জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফররত বিশ্বনেতারা নিউইয়র্কে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে যোগ দিতে আসা বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ কূটনৈতিক প্রতিনিধিদলের সাময়িক আবাসনের জন্য মিডটাউন ম্যানহাটনের বুক চিরে গড়ে ওঠা ঐতিহ্যবাহী ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ (সাবেক গ্র্যান্ড হায়াত নিউইয়র্ক) হোটেলটি বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
উচ্চ নিরাপত্তা বলয়, অবস্থানগত সুবিধা এবং বিশ্বমানের সেবার কারণে জাতিসংঘ অধিবেশনে আসা শীর্ষ কূটনৈতিকদের কাছে শুরু থেকেই হোটেলটি প্রথম সারির পছন্দ। জানা গেছে, জাতিসংঘের আসরে অংশ নিতে আসা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই হোটেলে অবস্থান করবেন।
নিউইয়র্ক সময় সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তারেক রহমানের। এর আগে তিনি বাংলাদেশ থেকে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি এই হোটেলে উঠবেন এবং পরবর্তীতে নির্ধারিত কূটনৈতিক কর্মসূচিগুলোতে অংশ নেবেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, ম্যানহাটনের ৪২ নম্বর স্ট্রিট ও পার্ক অ্যাভিনিউয়ের সংযোগস্থলে অবস্থিত এই হোটেলটি যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে। এর ঠিক পাশেই রয়েছে ঐতিহাসিক ‘গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনাল’। ম্যানহাটনের ইস্ট রিভারের তীরে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তর থেকেও হোটেলটির দূরত্ব মাত্র কয়েক মিনিটের। সরাসরি সাবওয়ে ও প্রধান ট্রানজিট রুটের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ভিভিআইপিদের নিরাপত্তাবেষ্টনী ঠিক রাখা এবং চলাচলের পথ সুগম রাখা আইনশৃঙ্ক্ষলা বাহিনীর জন্য অনেকটা সহজ হয়।
এদিকে অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে হোটেলটির চারপাশের পুরো এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সেখানে ধারাবাহিকভাবে টহল দিতে দেখা গেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ের শীর্ষ প্রতিনিধিদলের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে হোটেলটিতে সবধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অবস্থানের জন্য রয়েছে বিশ্বমানের আধুনিক ডিজাইন সংবলিত ১,৩০০টিরও বেশি রুম ও বিশেষ স্যুট। রয়েছে ২৪ ঘণ্টার ইন-রুম সার্ভিস ও ফাইন ডাইনিং ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনা ও সার্বক্ষণিক যোগাযোগের জন্য হোটেলটিতে রয়েছে সর্বাধুনিক বিজনেস সেন্টার, হাই-স্পিড ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত সহায়তা। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এবং সংবাদ সম্মেলনের জন্য সাউন্ডপ্রুফ প্রাইভেট কনফারেন্স রুম ও বলরুমের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

হোটেলটির পেছনে রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। ১৯১৯ সালে ‘কমোডোর হোটেল’ নামে এটি প্রথম যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আন্তর্জাতিক হোটেল চেইন ‘হায়াত’-এর যৌথ উদ্যোগে ভবনটি সংস্কার করা হয় এবং ১৯৮০ সালে ‘গ্র্যান্ড হায়াত নিউইয়র্ক’ নামে এটি নতুন রূপ পায়। দীর্ঘ চার দশক পর, ২০২১ সালের নভেম্বরে হায়াত কর্তৃপক্ষ হোটেলটি পুনরায় চালু করার সময় এর নাম পরিবর্তন করে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ রাখে।
নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঐতিহ্যবাহী এই ভবনটি শিগগিরই এক বড় রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাবে। পুরোনো অবকাঠামোটি প্রতিস্থাপন করে সেখানে ৯৫ তলা বিশিষ্ট একটি মেগা-টাওয়ার ‘১৭৫ পার্ক অ্যাভিনিউ’ নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। প্রায় ১,৫৮১ ফুট উঁচু সেই নতুন ভবনের ওপরের তলাগুলোতে পরবর্তীতে ২০০ কক্ষের একটি সম্পূর্ণ নতুন ও বিলাসবহুল ‘হায়াত হোটেল’ চালু করা হবে।
বিইউ




