প্রযুক্তির বিকাশ ও ই-কমার্সের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সেবাব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে ডিজিটাল ডাকঘর, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণসহ ছয়টি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব অগ্রাধিকারের কথা তুলে ধরেন বক্তারা।
‘সমন্বিত ডাক নেটওয়ার্ক, সীমাহীন সম্ভাবনা’ প্রতিপাদ্যে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক ভবনে ডাক অধিদপ্তর এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব বিলকিস জাহান রিমি। ডাক অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক মো. সিরাজ উদ্দিন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত প্রযুক্তি ও ই-কমার্সের চাহিদা বিবেচনায় ডাক বিভাগকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত সেবাব্যবস্থায় রূপান্তর করা জরুরি। দেশের বিস্তৃত ডাক নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে ই-কমার্সের পণ্য পরিবহন, পার্সেল সেবা, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সহজলভ্য সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তারা বলেন, ডাক বিভাগের কার্যক্রমে তথ্যনির্ভর ব্যবস্থাপনা চালু, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ ডাক বিভাগের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ডাক বিভাগের ভবিষ্যৎ উন্নয়নে ছয়টি অগ্রাধিকার তুলে ধরে বক্তারা বলেন, এগুলো হলো ডিজিটাল ডাকঘর প্রতিষ্ঠা, সমন্বিত ডাক তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা, ই-কমার্স লজিস্টিকস হাব তৈরি, ডিজিটাল আর্থিক সেবার সম্প্রসারণ, তথ্যনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু এবং পরিবেশবান্ধব বা সবুজ ডাকব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে ৯ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ‘ডাকসেবা সপ্তাহ’ পালন করা হবে। এ উপলক্ষে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে চিঠি উৎসব, ডাকটিকিট সংগ্রহ ও প্রদর্শনী এবং ডাকসেবাবিষয়ক মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
এ ছাড়া ৯ ও ১০ অক্টোবর সঞ্চয় ব্যাংকের কার্যক্রম ছাড়া ডাক বিভাগের সব পর্যায়ের কার্যালয়ে ডাকসেবা প্রদান উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত ও আধুনিক ডাক নেটওয়ার্ক দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিকাশ, ই-কমার্সের সম্প্রসারণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি এবং জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
এমআর/এআরএম




