মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

মধ্যপ্রাচ্যে ফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসনে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পিএম

শেয়ার করুন:

মধ্যপ্রাচ্যে ফেরত প্রবাসীদের পুনর্বাসনে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজছে সরকার
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তা, দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসন এবং বিকল্প শ্রমবাজার তৈরিতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে মালয়েশিয়ায় প্রায় ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষতিগ্রস্থ প্রবাসীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোরব) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বেসরকারি সংস্থা রামরুর দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

নুরুল হক নুর বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিমানবন্দরে ফ্লাইট বাতিলের কারণে আটকে পড়া প্রবাসীদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। যেসব কর্মীর কোম্পানি বা ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কর্মস্থলে ফিরতে সমস্যা হচ্ছিল, কাতারসহ কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের ফের কর্মস্থলে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতিতে আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশ ও বাংলাদেশ দূতাবাস সহযোগিতা করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতসহ দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহত প্রবাসীদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। যেসব কর্মীর ভিসার মেয়াদ নিয়ে জটিলতা রয়েছে, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা দিচ্ছে সরকার
 
প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো নিজেরাই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সংসদে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ১২ জন এবং চলতি মাসে আরও তিনজন প্রবাসী মারা গেছেন। এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে সংকটে থাকা দেশগুলোর পাশে দাঁড়ানো বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। একই সঙ্গে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের পরিবারকে সরকার সহায়তা করছে। কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোও পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) অথবা ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া কর্মীদের জন্য প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এ ছাড়া কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে আসা প্রবাসীদের সহায়তায় একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে।

যুদ্ধের প্রভাব কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে শ্রমবাজার

নুরুল হক নুর বলেন, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় যুদ্ধ শুরু হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে কিছুটা প্রভাব পড়েছিল। তবে বর্তমানে আবার স্বাভাবিক সংখ্যায় কর্মী বিদেশে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে একদিকে কিছু প্রবাসী কর্মসংস্থান হারাচ্ছেন, অন্যদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কার্যক্রমে বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের প্রয়োজন হবে। পরীক্ষিত বন্ধু রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সেখানে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি সরকার বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানেও কাজ করছে।

যেসব প্রবাসী দেশে ফিরে আসছেন, তাদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য পুনঃএকত্রীকরণ প্রকল্প চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রবাসে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাদের অন্য দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতেও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

যুদ্ধের ভিডিও-ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুদ্ধসংক্রান্ত ভিডিও, অডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের বিষয়ে সতর্ক করে প্রবাসীদের স্থানীয় আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি বিধিনিষেধের কারণে যুদ্ধ-সংক্রান্ত ভিডিও, অডিও বা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। তাই প্রবাসীদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এমআর/এসআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর