দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানের নানা ঘটনাবলি নিয়ে বেশকিছু অপতথ্য বা গুজব ইন্টারনেটে ছড়িয়েছে, এমন ৪১টি অপতথ্য শনাক্ত করেছে রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশ। অপতথ্য শনাক্ত করার পাশাপাশি এসব ঘটনায় প্রকৃত তথ্যও তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
রিউমর স্ক্যানার বলছে, ‘পূজামণ্ডপে গিয়ে কিশোরী নিখোঁজ, বিএনপি-জামায়াতের আমলে সংখ্যালঘুরা নিরাপত্তাহীন’- এমন অপতথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়েছে।
তবে ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, পূজা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ কিশোরীকে সিলেটে তার পিসির বাড়িতে পাওয়া গেছে। পুলিশ জানায়, বাবার সঙ্গে রাগ করে সে সেখানে চলে গিয়েছিল এবং সুস্থ আছে।
‘দুর্গাপূজা চলাকালে বাংলাদেশে হিন্দুদের বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’- এমন অপতথ্যও ইন্টারনেটে ছড়িয়েছে।
তবে ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, এটি বগুড়ার একটি তেলের পাম্প স্টেশনে আগুন লাগার ঘটনা। গত ১৩ অক্টোবর বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা বাজারসংলগ্ন আলোমনি ফিলিং স্টেশনে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
‘বাংলাদেশের মুসলমান করছে পূজা আর ভারত ভাঙছে মসজিদ।’, এই অপতথ্যের ফ্যাক্ট চেকে দেখা গেছে, ‘ঘটনাটি ভারতের নয়, বাংলাদেশের। গত সেপ্টেম্বরে পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাঙচুর চালায় ক্ষুব্ধ জনতা। এটি সে ঘটনার ভিডিও।’
‘তার অপরাধ ছিল যে সে হিজাব পরেনি। তাই এক ব্যক্তি তাকে নির্মমভাবে মারধর করল।’- তবে ফ্যাক্ট চেকে রিউমার স্ক্যানার বলছে, ‘হিজাব সংক্রান্ত কোনো ঘটনায় শিশুটি মারধরের শিকার হয়নি৷ গত ৩ অক্টোবর মিরপুর-১ নম্বরে এক নিরাপত্তাকর্মী ওই বাচ্চা মেয়েকে মারধর করে।’
‘প্রবাসী অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের দাবি রুটি চুরির অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়৷ তবে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রিপন মণ্ডল নামের ওই নিরাপত্তাকর্মী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে দাবি করেন, শিশুটি মার্কেটের একটি দোকান থেকে মুঠোফোন চুরি করেছে। এ জন্য তিনি তাকে পিটিয়েছেন।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘ভিডিওটিতে বাংলাদেশে একটি লাগেজের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি মৃতদেহ দেখানো হয়েছে, যা সম্ভবত হিন্দু সম্প্রদায়ের একজন নারীর।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি বাংলাদেশের ঘটনা নয়৷ ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের কলকাতায় সুমিতা ঘোষ নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা এটি।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘দূর্গা দেবী নিয়ে আমাদের পিরে কামেল বিশিষ্ট দূর্গা চিন্তাবিদ শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সাহেব পবিত্র মসজিদে বসে একি বক্তব্য দিলেন সারা দেশে তুলপার। ’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘মসজিদে নয়, পূজা উদযাপন পরিদর্শনে গিয়ে “অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেবী দুর্গা চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিল” শীর্ষক মন্তব্য করেন শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। গত ১৯ অক্টোবর শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের চৌপল্লী বারাহী মন্দির পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এই মন্তব্য করেন তিনি। উক্ত মন্তব্যের অডিও মসজিদের বক্তব্যের ভিন্ন ভিডিওতে যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।’
দুর্গাপূজার সময় আরও যত অপতথ্য ছড়াল
ইন্টারনেটে দাবি- ‘পূজামণ্ডপে হিন্দুদের চেয়ে মুসলিম দর্শনার্থীই বেশি! দাড়ি-টুপি পরে কেউ কেউ এমন আচরণ করেন, যা খুব বিব্রতবোধ লাগে। আমাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আপনারা কেন আসেন?’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘আইডিটি ভুয়া। মূলত, নিতু যাদব নামে ভারতীয় এক নারীর ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইল থেকে ছবি ব্যবহার করে আইডি গত সেপ্টেম্বরে চালু হয়। এতে নিয়মিত ভুয়া তথ্যের সাথে নিতুর ছবি ব্যবহার করে পোস্ট হচ্ছে।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশে দিনের আলোয় এক হিন্দু মেয়েকে টেনেহিঁচড়ে অপহরণ করা হচ্ছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি গত মে মাসে পাকিস্তানের একটি অপহরণের ঘটনার। সে সময়ও এটি বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে প্রচার হয়েছিল।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘দুর্গাপূজা শুধু হিন্দুদের নয়, এটি আমাদের ও উৎসব: জামাত নেতা আব্দুল্লাহ তাহের।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের এমন কোনো মন্তব্য করেননি। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেও ভুয়া এই দাবির প্রচার নিয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘ঢাকায়, বিএনপি নেতা—যিনি ‘বড়াইখালি ডেইরি অ্যান্ড এগ্রো’-এর মালিক—তার ছেলে প্রকাশ্যে এক হিন্দু নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করেছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। অন্তত গত বছরের অক্টোবর থেকে ভিডিওটি অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। এটি কোন জায়গার, এর সাথে আদৌ সাম্প্রদায়িক কোনো কারণ জড়িত কিনা বা ভিডিওর দুই ব্যক্তির মধ্যে কী সম্পর্ক এবং কী কারণে এই ঘটনা সে বিষয়ে এখনও জানা যায়নি।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘জিজিয়া কর না দেওয়ায় ইসলামপন্থীরা একটি বাংলাদেশি হিন্দু পরিবারের ৩টি গরু ও একটি বাছুর চুরি করে নিয়ে গেছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। গত আগস্টে যশোরের অভয়নগর থানায় এক হিন্দু পরিবারের বাছুরসহ ৪টি গরু চুরি হয়। এটি সে ঘটনার ভিডিও।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘নবী-রাসূল নয় দেব দেবীরাই পৃথিবী থেকে অন্যায় দূর করেছেন- রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘রাষ্ট্রপতি এমন মন্তব্য করেননি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে গত ১৮ অক্টোবর ঢাকার রমনা কালী মন্দিরে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মূলত বলেন, বাংলাদেশের শুধু নয় সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায় অত্যাচার নিপীড় নির্যাতন নেমে এসেছিল তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল। মূল দর্শনটি হচ্ছে যে অন্যায় অত্যাচার নিপীড়নের বিরুদ্ধে অসততার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং তাকে পরাজিত করা এটাই হচ্ছে এই পূজার মূল দর্শন। এবং আমরা যারা বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে এটা বারবার এই দেশে আমাদেরকে এই অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ সেইভাবেই তাদেরকে পরাজিত করেছে।’
ইন্টারনেটে দাবি: ‘বাংলাদেশে চাঁদা না দেওয়াতে হিন্দু বাড়িতে আগুন।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘গত ২২ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামির বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের পর ২৬ সেপ্টেম্বর এক অভিযুক্তের বাড়িতে এলাকাবাসী আগুন দেয়। এই ভিডিওটি উক্ত ঘটনার।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ৩০-এর অধিক হিন্দু বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ধর্ষণ অভিযোগকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহে অভিযুক্তদের বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনার ভিডিও এটি। ২২ সেপ্টেম্বর সকালে চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় প্রধান আসামি শরীফের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। পরে সন্ধ্যায় একই মামলার আসামি ফাহিম, রাজিব ও এনামুলের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘জামাত নেত্রীর পূজা উদযাপনের দৃশ্য।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভারতের বারানসিতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রচারে মুসলিম নারীরা দীপাবলি উদযাপন ও ভগবান রামের আরতিতে অংশ নেন। গত বছরের অক্টোবরের এই দৃশ্যকে বাংলাদেশের ঘটনা দাবিতে প্রচার হচ্ছে।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশ কুমারঘাট হিন্দু গিরেন্দ্র দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করে ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনা ভারতের। গত ০৭ অক্টোবর ত্রিপুরার কুমারঘাটে নিজ বাড়িতে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয় গিরিন্দ্র দাস নামে এক ব্যক্তিকে। ঘর থেকে উধাও হয় ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকার স্বর্ণালঙ্কার।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘এই মুসলিম ব্যক্তি বাংলাদেশে একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপ ও একটি হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর চালিয়েছেন। তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওর ব্যক্তি কোনো মণ্ডপ বা মন্দির ভাঙচুরের অভিযোগে গ্রেফতার হননি। সম্প্রতি সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় করা মামলায় ফজলুল হক আমিনী নামের এই ব্যক্তিকে প্রধান আসামি করা হয়। এর প্রেক্ষিতে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘ভারতে পূজা মণ্ডপে মুসলিম মহিলা যাওয়ার কারণে হিন্দুরা পিটিয়ে হত্যা করেছে। – ডিবিসি নিউজের ফটোকার্ড’ তবে ফ্যাক্ট বলছে, ‘ডিবিসি নিউজ এমন কোনো সংবাদ দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে, গতকাল “গাইবান্ধায় পূজামণ্ডপে দায়িত্ব পালনকালে অসুস্থ হয়ে নারী আনসার সদস্যের মৃত্যু” শিরোনামে ডিবিসি নিউজ প্রকাশিত একটি ফটোকার্ডের শিরোনাম বদলে আলোচিত শিরোনাম জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। যে নারীর ছবি ফটোকার্ডে দেখা যাচ্ছে, তার নাম পারভীন বেগম।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের বাঁচান। তারা মুসলমানদের দ্বারা গণহত্যার শিকার হচ্ছে এবং তাদের নারীদের বন্দী করে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে- ঠিক যেমনটা আমাদের ক্ষেত্রে ইরাকে ঘটেছিল।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি ২০২৪ সালের জুলাইতে কোটা বিরোধী আন্দোলনের সময় ঢাকার বেগম বদরুন্নেসা কলেজে ছাত্রলীগ কর্মীদের বেঁধে রাখার দৃশ্য। পোশাক অনুযায়ী এরা মুসলিম ধর্মাবলম্বী এবং এই ঘটনার সাথে সাম্প্রদায়িকতার কোনো সম্পর্কও ছিল না।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘নেত্রকোনায় ধর্ম অবমাননার মিথ্যা অভিযোগে উগ্র ইসলামপন্থী জনতা হিন্দুদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে এবং হিন্দুদের ওপর নির্যাতন করেছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি গত জুলাইয়ের ঘটনা। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে দুই যুবকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে উত্তেজিত জনতার হামলায় অভিযুক্তদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এটি সেই ঘটনার ভিডিও।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশের উজিরপুরে দুর্গাপূজা উদযাপনের সময় ইসলামপন্থীদের দ্বারা হিন্দুরা আক্রান্ত হয়েছেন।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের ঘটনা। Swapna Das নামে এক ভারতীয় নারীর প্রোফাইলে মূল ঘটনা নিয়ে একাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। তিনি জানান, উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ মহকুমার গাইঘাটায় একটি প্রতিমা গাড়িতে তুলতে গিয়ে তা পড়ে যায়। এটি সে সময় ধারণ করা ভিডিও৷’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘মুসলিম পুরুষেরা প্রদর্শন করছেন যে, যেসব নারী হিজাবকে নিজেদের পছন্দ হিসেবে গ্রহণ করতে অস্বীকার করবেন, তাদের কী পরিণতি হবে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি ২০২৫ সালের ভিন্ন ঘটনার ফুটেজ। জুলাইতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে নারী প্রতিকৃতি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে প্রতিবাদ জানায় ‘জাগ্রত জুলাই’ নামে একটি সংগঠন। সংগঠনটি জানায়, প্রতিকৃতিটি ‘শেখ হাসিনার’। ওই প্রতিকৃতিতে জুতাপেটা করা হয়।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘দুর্গাপূজার উৎসব চলাকালীন সময়েও বিএনপি-জামায়াত হিন্দু হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা থেকে বিরত থাকেনি। বাংলাদেশে ২ জন হিন্দু চিকিৎসকের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং তাদের ওপর নৃশংস নির্যাতন করা হয়েছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি মূলত ছিনতাইয়ের ঘটনা। গত ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের ভূজপুরে চা-বাগানের সহকারী ম্যানেজার নেপাল দাস ও পল্লি চিকিৎসক বাবুল দাসের ওপর ধারালো ছুরি দিয়ে হামলা চালিয়ে তাদের কাছে থাকা শ্রমিকদের বেতন ও পূজার বোনাসের ৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে মাত্র ৩ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘নিম্নবর্ণের হিন্দু মহিলার সাথে উচ্চবর্ণের মহিলার ধাক্কা লাগছে তাই মন্দির থেকে বের করে দিছে নিম্ন হিন্দু মহিলাকে। এটাই ওদের ধর্ম।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি একটি ইউটিউব ভ্লগের অংশ। Sonali Nag নামে একটি ভারতীয় প্রোফাইলে ভিডিওটির একই ভার্সন পাওয়া যায়। পোস্টটির ক্যাপশনের সূত্র ধরে Pinky Dhibar Official নামে ভারতীয় একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ইউটিউব চ্যানেলে পুরো ভিডিওটি পাওয়া যায়। এতে ১৯২৬ সালের একটি ঘটনার দৃশ্যায়ন হিসেবে উক্ত অংশটি বানানো হয়৷’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘সনাতনী হয়ে বাংলাদেশে কি অপরাধ করেছি আমরা আজ বাড়িঘর লুটপাট করে নিচ্ছে ভাঙচুর করছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনাটির সঙ্গে সাম্প্রদায়িক কোনো সম্পর্ক নেই। গত ২৮ আগস্ট ময়মনসিংহে মাদক কারবারের অভিযোগে ভাঙচুরের ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী নাজিরুল মুসলিম।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘আবারো বাংলাদেশের হিন্দুদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনাটির সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো সম্পর্ক নেই। গত সেপ্টেম্বরে ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় আসামি গ্রেফতার এবং দ্রুতবিচারের দাবিতে মানববন্ধন করে গ্রামবাসী। এরপর উত্তেজিত জনতা ধর্ষকদের (শরিফ, আরিফ, রাজিব, ফাহিম ও এনামুল) বসতবাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করেন। এরা সকলেই মুসলিম৷’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘এ বছর দুর্গাপূজার আগেই বাংলাদেশে ৩০টিরও বেশি মণ্ডপে হামলা চালানো হয়েছে।’ তবে ফ্যাক্ট বলছে, ‘এই ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ২০২১ সালের অক্টোবরে চৌমুহানির লোকনাথ মন্দিরের কাছে একটি অস্থায়ী প্যান্ডেলে এই ভাংচুরের ঘটনাটি ঘটে।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশে পূজা হতে দিচ্ছে না।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ২০২১ সালের অক্টোবরে পুরান ঢাকার ওয়ারী এলাকায় শ্রী শ্রী রাধাগোবিন্দ জিউ মন্দির কমিটি ওয়ারী ৩৮ টিপু সুলতান রোডে একটি পুরোনো ভবনে পূজামণ্ডপ করতে গেলে বাধা দেয় সেখানকার ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়রা। পরে দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হয়। সে সময় সুমন গোস্বামী পুলক নামে এক ব্যক্তি এই ভিডিও ধারণ করেন।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘সম্প্রতি দুর্গাপূজার আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা ভাঙচুর, মন্দিরে হামলা ও সংঘাত-সহিংসতার ৩৪টি ঘটনা ঘটেছে বলে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যে অভিযোগ করেছে এটি তাদের মধ্যে একটি।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি পাঁচ বছরের পুরোনো। ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবরে চাঁদপুরের হবিগঞ্জে একটি মণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনা এটি।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘হিন্দুদের দেব-দেবীর নামে অবমাননাকর মন্তব্য সিলেটে মাদ্রাসা ছাত্রকে ধাওয়া দৌড়ে আশ্রয় নিলো দোকানে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘সিলেটে সম্প্রতি এমন কিছু ঘটার খবর স্থানীয় গণমাধ্যম এবং নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোয় পাওয়া যায়নি। আলোচিত ফটোকার্ডটিতে সিলেট এক্সপ্রেস নামের একটি গণমাধ্যমের নাম উল্লেখ পাওয়া যায়৷ এই নামে একটি গণমাধ্যম থাকলেও গণমাধ্যমটির পক্ষ থেকে রিউমর স্ক্যানারকে জানানো হয়েছে, তাদের পেজের নামের মতো হলেও ফটোকার্ড বা ফটোকার্ডের লোগো তাদের নয়। আর এমন ঘটনার বিষয়েও তারা কিছু জানেন না।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ৬ টি বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিলো মৌলবাদীরা।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনা ১৬ সেপ্টেম্বরের। সেদিন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচ পরিবারের বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মোবারক আলী তালুকদারের বাড়িতে লাগা এই আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। কিছু বাড়িঘর আগুনের হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হলেও ওই বাড়ির প্রতিভা রানী নাথের ভাড়াটিয়া খোকন মজুমদার, মিলন দে, তপু দাশের ঘর পুড়ে যায়। অর্থাৎ, অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনার ক্ষতিগ্রস্তদের হিন্দু ও মুসলিম উভয় ধর্মাবলম্বীই রয়েছেন।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশি_হিন্দুদের মন্দির ভাঙচুর! দুর্গাপূজার এক সপ্তাহ আগে, ভয়ভীতি প্রদর্শন যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি কোনো মন্দিরে হামলার ঘটনা নয়। গত এপ্রিলে কুষ্টিয়ায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর নামের এক কথিত পীরকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। উত্তেজিত জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এটি সেই ঘটনার ভিডিও।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘মূর্তি বানাতে হলে হিন্দুস্তানে যাও বাংলাদেশে তোমাদের কোনো জায়গা নেই!’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি গত ১৩ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশের এক মন্দির প্রাঙ্গনে মন্দিরে আসা প্রণামীর টাকা ভাগাভাগি এবং আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হওয়া সংঘর্ষের ঘটনার দৃশ্যের।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘খুলনায় ইসলামপন্থীদের হাতে হিন্দু পুলিশ এএসপি সুমন কুমার নিহত হয়েছেন।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টের। ০২ আগস্ট খুলনায় ছাত্র-জনতার গণমিছিল চলাকালে সংঘর্ষে সুমন কুমার ঘরামী নামের এই পুলিশ কনস্টেবল নিহত হন।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘জিজিয়া কর না দেওয়ায় ইসলামপন্থীরা এক বাংলাদেশি হিন্দু পরিবারকে তাদের নিজেদের বাড়িতেই অবরুদ্ধ করে রেখেছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ঘটনাটি গত জুলাইয়ের। খুলনায় এক হিন্দু পরিবারকে ঘরে তালা মেরে আটকে রাখার সে সময়ের এই অভিযোগটি মূলত জমি-সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে বলে জানায় পুলিশ।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘ভারতে শতায়ু বৃদ্ধকে নির্মম নির্যাতন করছে হিন্দু চরমপন্থীরা।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি কোনও বাস্তব ঘটনার ভিডিও নয়। ভারতের একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্ক্রিপ্টেড কনটেন্ট, যা গত ডিসেম্বরে প্রকাশ করা হয়।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘হিন্দু ব্যাবসায়ীকে গাছে বেধে কুপিয়ে হত্যা,,,মুসলীম উগ্রবাদী জীহাদীদের,,, তালাথানা-উপজেলা, সাতক্ষীরা-জেলা, বাংলাদেশ।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘মাছ চুরি সন্দেহে ক্ষিতীশ মণ্ডল নামের ওই ব্যবসায়ীকে গাছে বেঁধে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিশ্বনাথ ঘোষ, শিমুল ঘোষ, সমর ঘোষ, ইব্রাহিম খাঁ, হাবিবুর গাজী ও গফফার শেখসহ ১০ থেকে ১৫ জন জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। অর্থাৎ, অভিযুক্তদের মধ্যে হিন্দু ধর্মাবলম্বীও রয়েছেন।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘হিন্দুদের একাধিক ঘরবাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে উগ্রবাদী মুসলীম,, কফিলউদ্দিন, চাটগাহ, বাংলাদেশ।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি গত আগস্টে রাঙ্গামাটিতে তিন মুসলিম ব্যবসায়ীর কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশে হিন্দু শিক্ষার্থীদের স্কুলে গীতা পাঠ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘এটি গত এপ্রিলের ঘটনা। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজের একটি অনুষ্ঠানে গীতা পাঠকে ঘিরে একাধিক শিক্ষিকার বক্তব্যের ভিডিওটি সে সময় ভাইরাল হয়। পুরোনো এই ভিডিও সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।’
ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশে আবারও হিন্দু হত্যা।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি গত জুলাইয়ের। এটি সে সময় ফেসবুক ও টিকটকে পোস্ট করেন মুসলিম কনটেন্ট ক্রিয়েটর আসমা আক্তার। এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে থাকলেও ভুক্তভোগীরা ছিলেন মুসলিম, হিন্দু নন।’
রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইন্টারনেটে দাবি- ‘বাংলাদেশে দুর্গাপূজা বন্ধের সম্প্রতি দাবিতে মিছিল হয়েছে।’ তবে ফ্যাক্ট চেক বলছে, ‘ভিডিওটি ২০২৪ সালের। সে সময় ঢাকার উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ঈদগাহ মাঠে দুর্গাপূজার আয়োজন না করে অন্য স্থানে পূজামণ্ডপ সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে মিছিল হয়। পরে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের রবীন্দ্র সরণিতে (মুগ্ধ চত্বর) দুর্গাপূজা আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়। সেখানেই দুর্গাপূজা হয়েছিল।’
এএম




