মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

ডিজেল বিক্রিতে এখনও লোকসান হচ্ছে ৭০ টাকা: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩১ পিএম

শেয়ার করুন:

ডিজেল বিক্রিতে এখনও লোকসান হচ্ছে ৭০ টাকা: রিজভী
‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এক লিটার ডিজেল কিনতে সরকারের ২০৫ টাকা পর্যন্ত খরচ হলেও এতদিন তা ১১৫ টাকা দরে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। এতে প্রতি লিটারে সরকারের গুনতে হয়েছে ৯০ টাকা লোকসান। সম্প্রতি দাম সমন্বয় করা হলেও সেই লোকসান পুরোপুরি কাটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন রিজভী।

আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে বিভিন্ন দেশের ডিজেলের দাম তুলনা করে রিজভী বলেন, নেপালে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম প্রায় ১৬১ টাকা, মিয়ানমারে ১৬৪ টাকা, শ্রীলঙ্কায় ১৭৯ টাকা ৪২ পয়সা এবং ফিলিপাইনে ১৮৮ টাকা ৫০ পয়সা। ভারতেও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১৩৪ টাকার বেশি। এসব দেশের তুলনায় বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ডিজেলের দাম কম রাখা হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সময়ও বাংলাদেশে ১১৫ টাকা দরে ডিজেল বিক্রি করা হয়েছে। এখন ২০ টাকা দাম সমন্বয় করা হলেও প্রতি লিটারে সরকারের প্রায় ৭০ টাকা লোকসান রয়ে গেছে।

দাম বাড়া-কমার অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, একদিকে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে, অন্যদিকে কোনো পণ্যের দাম কমবে— এটি স্বাভাবিক অর্থনৈতিক প্রবাহের অংশ। কোনো দেশে কোনো পণ্যের দাম তুলনামূলক বেশি হলে তার প্রভাব অর্থনীতির অন্য ক্ষেত্রেও প্রবাহিত হয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক নাশকতার প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, মধ্যবাড্ডা, উত্তরা, মিরপুর ও কাফরুল এলাকায় বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন এবং হাইকোর্ট ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ঘটনার বিরুদ্ধেও কর্মসূচি দেওয়ার আহ্বান জানান রিজভী।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে ভাঙচুরের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াতের উদ্দেশে তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লংমার্চ করা হচ্ছে। একইভাবে পরিকল্পিত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেও লংমার্চ, প্রতিবাদসভা কিংবা বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।

তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের পক্ষে পরিচালিত বিভিন্ন আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা দেখা যায়নি। রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতার বিষয়টি তারা গুরুত্ব দেয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসলামের নামে রাজনীতি করলেও ইসলামের নীতি-নৈতিকতাকে যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না— এমন অভিযোগ করে রিজভী বলেন, জনগণের সঙ্গে বারবার প্রতারণার কারণে তারা কখনোই চূড়ান্তভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে জনস্বার্থে যত আন্দোলন হয়েছে, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন এবং জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ বিভিন্ন আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে জামায়াত।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান, মুখপাত্র এস এম শাহাদাত প্রমুখ।

এম/এফএ

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর