বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ঢাকা

গ্রামের শিশুরাও জড়াচ্ছে সাইবার অপরাধে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ নভেম্বর ২০২২, ০৯:১৯ পিএম

শেয়ার করুন:

গ্রামের শিশুরাও জড়াচ্ছে সাইবার অপরাধে
প্রতীকী ছবি

তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহের সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেকেই নানা ধরনের সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই শিশুরাও। উদ্বেগজনক তথ্য হচ্ছে, শহরের বাইরেও দিনে দিনে বাড়ছে শিশুদের সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ার হার।

গবেষণার তথ্য বলছে, গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৩৩ শতাংশ শিশু ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তাদের মাঝে কমপক্ষে একটি, দুটি বা তিনটি সাইবার অপরাধের প্রবণতা ছিল যথাক্রমে ৫৯ শতাংশ, ৩৮ শতাংশ এবং ২৬ শতাংশ।


বিজ্ঞাপন


দেশের গ্রামীণ এলাকার ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৬০ জন শিশুর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ‘শিশু স্বাস্থ্য, বিকাশ ও সুরক্ষা ' শীর্ষক ডেসিমেনেশন অনুষ্ঠানে বিগত পাঁচ বছরে শিশুদের নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন: ১৬ বছরের কম বয়সীদের হাতে মোবাইল না দেওয়ার পরামর্শ

অনুষ্ঠানে শিশু অধিকার এবং সুরক্ষা, অনলাইনে শিশু নির্যাতন, শৈশবের বিরূপ অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী স্বাস্থ্য সমস্যা, শিশু নির্যাতন বন্ধে মিডিয়ার ভূমিকা ও অসংক্রামক রোগ: শিশু বিকাশের অন্তরায় বিষয়ে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়।


বিজ্ঞাপন


বিশ্ব শিশু দিবস-২০২২ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ)' ‘শিশু স্বাস্থ্য, বিকাশ ও সুরক্ষা ' শীর্ষক পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, শিশুরা বেশি শিকার হয় এমন বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধের মধ্যে রয়েছে উৎপীড়ন, উপহাস, গুজব কিংবা অপমান (৩৫%)। অসৎ উদ্দেশ্যে বেনামে যোগাযোগ ( ২৯%), যৌন-নিপীড়নমূলক বার্তা কিংবা মন্তব্য (১১%)। এছাড়া যৌনতাপূর্ণ ছবি বা ভিডিও (১৭%)।

আরও পড়ুন: ডিভাইস ছাড়া খেতেই চায় না শিশুরা!

গবেষণায় যুক্ত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সরকারের নীতির কারণে, ইন্টারনেট ব্যবহারের হার অনেক বেড়েছে। ইন্টারনেট সম্পর্কে কম জ্ঞান এবং সঠিকভবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারার কারণে, অপরাধীরা ফেসবুক, মেসেঞ্জার, ইমো এবং হোয়াটসঅ্যাপের মতো অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শিশুদের নির্যাতন করতে সক্ষম হয়।

এদিকে ২০২১ সালে বাংলাদেশের শহর ও গ্রামের ৪৫৬ জন শিক্ষার্থীর (নবম ও দশম শ্রেণি) ওপর পরিচালিত আরেকটি গবেষণা থেকে পাওয়া যায়, ৫৬% কিশোর এবং ৬৪% কিশোরী ইন্টারনেট মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। শহরে শিশুদের মধ্যে ইন্টারনেটে যৌন নিপীড়নের ঘটনা গ্রামীণ শিশুদের চাইতে দেড় গুণেরও বেশি।

গবেষণায় পাওয়া যায়, যেসব শিশু ফেসবুক, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ এবং চ্যাটরুম ব্যবহার করে তাদের ইন্টারনেট মাধ্যমে যৌন নিপীড়নের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিভেন্টিভ অ্যান্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদের ডিন ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ শরিফুল ইসলাম।

বিইউ/জেবি

 

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর