আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদগুলোর তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তালিকায় কোনো ইউনিয়নের নাম বাদ পড়েছে কি না, পাশাপাশি আইনি জটিলতা, সীমানা বিরোধ কিংবা ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত কোনো সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে তথ্য পাঠাতে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি। আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে এসব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তার জেলাধীন সকল উপজেলার নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়ন পরিষদসমূহের তালিকা তার কার্যালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে প্রেরিত তথ্য অনুসারে প্রস্তুত করা হয়েছে (তালিকা সংযুক্ত)। সংযুক্ত তালিকায় তার আওতাধীন উপজেলাসমূহের নির্বাচন উপযোগী ইউনিয়নের নাম সঠিকভাবে তালিকাভুক্ত হয়েছে কি না, কিংবা আইনি জটিলতা/সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য ও বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী কোনো ইউনিয়নের নাম তালিকায় বাদ পড়েছে কি না তা পুনঃযাচাই করা প্রয়োজন।
এতে আর বলা হয়, যাচাইপূর্বক কোনো সংশোধন (ইউনিয়ন পরিষদের নাম, তারিখ, মামলা, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতা, ভোটার তালিকা পুনঃবিন্যাস বা অন্যকোনো তথ্য ইত্যাদি) থাকলে তা আগামী ০৮ নভেম্বর মধ্যে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-৩ শাখায় প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা হলো। সঠিক থাকলে সে বিষয়টিও লিখিতভাবে নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
ইসির ঘোষিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের রোডম্যাপ অনুযায়ী, প্রথম ধাপের ভোট ২১ জানুয়ারি, দ্বিতীয় ধাপের ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপের ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপের ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপের ভোট ২৭ মে অনুষ্ঠিত হবে।
জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরের আগে ২৮৯টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে তিন হাজার ৯৮১টি, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১১০টি এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মামলা, সীমানা জটিলতাসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে ১০৮টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়নি। দেশে মোট ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা চার হাজার ৫৮০টি। এর মধ্যে চলতি বছরেই তিন হাজার ৯৮১টি নির্বাচন উপযোগী হবে। বাকিগুলো ২০২৭ ও ২০২৮ সালের দিকে নির্বাচন উপযোগী হবে।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৩৯৭টি। এর মধ্যে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ৪২৫টি। এসব কেন্দ্রে স্থায়ী ভোটকক্ষ নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ১৫৯টি এবং অস্থায়ী ১৩ হাজার ৫৮০টি। সব মিলিয়ে ভোটকক্ষের সংখ্যা দুই লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি।
এমএইচএইচ/এসআই




