রাজধানীতে ‘পুলিশের পরিচয়ে’ এক প্রবাসী কাছ থেকে অর্থ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ৬ মিনিটের দিকে শেরেবাংলা নগর থানাধীন গণভবন সংলগ্ন জুলাই জাদুঘর ও জিয়া উদ্যান সিগন্যাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে ভুক্তভোগী প্রবাসী ওমার ফারুকের (৩০) দাবি।
এ ঘটনায় তিনি শেরেবাংলা নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ছয় বছরের বেশি সময় সৌদি আরবে কাটিয়ে সঞ্চয় করা ৪ হাজার ৭০০ সৌদি রিয়াল ও প্রায় ৮৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে ছিনতাইকারীরা।
অভিযোগ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ওমার ফারুক। তাকে নিতে বিমানবন্দরে আগে থেকেই অপেক্ষা করছিলেন বাবা দুদু মিয়া। সঙ্গে চাচাতো ভাই আব্দুর রহমান ও দুলাল মিয়াও ছিলেন।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হতে রাত সাড়ে ১২টা বেজে যায়। গভীর রাতে ছিনতাইয়ের আশঙ্কায় তারা তখনই বাড়ির উদ্দেশে রওনা হননি। পরে ভোর পৌনে ৫টার দিকে প্রাইভেটকারে করে কেরানীগঞ্জের সুবর্ণসুর গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।
ভুক্তভোগী ওমার বলেন, গণভবন সংলগ্ন জুলাই জাদুঘর ও জিয়া উদ্যান সিগন্যাল পার হয়ে বামে ইউটার্ন নেওয়ার সময় পেছন থেকে একটি হাইয়েস গাড়ি তাদের গাড়ির সামনে এসে দাঁড়ায়। ওই গাড়ি থেকে ৪/৫ জন নেমে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেন। তারা গাড়িতে অবৈধ মালামাল রয়েছে এমন তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে তল্লাশি করতে চান। একপর্যায়ে তারা গাড়ির চাবি নিয়ে নেন। এরপর তল্লাশির নামে ওমারের কাছে থাকা ৪ হাজার ৭০০ সৌদি রিয়াল ও প্রায় ৮৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার নিয়ে যান।
ওমার বলেন, পুরো ঘটনা দেড় মিনিটের মধ্যে ঘটে। যাওয়ার সময় ছিনতাইকারীদের একজন তাকে চুপচাপ চলে যেতে হুমকি দেন। তখন একজনের হাতে ছুরি এবং আরেকজনের হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত লাইট স্টিক দেখতে পান বলেও জানান তিনি।
ছিনতাইকারীরা চলে যাওয়ার পর তারা গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। সকালে বাড়িতে পৌঁছানোর পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন পরিবারের সদস্যরা। ছিনতাইয়ের খবর শুনে ওমারের মা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
ওমার ২০২০ সালের মার্চে সৌদি আরবে যান। সেখানে একটি কোম্পানির টিস্যু ফ্যাক্টরিতে কাজ করতেন তিনি।
শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরে শেরেবাংলা নগর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওমার। তার অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে মামলা নেয়নি পুলিশ।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মনির বলেন, অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে মামলা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী ওমার বলেন, ‘যে অর্থ আর স্বর্ণ নিয়ে দেশে ফিরেছিলাম, সেগুলো আমার কাছে শুধু টাকা বা অলংকার ছিল না, ছিল প্রবাসজীবনের দীর্ঘ পরিশ্রম, না পাওয়া অনেক ইচ্ছা আর পরিবারের জন্য জমিয়ে রাখা ভবিষ্যতের ভরসা। ’
তিনি বলেন, ‘দেশে পা রাখার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই ভরসার বড় অংশ হারিয়ে এখন নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছি।’
ওমারের বাবা দুদু মিয়া এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার এবং লুট হওয়া টাকা ও স্বর্ণালংকার উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
ওমারের চাচাতো ভাই সুলেমান আকাশ বলেন, ‘ছেলেটা পরিবার ফেলে প্রবাসে থেকেছে। রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। অনেক কষ্ট করেছে। রাতে ফিরেও বাড়ি ফেরেনি, কারণ ছিনতাইয়ের ভয় ছিল। সেই ওমারই সব হারাল। ছিনতাইকারীদের হুমকিতে দেড় মিনিটের মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনায় ওমার হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে।’
এমআইকে/এএম




