ভোরের বাতাসে হালকা শীতের ছোঁয়া। কোথাও কোথাও কুয়াশার আবরণ। যদিও রাজধানী ঢাকায় এখনো শীত জেঁকে বসেনি। তবে আবহাওয়ার এই সামান্য পরিবর্তনই জানান দিচ্ছে, শীতের মৌসুম খুব বেশি দূরে নয়।
এরই মধ্যে শীতের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে রাজধানীর নিউ মার্কেট ও আশপাশের ফুটপাতে। বিভিন্ন দোকানে উঠতে শুরু করেছে সোয়েটার, জ্যাকেট, হুডি, কার্ডিগান, ফুলহাতা টি-শার্ট, চাদরসহ নানা ধরনের শীতের পোশাক। বিক্রিও হচ্ছে। তবে ক্রেতার ভিড় এখনো তেমন জমেনি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে নিউ মার্কেট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, মূল মার্কেটের দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতের বেশ কয়েকটি দোকানে শীতের পোশাক সাজিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও পোশাক ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে দোকানের সামনে, কোথাও আবার ফুটপাতের ওপর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা সেসব পোশাক নেড়েচেড়ে দেখছেন, দাম জানতে চাইছেন, দরদামও করছেন।

তবে বেশির ভাগ ক্রেতাই এখনো দেখেশুনে চলে যাচ্ছেন। কারণ, দিনের বড় একটা সময় এখনো গরম থাকছে। ফলে ভারী শীতের পোশাক কেনার তাড়া অনুভব করছেন না অনেকে। কেউ কেউ অবশ্য আগেভাগে পরিবারের শিশুদের জন্য হালকা শীতের পোশাক কিনছেন।
ফুটপাতের বিক্রেতা ফাহিম বলেন, কয়েক দিন ধরেই শীতের পোশাক তোলা শুরু করেছেন। তবে শীত এখনো তেমন পড়েনি বলে বিক্রিও কম।
ফাহিম বলেন, মানুষ দোকানে এসে পোশাক দেখছেন, দাম জিজ্ঞেস করছেন। কেউ কেউ কিনছেনও। তবে অনেকেই বলছেন, ঠান্ডা আরও একটু বাড়লে কিনবেন। শীত ভালোভাবে শুরু হলে বিক্রি বেড়ে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।
আরেক বিক্রেতা রিপন বলেন, শীতের শুরুতে হালকা পোশাকের চাহিদাই বেশি থাকে। এরপর ঠান্ডা বাড়লে জ্যাকেট, সোয়েটার ও হুডির বিক্রি বাড়ে। তরুণদের মধ্যে হুডি ও জ্যাকেটের চাহিদা বেশি। শিশু ও বয়স্কদের জন্য সোয়েটারসহ গরম পোশাক বেশি বিক্রি হয়।
নিউ মার্কেটের একটি দোকানের বিক্রেতা বলেন, শীতের পোশাক ধীরে ধীরে দোকানে তোলা হচ্ছে। কারণ, এখনো গরমের পোশাকের চাহিদা আছে। সকালে ঠান্ডা, আবার দুপুরে গরম—আবহাওয়ার এই পরিবর্তনের কারণে ক্রেতারাও কিছুটা দ্বিধায় আছেন।

ফুটপাতের একটি দোকানে শীতের পোশাক দেখছিলেন এক ক্রেতা। তিনি বলেন, সকালে বাইরে বের হলে আগের মতো গরম লাগে না। হালকা ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তাই পরিবারের ছোটদের জন্য আগেভাগে কয়েকটি পোশাক কিনতে এসেছেন।
ওই ক্রেতার ভাষ্য, এখন দোকানে ভিড় কম। তাই দেখে-শুনে পছন্দের পোশাক কেনা সহজ। শীত পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই শিশুদের পোশাক কিনে রাখলে পরে আর ঝামেলা থাকে না।
আরেক ক্রেতা বলেন, শীতের পোশাকের দাম গত বছরের তুলনায় কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। তবে ফুটপাতে তুলনামূলক কম দামে বিভিন্ন ধরনের পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। তাই কয়েকটি দোকান ঘুরে দাম মিলিয়ে তারপর কেনার কথা ভাবছেন তিনি।
নিউ মার্কেটের আশপাশের ফুটপাতে দেখা যায়, কিছু দোকানে শীতের পোশাকের পাশাপাশি গ্রীষ্মের পোশাকও রাখা হয়েছে। দোকানের সামনের অংশে শীতের পোশাক ঝুলিয়ে ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারাও এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরে পোশাক দেখছেন, দরদাম করছেন।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতের পোশাকের ব্যবসা অনেকটাই নির্ভর করে তাপমাত্রা কমার ওপর। ভোর ও রাতে ঠান্ডা বাড়তে শুরু করলে ক্রেতারা দ্রুত গরম পোশাকের দিকে ঝুঁকবেন। তখন জ্যাকেট, সোয়েটার, হুডি, মাফলার, টুপি ও অন্যান্য শীতের পোশাকের চাহিদাও বাড়বে।
এক বিক্রেতা বলেন, শীতের পোশাকের ব্যবসা মূলত ঠান্ডার ওপর নির্ভরশীল। মানুষ যতক্ষণ গরমে স্বস্তিতে থাকে, ততক্ষণ শীতের কাপড় কেনার তাড়া থাকে না। ঠান্ডা ভালোভাবে শুরু হলে নিউ মার্কেটের দোকান ও ফুটপাতে ক্রেতা বাড়বে।

এক তরুণ ক্রেতার কথাতেও সেই অপেক্ষার আভাস। তিনি বলেন, সকালে ও রাতে সামান্য ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। তাই একটি হুডি কিনতে এসেছেন। তবে ভারী জ্যাকেট কেনার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করবেন।
বিক্রেতাদের ভাষ্য, শীতের শুরুতে ক্রেতারা সাধারণত হালকা গরম পোশাক দিয়ে শুরু করেন। তাপমাত্রা কমার সঙ্গে সঙ্গে ভারী পোশাকের চাহিদা বাড়ে। তাই বাজারে শীতের পোশাক উঠতে শুরু করলেও এখনো মৌসুমি বেচাকেনার মূল সময় শুরু হয়নি।
তবে প্রস্তুতি থেমে নেই। নতুন পোশাক দোকানে তোলা হচ্ছে, ফুটপাতের দোকানগুলোতেও বাড়ছে শীতের পোশাকের পরিমাণ। ভোরের কুয়াশা আর হালকা ঠান্ডা বাতাস যেন সেই প্রস্তুতিরই আগাম সংকেত। শীত একটু জেঁকে বসলেই নিউ মার্কেটের ফুটপাত ও দোকানগুলোতে জমে উঠবে শীতের পোশাকের বেচাকেনা।
এম/এআর




