বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাদের একটি বড় অংশ চালক। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের রেনেসাঁ ঢাকা হোটেলে ‘জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন। বেসরকারি সংস্থা ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ‘সি টু বি সেফ’ উদ্যোগের আওতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত অবকাঠামো, কার্যকর আইন প্রয়োগ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি চালকদের সুস্বাস্থ্য ও ভালো দৃষ্টিশক্তি নিশ্চিত করাও জরুরি। একজন চালক যখন গাড়ির স্টিয়ারিং হাতে বসেন, তখন তার ওপর শত শত যাত্রীর জীবন নির্ভর করে। তাই চালকের দৃষ্টিশক্তি ঠিক রাখা মানে শুধু একজন মানুষকে সহায়তা করা নয়, অসংখ্য যাত্রীর জীবন সুরক্ষিত রাখার উদ্যোগ নেওয়া।
তিনি আরও বলেন, চালকদের লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের সময় দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা এবং নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ট্রাফিক আইন মেনে চলা, চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের ব্যবস্থা করতে হবে। নিরাপদ সড়ক গড়ে তুলতে সরকার, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন বলেন, বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় চশমার অভাবে দৃষ্টিজনিত সমস্যায় ভুগছেন। তাদের একটি বড় অংশ চালক। দৃষ্টিশক্তির সমস্যা সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে অন্যতম ঝুঁকির কারণ। তাই সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের নিয়মিত চোখ পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চশমা ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভিশনস্প্রিং ২০০৬ সাল থেকে বাংলাদেশে কাজ করছে। এ পর্যন্ত সংস্থাটি ৫০ লাখ মানুষের কাছে পড়ার চশমা পৌঁছে দিয়েছে। মানুষের দৃষ্টিশক্তির উন্নতির পাশাপাশি চালকদের চোখের সেবা নিশ্চিত করে দেশের সড়কগুলোকে আরও নিরাপদ করা সংস্থাটির অন্যতম লক্ষ্য।

ভিশনস্প্রিংয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে ৩০ হাজারের বেশি চালক ও পরিবহন শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করা হয়েছে। তাদের মধ্যে যাদের চশমার প্রয়োজন ছিল, এমন ২৪ হাজারের বেশি মানুষকে চশমা দেওয়া হয়েছে। ‘সি টু বি সেফ’ কর্মসূচির আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চোখের সমস্যার কারণে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশে দুই বছরের মধ্যে ৫০ হাজার বাস ও ট্রাকচালকের চোখ পরীক্ষা এবং ৩০ হাজার চশমা বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এই কর্মসূচি চালু করা হয়।
অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিংয়ের কার্যক্রম, লক্ষ্য ও প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়। নিরাপদে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে ভালো দৃষ্টিশক্তির গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা এবং ‘উন্নত দৃষ্টিশক্তির মাধ্যমে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়।
প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিশা মাহজাবিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মীর আহমেদ তারিকুল ওমর, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মশিউর রহমান। আলোচনা সঞ্চালনা করেন ভিশনস্প্রিংয়ের প্রকল্প পরিচালক শাহরোজ জলিল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এ ছাড়া পরিবহন খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালকদের চোখের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
এএইচ/এফএ




