বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭ হামলা, মনোবল ফেরাতে উদ্যোগ

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ পিএম

শেয়ার করুন:

ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭ হামলা, মনোবল ফেরাতে উদ্যোগ
হামলা ঠেকাতে পুলিশকে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ। ছবি: এআই
  • হামলা ঠেকাতে বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশ
  • মনোবল ফেরাতে প্রশিক্ষণ ও মোটিভেশন
  • মব ঠেকাতে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপের তাগিদ

পুলিশের ওপর হামলা, দায়িত্ব পালনে বাধা এবং মব তৈরি করে সদস্যদের আক্রান্ত করার ঘটনা বাড়তে থাকায় মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এ ধরনের ঘটনা মোকাবিলায় দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের মনোবল ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণ, মোটিভেশন এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে সারা দেশে পুলিশের ওপর ৩১৭টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ বলছে, দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া ও হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্য ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ছয় মাসে পুলিশের ওপর ৩১৭ হামলা

পুলিশ সদর দপ্তরের নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পুলিশের ওপর ৪২টি হামলার ঘটনা ঘটে। ফেব্রুয়ারিতেও ৪২টি, মার্চে ৬৩টি, এপ্রিলে ৬৬টি, মে মাসে ৫৫টি এবং জুনে ৪৯টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আগে এ ধরনের হামলা মূলত ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান বা দুর্গম এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন দিনের আলোতে সমতল এলাকাতেও ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে গুজব ছড়িয়ে বা জনতাকে সংগঠিত করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আহত হচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সরকারি যানবাহন ও স্থাপনা।

যেসব ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলা

গত ২৪ অক্টোবর বিকেলে গোপালগঞ্জের রঘুনাথ ইউনিয়নের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকার সেতুসংলগ্ন বাজারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি মিছিল যাচ্ছিল। এ সময় চার সদস্যের একটি পুলিশ টহল দল বাজারে থামলে মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করেন এবং সদস্যদের মারধর করেন। লাঠি ও হকিস্টিক দিয়ে চালানো হামলায় এসআই ফুল মিয়া ও কনস্টেবল মাহবুবুর রহমান আহত হন। হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সদস্য বলে জানা গেছে।

এর আগে গত ৭ মার্চ যাত্রাবাড়ীতে ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় একদল হকার পুলিশ সদস্যদের হুমকি দেন এবং তাঁদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি বছরের ১ এপ্রিল যশোরের কেশবপুরের হিজলডাঙ্গা গ্রামে রাত দেড়টার দিকে পুলিশকে মারধর করে এক দণ্ডিত আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। জাহাঙ্গীর হোসেন নামের ওই আসামিকে গ্রেফতারের পর মসজিদের মাইকে পুলিশি নির্যাতনে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে পুলিশ সদস্যদের মারধর করেন এবং আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ ঘটনায় এসআই আসমত আলী, কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম ও কনস্টেবল হাবিবুল্লাহ আহত হন।

গত ২০ মে পল্লবীর বাউনিয়া বাঁধ বস্তির জি ব্লকে সরকারি জমি উদ্ধারে অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পুলিশের জন্য রিকুইজিশন করা চারটি বাসের কাচ ভাঙচুর করা হয়। এতে অন্তত ছয় থেকে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পাঁচজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।

গত ৮ জুন ঢাকার গেণ্ডারিয়ার ডিআইটি পুকুর এলাকায় রাজউকের অভিযানে একটি কথিত অবৈধ কার্যালয় উচ্ছেদ না করাকে কেন্দ্র করে বাধা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্যামপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম ও তাঁর সঙ্গে থাকা এক কনস্টেবল আহত হন। ওই কনস্টেবলের মাথায় আঘাত লাগে।

জুলাইয়ে হামলার ঘটনা বেশি

গত ৯ জুলাই বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলার ঘটনা ঘটে। এক আটক ব্যক্তির পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে—এমন গুজব ছড়িয়ে এ হামলা চালানো হয়। জানা গেছে, রিয়াজ ফকির নামের ওই ব্যক্তিকে আটকের পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শত শত মানুষ মিছিল নিয়ে থানার দিকে যান। থানা ঘেরাও করে পুলিশ সদস্যদের মারধর ও থানা ভাঙচুর করা হয়। পুলিশ লাঠিপেটা করলে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন, তাঁদের মধ্যে ছয়জন পুলিশ সদস্য। পরে হামলায় জড়িত ৬০ জনকে শনাক্ত করা হয় এবং ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গত ১৬ জুলাই পাবনার সুজানগরে জনতা জড়ো করে পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে ওসি ও এক কনস্টেবল আহত হন। পুলিশের দুটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।

গত ১৯ জুলাই কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় প্রায় ৫০ জনের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এ সময় হাতকড়া পরা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়।

গত ২৩ জুলাই মোহাম্মদপুরের কাদেরাবাদ হাউজিংয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার কর্মকর্তা ওসমান গনিকে কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে তাঁর পিঠে ৪৫টি সেলাই দিতে হয়।

এর দুই দিন পর, ২৫ জুলাই চট্টগ্রামের আমবাগানে মাদক মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এসআই মবিনুল ইসলাম ছুরিকাঘাতে আহত হন।

পরদিন ২৬ জুলাই ঢাকার জুরাইনের কদমতলীতে উচ্ছেদ অভিযানের সময় পুলিশের ওপর হামলা হয়। এ সময় এক কর্মকর্তাকে জুতা দিয়ে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় পরে দুজনকে আটক করে পুলিশ।

গত ৫ সেপ্টেম্বর সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশী মদিনা হাউজিংয়ে পুলিশের বিশেষ শাখার উপপরিদর্শক আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। আলতাফ হোসেন ও তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলাম একটি বিরোধ থামাতে গেলে ১০ থেকে ১৫ জন তাঁদের ওপর হামলা চালান। দুজনকেই লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে গুরুতর আহত হন। পরে নিহতের স্ত্রী ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় প্রধান অভিযুক্তসহ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করা হয়।

গত ২২ সেপ্টেম্বর আদাবরের নবোদয় হাউজিংয়ের কাঁচাবাজারের পেছনে খালসংলগ্ন এলাকায় বাড়ি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির মামলার আসামিদের গ্রেফতার করতে অভিযান চালায় পুলিশ। রাত আড়াইটার দিকে চালানো এ অভিযানে পুলিশের ওপর চাপাতি দিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়। পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করলে আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়। এতে দুই অভিযুক্তের পায়ে আঘাত লাগে। অভিযানে ১০ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদাবর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করার অভিযানের সময় একটি দোকানে আগুন লাগার পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একদল হকার পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়। একটি পুলিশ গাড়ি ও একটি এক্সকাভেটর ভাঙচুর করা হয়। পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সেদিন সকাল নয়টা থেকে দুপুর পর্যন্ত মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪, হোপ মার্কেট ও বায়তুল কুদ্দুস মসজিদসংলগ্ন এলাকায় সংঘর্ষ চলে। এতে আট থেকে নয়জন পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে মিরপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আবুল বাশার মোল্লা জানান, উচ্ছেদ অভিযান চলবে এবং হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৬৩টি মব-সংশ্লিষ্ট ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ৪০ জন নিহত ও ৬৫ জন আহত হয়েছেন।

পুলিশ সদর দপ্তর যা বলছে

পুলিশের আইনানুগ দায়িত্ব পালনে বাধা ও মব সহিংসতার ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া, মামলার তদন্ত ও তদারকি জোরদার করতে মাঠপর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযান পরিচালনা এবং দায়িত্ব পালনের সময় বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অপরাধ দমনে জনগণের সহযোগিতা বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করার কথাও জানিয়েছে সদর দপ্তর।

পুলিশের কাজে বাধা দিয়ে মব তৈরি করে হামলার ঘটনায় সদস্যদের মনোবল ভেঙে পড়ছে কি না এবং তা ফেরাতে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া বিভাগের এআইজি কামারুন মুনিরা ঢাকা মেইলকে বলেন, পুলিশ সদস্যদের মনোবল, পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও কর্মদক্ষতা বাড়ানো এবং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে মোটিভেশনাল ও ইন-সার্ভিস প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম সম্প্রসারণ, জনসচেতনতামূলক সভা, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতি প্রদান।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, মানসিক সুস্থতা, উন্নত কর্মপরিবেশ এবং পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদারকি বাড়ানো এবং আইনানুগ দায়িত্ব পালনের সময় সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মব নিয়ন্ত্রণে নিরপেক্ষ আইনি পদক্ষেপ জরুরি

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, এমন একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখা হয়, যেখানে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে এবং প্রত্যেক নাগরিক ন্যায়বিচার পাবেন। এমন রাষ্ট্রে মব তৈরি করে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কিন্তু এত কিছুর পরও মব হচ্ছে কেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে।

তিনি বলেন, মবের অন্যতম কারণ হলো, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও কেউ ন্যায়বিচার না পেলে বিচারব্যবস্থার প্রতি তাঁর আস্থাহীনতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কেউ কেউ নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়ার পথ বেছে নেন। তবে ন্যায়বিচার না পাওয়ার ক্ষোভ কখনোই মব সৃষ্টি বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বৈধতা দিতে পারে না।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় সম্পর্কে তিনি বলেন, মবের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ও সামাজিক পর্যায়ে সোচ্চার অবস্থান থাকলেও তা কার্যকরভাবে কাজে আসছে না। শুধু মৌখিক সদিচ্ছা কিংবা বক্তব্য দিয়ে মব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এসব সদিচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে হবে।

তৌহিদুল হক বলেন, অতীতেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা বিভিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে মব তৈরি হয়েছে। এখনো হচ্ছে, তবে ব্যক্তি, সময় ও প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ঘটেছে। পরিস্থিতি বদলালেও মবের প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। এটি নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আইনগত পদক্ষেপ—দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি রয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য পুলিশকে আরও জোরালো ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে বলে মনে করেন এই অপরাধ বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, যারা মব তৈরি করে, হামলায় অংশ নেয় কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় যা-ই হোক না কেন, নিরপেক্ষভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এমন নজির প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে স্পষ্ট বার্তা যায়—মব সৃষ্টি করে কেউ আইনের আওতা থেকে রেহাই পাবে না। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতা যেন অপরাধীদের সুরক্ষা দিতে না পারে।

তিনি আরও বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আরও কঠোর, নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল হতে হবে। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে জনগণের মধ্যে আইনের প্রতি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। মব নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ন্যায়বিচারের কার্যকর পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি।

এমআইকে/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর