পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুন নির্বাপণের কার্যক্রম চলমান থাকায় এখনই এর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় তদন্তের মাধ্যমে আগুন লাগার কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান।
তিনি জানান, আগুনের ঘটনায় ভবনে বিদ্যুতের লাইন থাকায় শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত যাদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তাদের কেউই আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি।আগুন নির্বাপণের কার্যক্রম শেষ হলে এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তের পরই আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
কাজী নজমুজ্জামান বলেন, মানুষের আশঙ্কা অনুযায়ী পুরো মার্কেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। মূলত ভবনের ছয়তলা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাততলায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণে আশপাশের মার্কেটগুলোকে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, মনসুর খান প্লাজার ছয়তলায় ১২ থেকে ১৪টি বড় গোডাউন রয়েছে। এর মধ্যে সাত থেকে আটটি গোডাউনে আগুন লেগেছিল। এসব গোডাউনে ছাতা, কসমেটিকস, আতরের বোতল, আতরসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল মজুত ছিল। গোডাউনগুলো মালামালে পূর্ণ থাকায় সেগুলো সরিয়ে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে সময় লাগছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তিনি বলেন, কত টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ বলতে পারবে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে আরও কিছুটা সময় লাগবে।
আগুন নির্বাপণের অগ্রগতি সম্পর্কে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, এখনো ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। বিভিন্ন গোডাউন পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি মালামাল সরানো ও পানি দেওয়ার কাজ চলছে।
তিনি আরও বলেন, মালামাল না সরিয়ে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব নয়। কারণ, মালামালের নিচে জমে থাকা তাপ ও ধোঁয়া থেকে আবার আগুন ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ কারণে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ না হওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে অবস্থান করবেন। আগুন সম্পূর্ণ নিভিয়ে ফেলার আগে চলে গেলে পুনরায় আগুন জ্বলে ওঠার আশঙ্কা রয়েছে।
এমআইকে/এআরএম




