বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

‘হামলা-আগুন-মব সন্ত্রাস, কোনো কিছুই উদীচীকে থামাতে পারবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম

শেয়ার করুন:

‘হামলা-আগুন-মব সন্ত্রাস, কোনো কিছুই উদীচীকে থামাতে পারবে না’
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে নৃত্য পরিবেশন করেছে নৃত্য সংগঠন ‘অংশী’

আগুন সন্ত্রাস, বোমা হামলা কিংবা তথাকথিত ‘মব সন্ত্রাস’— কোনো বাধাই উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক আন্দোলন থামাতে পারবে না বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংগঠনটির নেতারা। অতীত ও বর্তমানের নানা রক্তক্ষয়ী প্রতিকূলতার কথা স্মরণ করে তারা বলেছেন, দীর্ঘ পথচলায় বারবার আঘাত এলেও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার থেকে কখনোই পিছু হটেনি উদীচী।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা, এবার আমি গোলাপ নেব’— এই স্লোগানে বিকেল ৪টায় শুরু হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বর্ণাঢ্য আয়োজন। জাতীয় সংগীত ও সংগঠন সংগীতের সুরে জাতীয় পতাকা এবং উদীচীর পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন বাউল শেখ জামাল উদ্দিন (টুনটুন ফকির) এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করেন কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবীবুল আলম।

অনুষ্ঠানে উদীচীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আবৃত্তিকার বদরুল আহসান খান এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সংগীতদলের সদস্য তাজিম সুলতানাকে সম্মাননা জানানো হয়।

আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, সংস্কৃতি কেবল বিনোদনের অনুষঙ্গ নয়; বরং সমাজের অন্যায়, বৈষম্য, সাম্প্রদায়িকতা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। উদীচীর দীর্ঘ পথচলা সেই সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

সংগঠনটির ওপর অতীতের বিভিন্ন হামলার প্রসঙ্গ টেনে নেতারা বলেন, যশোরে উদীচীর সম্মেলনে বোমা হামলা চালিয়ে শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের হত্যা করা হয়েছিল। নেত্রকোনায় প্রাণ কেড়ে নেওয়া হয়েছিল আটজন শিল্পী ও কর্মীর। এমনকি গত বছর ১৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো অপশক্তিই উদীচীর আন্দোলন ও প্রতিবাদের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে পারেনি।

Udichi2

উদীচীর কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবীবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বাউল শেখ জামাল উদ্দীন (টুনটুন ফকির), সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ কাফি রতন, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মোহন রায়হান, লেখক ও গবেষক জাকির হোসেন এবং সুতপা বেদজ্ঞ, উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন এবং ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক রুমি দে। উদ্বোধনী পর্বটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ইকবালুল হক খান।

আলোচনার পাশাপাশি আয়োজনে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে আবৃত্তি করেন অনন্যা লাবণী পুতুল ও মাহমুদুল হাসান। অনন্দিতা খানের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্য সংগঠন ‘অংশী’।

Udichi

বাউল গান পরিবেশন করেন টুনটুন ফকির। এ ছাড়া দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন ফারহান এহসান আবৃতা, মায়েশা সুলতানা উর্বি এবং উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীরা। অনুষ্ঠানে তাজিম সুলতানার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠাকালীন ও বর্তমান প্রজন্মের সংগীতদলের শিল্পীদের যৌথ পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে।

১৯৬৮ সালের ২৯ অক্টোবর সত্যেন সেন ও রণেশ দাশগুপ্তের হাত ধরে প্রতিষ্ঠার পর থেকে গান, কবিতা, নাটক ও নৃত্যের মাধ্যমে প্রগতিশীল সমাজ বিনির্মাণের লড়াই করে আসছে উদীচী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন থেকে আগামী দিনে সেই লড়াই আরও বেগবান করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন সংস্কৃতিকর্মীরা।

আরএনবি/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর