বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

নজিরবিহীন শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা, চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ কনটেইনার তামাক জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম

শেয়ার করুন:

নজিরবিহীন শুল্ক ফাঁকির চেষ্টা, চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ কনটেইনার তামাক জব্দ
চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ কনটেইনার তামাক জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

চট্টগ্রাম বন্দরে মিথ্যা ঘোষণা ও অবমূল্যায়নের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে আমদানি করা ১০টি কনটেইনারে অপ্রক্রিয়াজাত কাঁচা তামাকের একটি বড় চালান জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর। জব্দ হওয়া এই ১০ কনটেইনারের প্রতিটিতে ২০ মেট্রিক টন তামাক ধারণক্ষমতা রয়েছে। সে হিসাবে, জব্দ হওয়া চালানে মোট ২০০ মেট্রিক টন তামাক রয়েছে।

বন্ড সুবিধায় ছাড়ের অপেক্ষায় থাকা এসব তামাক দিয়ে প্রায় ৪৯৪ কোটি টাকা মূল্যের প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন সম্ভব ছিল বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দেশে পর্যাপ্ত তামাক উৎপাদন হওয়া সত্ত্বেও বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তামাক আমদানি করায় এ নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরে এর আগে অবৈধভাবে আমদানি করা এত বিপুল পরিমাণ তামাকের চালান আটকের ঘটনা ঘটেনি। ১০টি কনটেইনারে থাকা ২০০ টন কাঁচা তামাকের এই চালান আটকের ঘটনায় শুল্ক ফাঁকি ও বন্ড সুবিধার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ কনটেইনার তামাক জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।
চট্টগ্রাম বন্দরে ১০ কনটেইনার তামাক জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, জব্দ করা এই কাঁচামাল দিয়ে আনুমানিক ২১ কোটি ৪৩ লাখ শলাকা উন্নতমানের সিগারেট তৈরি করা যেত, যার খুচরা বাজারমূল্য দাঁড়াত প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। 

‘গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আনা এই চালানের নথিপত্র পর্যালোচনায় মূল্যের মারাত্মক গরমিল শনাক্ত করা হয়েছে।

একই এইচএস কোডের কাঁচা তামাক প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলার দরে শুল্কায়ন হওয়ার নিয়ম থাকলেও প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১ দশমিক ৪৫ ডলার দর ঘোষণা করে। এর মাধ্যমে কেবল আমদানি শুল্কের ক্ষেত্রেই সরকারের প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকির অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, শুল্কমুক্ত বন্ড সুবিধার আওতায় আনা তামাকের সঠিক ব্যবহার এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদারকি নিশ্চিত না হলে আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা বাজারজাতকরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। পুরো চালানের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আমদানিতে পণ্যের মূল্য কম দেখানো এবং বন্ড সুবিধায় আনা তামাকের ব্যবহার যথাযথভাবে তদারকি না করা হলে রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি বাড়বে। এতে রাজস্ব ঘাটতির শঙ্কাও বাড়বে। তাই দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির প্রকৃত চাহিদা পর্যালোচনার পাশাপাশি বন্ড সুবিধার আওতায় তামাক আমদানি, ব্যবহার ও বাজারজাতকরণে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

এমআর/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর