শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি তহবিল চান তরুণরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

শেয়ার করুন:

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সবুজ উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি তহবিল চান তরুণরা
ডিএসসিসি নগর ভবনে ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ সম্মেলন

নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং তরুণদের পরিবেশবান্ধব উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারি তহবিল ও নীতিগত সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত ‘প্রি-কপ৩১ কনফারেন্স অন রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যান্ড গ্রিন এন্টারপ্রেনারশিপ’ সম্মেলনে বক্তারা এ দাবি জানান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, মিশন গ্রিন বাংলাদেশ, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন, সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) এবং ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর প্রয়োজন। একই সঙ্গে তরুণদের উদ্ভাবনী উদ্যোগকে পরিবেশবান্ধব ব্যবসায় রূপ দিতে সরকারি তহবিল, নীতিগত সহায়তা ও সহজ অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত করা দরকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ভাবনা বাস্তবায়নে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তরের ড. মো. জিয়াউল হক বলেন, বৈশ্বিক জলবায়ু অর্থায়নে বাংলাদেশের ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের অবস্থান আরও জোরালো করতে হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তির সহজলভ্যতা এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবসাকে আইনি সুরক্ষা দেওয়া জরুরি।

ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বায়ুদূষণ রোধ ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-উপাত্ত এবং বিজ্ঞানসম্মত পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা প্রয়োজন। নগর এলাকায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পরিচ্ছন্ন শক্তিতে উত্তরণ ঘটানো গেলে পরিবেশের উন্নতি সম্ভব।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআরের উপপরিচালক রউফা খানম বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যমান সবুজ উদ্ভাবনগুলোকে কার্যকর ও টেকসই করতে সরকারি তহবিল এবং কপের জলবায়ু অর্থায়নের সরাসরি প্রবাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জ্বালানি রূপান্তরের সুফল তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছাতে তরুণ গবেষক ও উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে ইআরপিডিএফ বাংলাদেশের সভাপতি ও চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন বলেন, জলবায়ু নীতি নির্ধারণে তরুণদের শুধু দর্শক বা ধারণার উৎস হিসেবে রাখলে চলবে না। মাঠপর্যায়ে তাদের প্রত্যক্ষ বাস্তবায়নকারী হিসেবে সম্পৃক্ত করতে হবে। পরিবেশ সুরক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য শক্তিতে রূপান্তর এখন সময়ের দাবি।

মো. শরিফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন মীর মোহাম্মদ আলী, মাহমুদ রকিব, মাকসুদ হোসেন, রুবাইয়া নাসরিন সেঁজুতি, মাহবুব সুমন ও আল-আমিন প্রান্ত। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে দুই শতাধিক তরুণ, উদ্যোক্তা, পরিবেশকর্মী, গবেষক ও উন্নয়নকর্মী অংশ নেন।

এএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর