দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য বাড়াতে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে ২ হাজার ৫৭৫টি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব পোনা অবমুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকার সারাদেশে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ধারাবাহিকভাবে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য। জনসংখ্যা বাড়লেও বর্তমানে দেশে মাছের উল্লেখযোগ্য ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চাষির সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা পাবেন। সহজ শর্তে ঋণসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।
নিরাপদ মাছ উৎপাদনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। পাশাপাশি মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার নজরদারি চালাচ্ছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ঠেকাতে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানায়, জাতীয় চিড়িয়াখানার লেকে মোট ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস রয়েছে। পোনামাছগুলোর আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। অবমুক্ত করা মাছের মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।
অনুষ্ঠানে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা. মো. শাহিনুর আলমসহ মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এএইচ/এআরএম




