শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার পূজামণ্ডপগুলোর আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা আগামী দুই দিনের মধ্যে মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মণ্ডপ সংলগ্ন ড্রেন-নর্দমা পরিষ্কার, নষ্ট সড়কবাতি পরিবর্তন এবং নগরজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেছে সংস্থাটি। পূজা শুরুর তিন দিন আগে নগর ভবনে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও চালু করা হবে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর কাকরাইলের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বাংলাদেশ সনাতন পার্টি আয়োজিত জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন, মহালয়া উদযাপন ও বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানান ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে তিনি উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে মণ্ডপগুলোর আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ডিএসসিসির আওতাধীন ১৬৮টি পূজামণ্ডপকে প্রথমবারের মতো মোট ১৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঐতিহ্যবাহী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরকে আলাদাভাবে ১০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপের আশপাশে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মণ্ডপ সংলগ্ন ড্রেন ও নর্দমা জরুরি ভিত্তিতে পরিষ্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পূজা উপলক্ষে পুরো নগরীতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানও শুরু হয়েছে।
পূজামণ্ডপের আশপাশে সড়কবাতি নষ্ট থাকা, ড্রেনেজ সমস্যা কিংবা শৃঙ্খলাসংক্রান্ত কোনো ঘাটতি থাকলে তা সিটি কর্পোরেশনকে জানানোর আহ্বান জানান আবদুস সালাম। এসব অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

পূজা চলাকালে নাগরিক সেবা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূজা শুরুর তিন দিন আগে নগর ভবনে একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে বলেও জানান ডিএসসিসি প্রশাসক।
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, নগর সংস্থার সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমতা ও ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। এ কারণে মসজিদের পাশাপাশি পূজামণ্ডপে সহায়তা এবং ইমামদের পাশাপাশি পুরোহিতদেরও ভাতার আওতায় আনার চর্চা অব্যাহত রয়েছে।
সব ধর্মের মানুষের জন্য সমান নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কাজ করে যাবে বলেও জানান তিনি।
এমএইচ/এসআই




