জীবাশ্ম জ্বালানির নতুন প্রকল্প ও অর্থায়ন বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত ও ন্যায়ভিত্তিক রূপান্তরের দাবি জানিয়েছে ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)-সহ ৪২টি নাগরিক ও সামাজিক সংগঠন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গ্লোবাল উইক অব অ্যাকশনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি জানানো হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ও কপ৩১-এর প্রাক্কালে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা বাড়িয়ে জ্বালানি ও জলবায়ু সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব নয়। জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্পে নতুন বিনিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের গবেষণা প্রধান ইকবাল ফারুক বলেন, নতুন কোনো জীবাশ্ম জ্বালানি প্রকল্প গ্রহণ না করে এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাস্তবায়নে যেতে হবে। চলমান কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধাপে ধাপে বন্ধ করার সময়সীমা নির্ধারণের দাবি জানান তিনি।
রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে উল্লেখ করে সেখানে দ্রুত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম বলেন, জ্বালানি সংকটের বাস্তবতা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকি স্পষ্ট করেছে। বাংলাদেশের সৌরশক্তি, বায়ুশক্তিসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়কারী নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, রেল, নদীর পাড়, ওয়াপদা বাঁধ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প নেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ড্রিম রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সভাপতি মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে উপকূলের মানুষ। এসব প্রকল্পের কারণে উপকূলের প্রাণ-প্রকৃতি, আবাস ও জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ইলিশনির্ভর লাখো মানুষের জীবন-জীবিকাও সংকটে পড়েছে। উপকূল ও মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় জীবাশ্ম জ্বালানির প্রকল্প থেকে বেরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের আহ্বান জানান তিনি।
কোস্ট ফাউন্ডেশনের জলবায়ু পরিবর্তন ও সহনশীলতা বিভাগের প্রকল্প প্রধান আবুল হাসান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় অর্থায়ন এখনো নিশ্চিত হয়নি। এ জন্য বছরভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি দূষণকারীকে ব্যয় বহনের নীতি অনুসরণ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ঋণ হিসেবে নয়, অনুদান হিসেবে নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
সেন্টার ফর পার্টিসিপ্যাটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণা ও প্রচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আল ইমরান বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি শুধু জলবায়ু ও পরিবেশের বিষয় নয়, এর সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক সক্ষমতার বিষয়ও জড়িত। নীতি ও অঙ্গীকার থাকলেও সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্যোগ স্পষ্ট নয়। তাই দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে।
এএইচ/এএম




