ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও মৃত ব্যক্তির স্বজনরা। মায়ের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যেতে সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করতে পারেননি ডেমরা থেকে আসা মো. হৃদয়।
অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বোনকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করতে গিয়েও গাড়ি পাচ্ছেন না রেজাউল নামের আরেক স্বজন।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
হৃদয় জানান, তিন দিন আগে তার মাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে তার মা মারা যান। এরপর মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা করতে পারেননি।
হতাশা প্রকাশ করে হৃদয় বলেন, তিন দিন আগে আমার মাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলাম। আজ সকাল সাতটার দিকে আমার মা মারা যান। এরপর থেকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য চেষ্টা করছি। ১০টা ৩০ বেজে গেছে, এখনো কিছু ব্যবস্থা করতে পারছি না। আমরা তো দিশেহারা হয়ে পড়েছি। কী যে করব, বুঝে উঠতে পারছি না।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বোনকে অন্য হাসপাতালে নিতে গিয়েও একই সংকটে পড়েছেন রেজাউল নামের এক ব্যক্তি। তিনি জানান, তার বোন মাওয়া থেকে ঢাকাগামী একটি বাসে ছিলেন। পথে একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আরও পড়ুন: রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ৫৮১ জন গ্রেফতার
রেজাউল বলেন, তার বোনকে জরুরি ভিত্তিতে পঙ্গু হাসপাতালে নিতে হবে। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় তাকে স্থানান্তর করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, আমরা ৯৯৯-এ কল দিয়েছি এবং সরাসরি কথা বলেছি। তারা বলছে, গাড়ি চলবে না, আমরা যাব না। আমি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চেষ্টা করছি, কিন্তু গাড়ি পাচ্ছি না।
একদিকে মায়ের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার অপেক্ষা, অন্যদিকে গুরুতর আহত স্বজনকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ—অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়েছেন একাধিক পরিবারের সদস্যরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ধর্মঘটের কারণে সৃষ্ট এই সংকটে জরুরি রোগী স্থানান্তর ও মরদেহ পরিবহনের ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভুক্তভোগী স্বজনরা দ্রুত সমস্যার সমাধান এবং জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
এআরএম




