সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে এক সৌদি প্রবাসীর সঙ্গে পরিচয়ের পর যৌথভাবে মাছ ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে মো. তরিকুল হক খান নামে এক প্রবাসীর টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এমন ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম মো. ছিয়াম হোসেন।
তিনি জানান, মামলার বাদী তরিকুল হক খান একজন সৌদি আরবপ্রবাসী। সৌদি আরবে অবস্থানকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অভিযুক্ত ছিয়াম হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আলোচনার একপর্যায়ে ছিয়াম নিজেকে মাছ ব্যবসায়ী দাবি করে যৌথভাবে মাছের ব্যবসা করার প্রস্তাব দেন। ২০ সেপ্টেম্বর তরিকুল হক দেশে ফিরলে ছিয়াম সরাসরি দেখা করে ব্যবসার প্রস্তাব দিলে বাদী তাতে সম্মত হন।
পরবর্তীতে গত ১ অক্টোবর তারা দুজন বাগেরহাট জেলার একটি মাছের আড়ত থেকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ২২ কার্টন চিংড়ি মাছ কিনে একটি বাসে করে ঢাকায় পাঠিয়ে দেন। মাছ বাসে পাঠিয়ে বাদী ও অভিযুক্ত ছিয়াম অন্য একটি বাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। ২ অক্টোবর রাত ৯টায় বাসটি ধোলাইপাড় এলাকায় পৌঁছালে ছিয়াম কৌশলে বাস থেকে নেমে পালিয়ে যান এবং নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। পরে সায়েদাবাদ বাস কাউন্টারে পৌঁছে বাদী খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, অচেনা কেউ মাছের কার্টনগুলো ট্রাকে করে নিয়ে গেছে।
তিনি আরও জানান, পরদিন ৩ অক্টোবর সকাল ৮টায় মামলার বাদী জানতে পারেন, গাজীপুরের চান্দনা এলাকায় অভিযুক্ত ছিয়ামকে স্থানীয় লোকজন আটক করে রেখেছেন। খবর পেয়ে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশের একটি দল দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিয়ামকে হেফাজতে নেয় এবং তার কাছে থাকা ১২ কার্টন মাছ বিক্রির ২ লাখ ১২ হাজার ৯০০ টাকা উদ্ধার করে।
পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যমতে, ৩ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় ময়মনসিংহের নান্দাইল থেকে আরও ২ লাখ ৫৪ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। তাকে গ্রেফতারের পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
একেএস/এআর




