স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ এবং টেকসই উত্তরণ এক বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেছেন, এলডিসি উত্তরণ হতে হবে মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল। এ উত্তরণ যেন একটি দেশের উন্নয়নযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত না করে, বরং আরও শক্তিশালী করে— সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে আয়োজিত এলডিসি-জিআইএফ মেকানিজম ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড হাই-লেভেল ডায়ালগে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলো এখনো কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা ও সীমিত উৎপাদন সক্ষমতার মুখোমুখি। এর সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি ও অভ্যন্তরীণ নানা অভিঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু এলডিসি তালিকা থেকে বের হয়ে আসাই যথেষ্ট নয়, উত্তরণের পরও যাতে উন্নয়ন অব্যাহত থাকে, সেই সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। শিল্পায়ন, সমন্বিত উদ্যোগ, জ্বালানি রূপান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি মসৃণ, টেকসই ও অপরিবর্তনীয় উত্তরণ নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রয়োজন।
এলডিসিগুলোর জন্য আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও সক্ষমতা বৃদ্ধির সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় এসব দেশে প্রযুক্তি হস্তান্তর এখনো অপ্রতুল। ফলে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এলডিসি গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ফ্যাসিলিটেশন (এলডিসি-জিআইএফ) উদ্যোগ প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্পে এর প্রয়োগ ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, কাঠামোগত রূপান্তর এবং টেকসই উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এলডিসি উত্তরণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তবতা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এতে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে দেশগুলো অর্থনৈতিক ও শিল্প সক্ষমতা ধরে রেখে আরও শক্তিশালী উন্নয়ন কাঠামো গড়ে তুলতে পারবে।
এএইচ/এফএ




