শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ঢাকা

বায়তুল মোকাররমের খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ, জামায়াতবিরোধী স্লোগান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম

শেয়ার করুন:

বায়তুল মোকাররমের খতিবের পক্ষে বিক্ষোভ, জামায়াতবিরোধী স্লোগান
জুমা শেষে খতিবের পক্ষে স্লোগান। ছবি: সংগৃহীত

কোনো কোনো মহল থেকে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবি ঘিরে তাঁর পক্ষে বিক্ষোভ করেছেন একদল মুসল্লি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মুসল্লিরা অংশ নেন।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, বায়তুল মোকাররমের খতিবকে অপসারণের চেষ্টার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে। এ সময় তারা ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদুদির আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, মুফতি আব্দুল মালেক জাতীয় মসজিদের খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ইমামতি করবেন। ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দলের নয়; ইসলাম আল্লাহর, তৌহিদে বিশ্বাসী মানুষের এবং সব মুসলমানের।

সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের দলটির সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন মুফতি আব্দুল মালেক। তাঁর এ বক্তব্যের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেন জামায়াতপন্থীরা। তাদের কেউ কেউ মুফতি আব্দুল মালেকের অপসারণও দাবি করেন। জুমার নামাজ বায়তুল মোকাররমে আদায়ের ডাকও দেন কেউ কেউ।

আরও পড়ুন

বায়তুল মোকাররমের নতুন খতিব কে এই আব্দুল মালেক

বায়তুল মোকাররমের খতিব নিয়ে বিতর্কের অবসান হোক

তবে মুফতি আব্দুল মালেকের পক্ষ নেন বিএনপিসহ বেশির ভাগ ইসলামি দলের নেতাকর্মীরা। এছাড়া কওমি ধারার প্রায় সবাই মুফতি আব্দুল মালেকের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই জাতীয় মসজিদে মুসল্লিদের ভিড় বাড়তে থাকে। রাজধানী ও আশপাশের এলাকা থেকে অনেক কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থী বায়তুল মোকাররমে জুমা আদায় করতে আসেন যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

প্রসঙ্গত, মুফতি আব্দুল মালেক দেশের অন্যতম শীর্ষ ও গবেষক আলেম হিসেবে ব্যাপক পরিচিত। আরব বিশ্বসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও একজন গবেষক আলেম হিসেবে তাঁর সুনাম-সুখ্যাতি রয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর তাঁকে খতিব পদে নিয়োগ দেয়। বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে খতিব পদে পরিবর্তন আনেনি। মুফতি আব্দুল মালেক বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার জানাজায় ইমামতি করেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর একাধিক অনুষ্ঠানে খতিব আব্দুল মালেককে সম্মানের সঙ্গে অতিথি হিসেবে রাখতে দেখা যায়। ফলে বিএনপির সঙ্গেও তাঁর একটি ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছে।

এমআইকে/জেবি

 

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর