চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে ফায়ার সার্ভিসকে। সরু রাস্তা, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পৌঁছাতে দেরি, ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত পথ না থাকা এবং শাটার ভাঙতে বেগ পেতে হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ব্যাহত হয়। এ ছাড়া পানির উৎসও ছিল সীমিত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে আগুনের সবশেষ অবস্থা তুলে ধরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ঢাকা বিভাগের সহকারী পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান এসব কথা জানান।
তিনি আরো জানান, আগুনের ঘটনায় ভবনের ভেতরে এখন আর আগুন নেই। তবে পুরোপুরি নির্বাপনে আনতে আরও সময় লাগবে।
কাজী নজমুজ্জামান বলেন, গতকাল বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লালবাগ থেকে দুটি ইউনিট, সদর দপ্তর সিদ্দিকবাজার থেকে দুটি ইউনিট এবং পলাশী থেকে আরও দুটি ইউনিটসহ মোট ছয়টি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন, ছয় ও সাততলায় প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপ। এর মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের কৌশল প্রয়োগ করে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ছয়তলায় থাকা গোডাউনগুলোতে শাটার ও তালা লাগানো ছিল। প্রতিটি গোডাউনে চার-পাঁচটি তালা ছিল। ভেতরে ক্রসফায়ার গেটেও তালা লাগানো ছিল। প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের মধ্যে এসব তালা কেটে আগুন নেভানোর কাজ করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত শেষে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।
তিনি আরও বলেন, আগুন নেভানোর সময় প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে ফায়ারফাইটাররা কাজ করেছেন। একজন সদস্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট কাজ করার পর তাকে সরিয়ে অন্য সদস্যকে পাঠানো হয়েছে। এভাবে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জনবল নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করা হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের চার সদস্য আহত হয়েছেন উল্লেখ করে সহকারী পরিচালক বলেন, প্রচণ্ড ধোঁয়া ও তাপের মধ্যে কাজ করা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। ফায়ার সার্ভিসের নির্ধারিত কৌশল প্রয়োগ করে কমসংখ্যক সদস্যকে আহত করে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণের চেষ্টা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ ছিল। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল যানজট। চকবাজারের রাস্তা অত্যন্ত সরু হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগে। বিশেষ করে, তখন পিক আওয়ার থাকায় যানজট বেশি ছিল।
দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ ছিল ভবনের ভেতরে জমে থাকা ধোঁয়া বের হওয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকা। ছয় ও সাততলার ধোঁয়া বের হওয়ার পথ না থাকায় প্রচণ্ড তাপ ও ধোঁয়ার মধ্যে ফায়ারফাইটারদের কাজ করতে হয়েছে। শাটারের তালা কেটে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালাতে হয়েছে বলেও বক্তব্যে যোগ করেন তিনি।
পানির সংকটের কথা উল্লেখ করে কাজী নজমুজ্জামান বলেন, আশপাশে থাকা পানির রিজার্ভগুলো শেষ হয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে পাম্প ও রিজার্ভার পরিবর্তন করে অন্য রিজার্ভার থেকে পানি নিয়ে আগুন নেভানোর কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ভবনের ভেতরে এখন আর আগুন নেই। তবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল গোডাউনভর্তি থাকায় সেগুলো সরানো হচ্ছে এবং পানি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে মাঝে মাঝে ধোঁয়া বের হচ্ছে।
এমআইকে/এআরএম




