রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম

শেয়ার করুন:

জামায়াতের বহিষ্কৃত এমপি গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার
গাজী নজরুল ইসলাম ও মোছা. মরিয়ম খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, ফ্ল্যাটটিতে মরিয়ম খাতুনের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে সিআইডির ফরেনসিক দলের সদস্যদের ডাকা হয়েছে। রাত সোয়া ৮টার দিকে তারা সেখানে পৌঁছান। পিবিআইয়ের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার ফজলুল করিম বলেন, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তারা ঘটনার খবর পান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটেছে।

মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে গত জুলাইয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল। এতে গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে এক তরুণীকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই তরুণীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানান।

ওই সময় গাজী নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম ও দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনকে নিয়ে মগবাজারে মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহর ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তাদের জিম্মি করে টাকা আদায় করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

এরপর গত ২১ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ এবং ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ওই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম। রোববার ঢাকার আদালতে উপস্থিত হয়ে তিনি জামিননামা দাখিল করেন।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মধ্যে ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে স্পিকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চিঠিও দেয় দলটি।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।

এআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর