রাজধানীর মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকা মেইলকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনও গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের প্রজনন স্বাস্থ্য, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদানসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে। এই সেন্টারটি পড়েছে ঢাকা-১৪ আসনে। ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর ব্যারিস্টার আরমান।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ের একটি টিনশেড ও তিনটি সেমিপাকা ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আর পাকা ভবনের আল্ট্রাসনোগ্রাম কক্ষ, টিকাকক্ষ, ল্যাবরেটরিসহ পাঁচটি কক্ষের জানালা-দরজা ভেঙে ফেলা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙার সরঞ্জাম নিয়ে সেখানে ঢুকে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা, টাকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে। সব মিলিয়ে পুরো স্থাপনাটিতে কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
হামলাকারীরা ভাঙচুর ও লুটপাটের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি.’ এর সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় করা মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ ২০০-২৫০ জনকে আসামি করা হয়।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির দিকে অভিযোগের আঙুল আসে।
২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন মিষ্টি। তখন ওই সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গাটি বরাদ্দ দেওয়ার জন্য গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে যে আবেদন করা হয়েছে, তাতে সভাপতি হিসেবে সই করেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ।
এ ঘটনায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে আসছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠনসহ নাগরিক সমাজ।
স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখা হয়েছে।
রাড্ডার ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল ও ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই দিনে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৪ জনকে বহিষ্কার করা হয়।
তবে দল ও অঙ্গসংগঠনগুলোর বিজ্ঞপ্তিতে এসব সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে রাড্ডার ঘটনার সরাসরি কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি।
বিএনপির বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলী থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খলিল চৌধুরী, সি-ব্লক ইউনিট বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য হাফিজুর রহমান শুক্কুকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কার্যকলাপসহ সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। একই দিনে ছাত্রদলের পাঁচজন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুজন ও শ্রমিক দলের চারজনকে বহিষ্কার করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির কোনো কারণ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। যুবদল ও ছাত্রদলের সংশ্লিষ্ট কমিটি দুটির ক্ষেত্রে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এমআর




