভূখণ্ডের ভেতরে থাকা নিজেদের মিত্র গোষ্ঠী বা ছদ্মসংগঠন দিয়ে। ফলে যুদ্ধ সরাসরি না হলেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ছে তৃতীয় দেশের ভেতরে।

আরও পড়ুন: ক্লাস্টার বোমা কী, কেন বিতর্কিত এই অস্ত্র?

ইরান ও ইসরায়েল প্রতিবেশি নয়, তবে রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে একে অপরের একেবারে গা ঘেঁষে রয়েছে। তাদের সংঘাত শুধু নিজেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিশ্ব রাজনীতিকেও প্রভাবিত করছে। দূরত্ব যতই থাকুক, আধুনিক প্রযুক্তি আর ভূকৌশলিক অবস্থান মিলিয়ে এখন আর নিরাপদ দূরত্ব বলে কিছু নেই।

এজেড

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর