মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বোরহান উদ্দিন, নিউইয়র্ক (যুক্তরাষ্ট্র থেকে)
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

শেয়ার করুন:

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রয়াত বাবা ও বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর এবার জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

এর আগে তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে আয়োজিত প্রাতরাশ সভায় অংশ নেন।

জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বার্তা তুলে ধরবেন।

সোমবার রাতে তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, দেশপ্রেম, আবেগ, অনুভূতি ও আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশের ভবিষ্যৎ রূপকল্প কী হওয়া উচিত, কীভাবে বাংলাদেশের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে হবে এবং কীভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে, সেসব বিষয় বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় রাত ৯টায় হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি ঐতিহাসিক সফরে নিউইয়র্কে এসেছেন। দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটে নির্বাচিত একটি প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি আমন্ত্রিত হয়ে এসেছেন, যা ইতিহাসের অংশ।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পক্ষে নিজেদের অবস্থান, ভিশন ও পরিকল্পনা তুলে ধরেছিলেন। ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় আজ তাদের সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও একইভাবে বাবা-মায়ের মতো দেশপ্রেমকে ধারণ করে বাংলাদেশের স্বার্থ ও অধিকারের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।

আগামী বৃহস্পতিবার সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণ দেবেন বলেও জানান মাহদী আমিন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত উল্লেখ করে মুখপাত্র বলেন, অতীতের ধারা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য তিনি এই সফরে এসেছেন। যাতায়াতের দুই দিন বাদে মাঝখানে মাত্র চার কর্মদিবস তিনি নিউইয়র্কে অবস্থান করবেন। এ সময়ে তিনি বেশ কিছু দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।

সফরের বহর সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সনাতনী ধারা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত এই সফরে ছোট একটি বহর নিয়ে এসেছেন। আনুষ্ঠানিকভাবে এখানে মাত্র ৩৫ জন রয়েছেন। এর পাশাপাশি শুধু অত্যাবশ্যকীয় গণমাধ্যম, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্টাফ রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও এসেছেন।

image

মঙ্গলবার থেকে প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক সফর শুরু হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সফরকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলাদা কোনো বৈঠকের সুযোগ আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের মূল উদ্দেশ্য জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দেওয়া। তাই আলাদাভাবে এ ধরনের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার তেমন সুযোগ হবে না।

ওই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশ মিশনের উপস্থায়ী প্রতিনিধি ওয়াহিদুজ্জামান।

বিইউ/এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর