মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

তথ্য কমিশন গঠনে দুই সরকারের বিশ্বরেকর্ড: ইফতেখারুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১১ পিএম

শেয়ার করুন:

তথ্য কমিশন গঠনে দুই সরকারের বিশ্বরেকর্ড: ইফতেখারুজ্জামান
বক্তব্য দিচ্ছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত

তথ্য কমিশন গঠনে দুই সরকার বিশ্বরেকর্ড করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে দুই বছর দুই মাস ধরে তথ্য কমিশন গঠন করা হয়নি। পৃথিবীর আর কোনো দেশে এমন নজির নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ডেইলি স্টার সেন্টারে মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত আন্তর্জাতিক তথ্য জানার অধিকার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত তথ্য অধিকার সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্বরেকর্ড করেছে, যেখানে আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও দুই বছর দুই মাস ধরে তথ্য কমিশন নেই। অন্তর্বর্তী সরকার দেড় বছরেও কমিশন গঠনে ব্যর্থ হয়েছে। ওই সরকারের সময়ে দায়িত্বে থাকা অনেকের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং কমিশন গঠনের জন্য বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল। সহায়তাও করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সাত মাস পার হয়ে গেছে। একই ধারায় এগিয়ে গিয়ে এই বিশ্বরেকর্ড আরও দীর্ঘ করার দিকে দেশ এগোচ্ছে। এমন একটি বিশ্বরেকর্ড হয়েছে, যা অন্য কোনো দেশ ভাঙতে পারবে না। এটি অত্যন্ত বিব্রতকর একটি বিশ্বরেকর্ড, যা দুটি সরকার জেনে-শুনেই করেছে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, তথ্য কমিশন গঠন না করা আইনের লঙ্ঘন। আইনগতভাবে কমিশন গঠনের বাধ্যবাধকতা সরকারের রয়েছে। সাধারণ মানুষ আইন লঙ্ঘন করলে বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হয়। সরকার আইন লঙ্ঘন করলে তার জবাবদিহির জায়গা হলো জনগণের আস্থা। সরকার জনগণের সেই আস্থা হারালে বিভিন্নভাবে তার প্রতিফলন ঘটে।

তথ্য কমিশন গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের কাছে মানুষের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, নতুন কমিশনটি যেন সত্যিকার অর্থে কাজ করার মতো হয়, সে বিষয়ে আশাবাদী হতে চান তারা। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থাকার দৃষ্টান্ত না থাকায় উদ্বেগও রয়েছে।

তিনি বলেন, তথ্য কমিশনের অতীত কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত আমলা ও সরকারি কর্মচারীদের দিয়ে কমিশন গঠন করা হলে এবং তাদের মধ্যে তথ্য প্রকাশের বিরোধিতার সংস্কৃতি থাকলে হতাশা আরও বাড়বে। সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন একটি তথ্য কমিশন গঠন করতে হবে, যাতে মানুষের কমিশনের প্রতি আস্থা বাড়ে এবং এর মাধ্যমে সরকারের প্রতিও আস্থা বাড়ে।

তথ্য অধিকার আইন সংশোধনের প্রসঙ্গে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধ করতে হবে। তবে তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে অপতথ্য বা মিথ্যা তথ্যকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। বিশ্বের কোথাও তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যকে গুলিয়ে ফেলার নজির নেই।

তিনি বলেন, অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা আইন করা যেতে পারে। তথ্য অধিকার এবং অপতথ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। মানুষের জানার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অপতথ্য নিয়ন্ত্রণের নামে যদি তথ্য অধিকার আইনকে সীমিত করা হয়, তাহলে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে তথ্য অধিকার আইনের মূল চেতনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এএইচ/এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর