- সড়ক ভাঙার কারণ না খুঁজেই নতুন প্রকল্প
- পানি নিষ্কাশনে ৩০ কিলোমিটারের বেশি ড্রেন
- সড়কের ঢাল রক্ষায় কংক্রিট ব্লক
- ৪০ কিলোমিটারজুড়ে বৃক্ষরোপণ
- বসানো হবে ৮ হাজার ৩০০ গাইড পোস্ট
- সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির ঝুঁকি নিয়ে সুজনের প্রশ্ন
রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, নাটোর ও সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন জেলা মহাসড়কের বেহাল দশায় ভোগান্তিতে পড়ছেন মানুষ। কোথাও সড়কের পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও ভাঙনে সরু হয়ে গেছে সড়ক, আবার কোথাও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে জমছে পানি। এতে যাত্রী ও পণ্যবাহী যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয়। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ কমাতে এবার রাজশাহী সড়ক জোনের আওতায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার জেলা মহাসড়ক উন্নয়নে ৯৪৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের (সওজ) প্রস্তাবিত এই প্রকল্পে সড়ক প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ, মজবুতকরণ, সড়ক বাঁধ নির্মাণ, উপরিভাগ সংস্কার, কালভার্ট ও ড্রেন নির্মাণ এবং সড়ক নিরাপত্তা অবকাঠামো তৈরির কাজ করা হবে। পুরো অর্থায়ন করবে সরকার। প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘রাজশাহী সড়ক জোনের আওতায় জেলা মহাসড়কসমূহ যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামীকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী সড়ক জোনের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত জেলা মহাসড়কগুলোর মান উন্নয়ন হবে। একই সঙ্গে নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন, উন্নত ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র বলছে, রাজশাহী সড়ক জোনের আওতায় থাকা বিভিন্ন জেলা সড়ক বা সড়কাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যান চলাচল ও পণ্য পরিবহন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় জেলা মহাসড়কগুলোর সুষ্ঠু মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় অংশে প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও মজবুতকরণের মাধ্যমে বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের মান উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ১৯৯ দশমিক ৯১৬ কিলোমিটার জেলা মহাসড়কের উন্নয়ন করা হবে। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ১৯ কিলোমিটার সড়ক বাঁধ নির্মাণ ও প্রশস্ত করা হবে। ফ্লেক্সিবল পেভমেন্টের আওতায় ১৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ, ১২৬ দশমিক ২৩ কিলোমিটার সড়ক মজবুতকরণ, ২৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার সড়ক মজবুতকরণ, ৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ এবং ১২৬ দশমিক ২৩ কিলোমিটার সড়ক দুই পাশে শূন্য দশমিক ৯০ মিটার করে প্রশস্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
সড়কের উপরিভাগ বা সারফেসিংয়ের কাজও হবে বিভিন্ন অংশে। এর মধ্যে ৭ কিলোমিটার সড়কে সাড়ে ৩ মিটার প্রস্থে সারফেসিং, ৪০ দশমিক ৩৯ কিলোমিটার সড়কে সাড়ে ৫ মিটার প্রস্থে সারফেসিং এবং ১০৬ দশমিক ৪৫ কিলোমিটার সড়কে সাড়ে ৫ মিটার প্রস্থে সারফেসিং করা হবে। এ ছাড়া দুটি বাস-বে নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পে সড়ক বাঁধ নির্মাণ ও প্রশস্তকরণে ১৪৫ কোটি ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নতুন ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট নির্মাণে ৩৪ কোটি ৬২ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ৩ দশমিক ৭০ মিটার প্রস্থের সড়ক মজবুতকরণে ১২৪ কোটি ৪৬ লাখ ৩ হাজার টাকা, ৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থের সড়ক মজবুতকরণে ২৬ কোটি ৭২ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ৫ দশমিক ৫০ মিটার প্রস্থের সড়ক পুনর্নির্মাণে ১৩ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। দুই পাশে শূন্য দশমিক ৯০ মিটার করে প্রশস্তকরণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
সারফেসিংয়ের তিন ধরনের কাজে যথাক্রমে ১৩ কোটি ৭৫ লাখ ৮ হাজার টাকা, ৬৩ কোটি ১৮ লাখ ১৯ হাজার টাকা এবং ১২৮ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। দুটি বাস-বে নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭১ লাখ ১০ হাজার টাকা।
সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ও সড়ক কাঠামো টেকসই করার বিষয়েও প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৭ মিটার প্রস্থের ১৬ হাজার ৬০০ মিটার রিজিড পেভমেন্ট নির্মাণে ৯৫ কোটি ১৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। ১৭টি আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণে ২২ কোটি ২৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ৩ হাজার ৬৪২ মিটার কংক্রিট সাইড ড্রেন বা ইটের ড্রেন নির্মাণে ৬ কোটি ৯৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা, ৪ হাজার ২৫৭ দশমিক ৫০ মিটার ক্রস-ড্রেন নির্মাণে ২৪ কোটি ২৪ লাখ ৯৯ হাজার টাকা এবং ২২ হাজার ৩০০ মিটার সসার ড্রেন নির্মাণে ১৫ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৭২টি ইনস্পেকশন পিট নির্মাণে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সড়কের বিভিন্ন অংশের ক্ষয় রোধ ও স্থায়িত্ব বাড়াতে বেশ কিছু রক্ষাপ্রদ কাজও রাখা হয়েছে। জিওটেক্সটাইলসহ কংক্রিট ব্লক প্রটেকশনে ১৬ হাজার ৩৯৩ বর্গমিটার কাজের জন্য ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, আরসিসি প্যালেসাইডিংয়ে ২ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার টাকা, আরসিসি রিটেইনিং ওয়ালে ৪০ কোটি ১৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ঢাল সংরক্ষণে কাস্টিং ব্লক ব্যবহারে ৩৪ কোটি ২২ লাখ ৩৪ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া ৭৪ হাজার ৫০০ বর্গমিটার এলাকায় ঘাস লাগানোর জন্য ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
সড়ক নিরাপত্তার জন্যও আলাদা সংস্থান রয়েছে। ৩৯ হাজার ৬৭২ দশমিক ৫০ বর্গমিটার এলাকায় থার্মোপ্লাস্টিক উপকরণ দিয়ে রোড মার্কিংয়ে ৪ কোটি ২১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং ২৬টি ওভারহেড সাইন সংকেত স্থাপনে ৭৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ১০৭টি ক্যান্টিলিভার সাইন স্থাপনে ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৭৭টি ট্রাফিক সাইনে ৮৮ লাখ ২৭ হাজার টাকা, ১ হাজার ৪৭৭টি সাইন পোস্টে ২১ লাখ ২৭ হাজার টাকা, ৮ হাজার ৩০০টি গাইড পোস্টে ১ কোটি ২৯ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ২০৮টি কিলোমিটার পোস্টে ১৭ লাখ ৩ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। ৬ হাজার ১৫০ মিটার গার্ডরেল স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৫ হাজার টাকা।
প্রকল্পের আওতায় ৬৭০টি সীমানা পিলার স্থাপনের জন্য ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। ইউটিলিটি স্থানান্তরের জন্য থোক হিসেবে ৮ কোটি ২৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং সাধারণ ও সাইট সুবিধার জন্য ৮২ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। ১৯৪ দশমিক ৪৬৪ কিলোমিটার সড়কে নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৩ কোটি ২৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকল্পে ৪০ দশমিক ১০ কিলোমিটার এলাকায় বৃক্ষরোপণের জন্য ৪০ লাখ ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অফিস সরঞ্জাম কেনার জন্য ২০ লাখ টাকা এবং রাজস্ব খাতে পেট্রোল ও লুব্রিক্যান্ট, মনিহারি, প্রচার ও বিজ্ঞাপন, সম্মানী, পরীক্ষাগার পরীক্ষা, মুদ্রণ ও বাঁধাই এবং উদ্বোধনী অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতে মোট ৪৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রকল্পের ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভৌত ও মূল্যজনিত আকস্মিক ব্যয়ের সংস্থানও রাখা হয়েছে।
প্রকল্পটির ভৌগোলিক বিস্তৃতি পাঁচ জেলায়। রাজশাহী জেলার বাগমারা ও মোহনপুর উপজেলায় প্রকল্পের কাজ হবে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলাও রয়েছে প্রকল্প এলাকায়। সিরাজগঞ্জ জেলার সিরাজগঞ্জ সদর, কামারখন্দ, উল্লাপাড়া, শাহজাদপুর, রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও কাজীপুর উপজেলায় সড়ক উন্নয়ন করা হবে। পাবনা জেলার পাবনা সদর, বেড়া, সাঁথিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, আটাইকুলা, সুজানগর ও ঈশ্বরদী এবং নাটোর জেলার নাটোর সদর, সিংড়া, লালপুর, নলডাঙ্গা, বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম ও গুরুদাসপুর উপজেলাও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই ও অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্ট স্বতন্ত্র পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালট্যান্সি লিমিটেডের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে। অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রকল্পের আওতাধীন সড়কগুলোতে বার্ষিক গড় দৈনিক যান চলাচল ২৬ হাজার ৫১৩টি। ভবিষ্যতে যান চলাচল প্রতি বছর গড়ে ১০ শতাংশ হারে বাড়বে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছে।
পিইসি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পে কোনো ভূমি অধিগ্রহণ বা জমি কেনার প্রয়োজন হবে না। প্রস্তাবিত সড়ক রুট বা সাইটে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা স্থাপনা না থাকায় ক্ষতিপূরণের জন্যও কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। নতুন নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও মজবুতকরণের কাজের পরিমাণও সড়কভিত্তিক বাস্তবতা ও সংশ্লিষ্ট মানদণ্ড অনুসারে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ড্রেন নির্মাণ, ক্রস-ড্রেন, সসার ড্রেন ও প্যালেসাইডিংয়ের পরিমাণও সংশোধন করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাটি কাটার পরিমাণ ও ব্যয় কমানো হয়েছে। বৃক্ষরোপণ, সড়ক সংকেত, কিলোমিটার পোস্ট, ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং অন্যান্য প্রকৌশলগত রক্ষণাবেক্ষণের সংস্থানও পুনর্মূল্যায়ন করে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় ৫০ কোটি টাকার বেশি হওয়ায় সরকারি খাতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন নির্দেশিকা অনুযায়ী এটি একনেকের অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনযোগ্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী সড়ক জোনের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৯৯ দশমিক ৯১৬ কিলোমিটার জেলা মহাসড়কের প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ, মেরামত ও মজবুতকরণের মাধ্যমে বিদ্যমান সড়ক নেটওয়ার্কের মান উন্নয়ন হবে। এর ফলে নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ী সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলার সভাপতি আহমদ সফি উদ্দিন ঢাকা মেইলকে বলেন, দেশে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতির ঝুঁকিতে থাকা খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক নির্মাণ ও নদীভাঙন রোধের কাজ। এসব প্রকল্পে কী কাজ হচ্ছে, কী বাজেট দেওয়া হচ্ছে, কী ধরনের শিডিউল রাখা হচ্ছে এবং ঠিকাদাররা সে অনুযায়ী কাজ করছেন কি না, তা যথাযথভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে কি না, সেটি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নাগরিক সমাজকে যুক্ত করে প্রকল্পের কাজ তদারকির সুযোগও তৈরি করা দরকার।
আহমদ সফি উদ্দিন বলেন, একটি সড়ক নির্মাণের এক মাস, দুই মাস বা ছয় মাসের মধ্যেই যদি গর্ত তৈরি হয়, তাহলে এর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অতীতে কোনো ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করে থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থাও থাকা উচিত।
সুজন জেলা সভাপতি বলেন, বাংলাদেশ বৃষ্টিপ্রবণ দেশ হওয়ায় সড়কে পানি জমে থাকা ঠেকানোর ব্যবস্থা শুরু থেকেই নকশায় থাকতে হবে। বিটুমিনের সড়কে বৃষ্টির পানি দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ঢাল ও পাশ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শহরের বাইরে সড়কের দুই পাশে প্রচলিত নয়নজুলি বা পানি নিষ্কাশনের জায়গা রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা দরকার।
এএইচ/জেবি




