রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বর এলাকায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের ১ নম্বর ভবনের লিফট ছিড়ে নিচে পড়ে গিয়ে তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে, এই দুর্ঘটনার বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি মিরপুর মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে পাইকপাড়া আবাসন প্রকল্পের ১ নম্বর ভবনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমান, নাইস আহমেদ ও তার ছেলে মো. ওয়াসি। আহতরা সবাই ভবনের পঞ্চম তলার বাসিন্দা। আহতদের মধ্যে নাইস আহমেদের দুটি পা ভেঙে গেছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভবনের সভাপতি সরকারি যানবাহন অধিদফতরের কর্মচারী রফিকুল ইসলাম।
ভবনের সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সহকারী কর্ম কমিশন সচিবালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মো. শাহাবুদ্দিন আহমেদ প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে বলেন, ফজরের নামাজের পর ভবনের ৫ তলায় বসবাস করা তিনজন লিফটে উঠেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে লিফটটি ছিঁড়ে পড়ে। শব্দ শুনে দারোয়ান সেখানে গিয়ে চিৎকার শুনতে পান। পরে আশেপাশে থাকা কয়েকজন এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

অভিযোগ করে প্রশাসনিক কর্মকর্তা অর্থ বিভাগের সমীর চন্দ শীল জানান, লিফটি দীর্ঘদিন ধরে প্রায়ই অচল থাকে। যা কোনোমতে মেরামত করে সচল করে চালানো হচ্ছে। এটি যে জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপুর্ণ তা এই দুর্ঘটনাই প্রমাণ করল। লিফটের বিষয়টি কয়েকবার গণপূর্ত বিভাগের কাছে চিঠি দিয়ে জানানো হলেও তারা কর্ণপাত করেনি।
এ ছাড়াও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চমান সহকারী মোকসেদ আলী বলেন, বারবার জানানোর পরও মেরামতের অযোগ্য লিফটি মেরামত করে চালানো হয়েছে। আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত সমাধান করার দাবি জানাচ্ছি।
লিফট ছিঁড়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই আবাসিক ভবনে বসবাসকারী সবার মধ্যেই দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। অধিকাংশ বাসিন্দার অভিযোগ, আবাসিকে ৮টি ভবন রয়েছে। অধিকাংশ ভবনের লিফটের অবস্থাই ভালো নয়। ঠিকমতো মেরামতও করা হচ্ছে না। যেকোনো সময় আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একেএস/এফএ




