বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

সিনেমায় ধূমপানের ছড়াছড়ি, ১২ ছবিতে ৭৫১ দৃশ্য: মানস

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৪৯ পিএম

শেয়ার করুন:

সিনেমায় ধূমপানের ছড়াছড়ি, ১২ ছবিতে ৭৫১ দৃশ্য: মানস
ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরের ১২টি সিনেমায় মোট ৭৫১ বার ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)। এর মধ্যে ছয়টি সিনেমায় কৌশলে তামাকপণ্যের ব্র্যান্ডও দেখানো হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন বাস্তবায়নে করণীয়: প্রেক্ষিত নাটক, চলচ্চিত্র, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

সভায় উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, পর্যবেক্ষণ করা সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘রাক্ষস’-এ সবচেয়ে বেশি ১৯২ বার ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য রয়েছে। এছাড়া ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’-তে ১৬৫ বার, ‘মালিক’-এ ৯৮ বার, ‘রকস্টার’-এ ৯৫ বার, ‘বনলতা সেন’-এ ৭১ বার এবং ‘বনলতা এক্সপ্রেস’-এ ৬৪ বার এমন দৃশ্য দেখানো হয়েছে।

মানসের দাবি, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী নাটক, সিনেমা ও ওটিটিতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের দৃশ্য প্রদর্শন ও প্রচারণা নিষিদ্ধ। এরপরও সিনেমায় এসব দৃশ্য এবং তামাকপণ্যের ব্র্যান্ড দেখানো হচ্ছে। সংগঠনটি একে বিদ্যমান আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানসের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। তিনি বলেন, তরুণদের তামাক ব্যবহারে আকৃষ্ট করতে তামাক কোম্পানিগুলো বিভিন্ন বিপণন কৌশল ব্যবহার করছে। সিনেমা, নাটক ও ওয়েব সিরিজে জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের মাধ্যমে ধূমপানকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপনও এর একটি অংশ।

তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের ১২টি সিনেমা পর্যবেক্ষণে ছয়টিতে ব্র্যান্ড প্রচারণা এবং ৭৫১ বার ধূমপান ও তামাক সেবনের দৃশ্য পাওয়া গেছে।’

তরুণদের সুরক্ষায় বিনোদনমাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন অরূপরতন চৌধুরী।

সভায় ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে তামাকের ব্যবহার এবং বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তামাকের প্রচারণা উদ্বেগজনক। এ কারণে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সার্টিফিকেশন বোর্ড, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি দাবি করেন, তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা হলেও তামাকজনিত স্বাস্থ্য ব্যয় প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তাই রাজস্ব আয়ের তুলনায় জনস্বাস্থ্যের ক্ষতিকে গুরুত্ব দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ডিআরইউর সহসভাপতি মাহাদী আজাদ মাসুম বলেন, ‘প্রিন্স’ সিনেমায় ১৬৫ বার ধূমপান ও তামাক ব্যবহারের দৃশ্য দেখানো হয়েছে। এত দৃশ্য থাকার পরও সিনেমাটি কীভাবে ছাড়পত্র পেয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পীদের মাধ্যমে এ ধরনের দৃশ্য দেখানো হলে বিশেষ করে তরুণদের কাছে ধূমপান স্বাভাবিক ও আকর্ষণীয় হিসেবে উপস্থাপিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক নিখিল ভদ্র সিনেমা, নাটকসহ অন্যান্য বিনোদনমাধ্যমে সিগারেট ও ই-সিগারেটের দৃশ্য প্রদর্শন বন্ধে কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। দেশে নিকোটিন পাউচের কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

সভায় বক্তারা নাটক, সিনেমা ও ওটিটিসহ নতুন বিনোদনমাধ্যমের জন্য আলাদা নির্দেশিকা প্রণয়নের পাশাপাশি তামাকপণ্যের আইনবিরোধী প্রচার ও প্রলুব্ধকরণমূলক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে সার্টিফিকেশন কর্তৃপক্ষ, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন তারা।

সভায় মানসের কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা বেগম রিনা, ডেভেলপমেন্ট অ্যাক্টিভিটিস অব সোসাইটির (ডাস) টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর